মেহের আফরোজ শাওন ও হুমায়ুন আহমেদ

শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৫ | ৯:০২ পূর্বাহ্ণ | 333 বার

মেহের আফরোজ শাওন ও হুমায়ুন আহমেদ

hs-photo1_images_stories_2015_11_thumb_medium680_400

সোনার হাতে সোনার কাকন কে কার অলংকার

বাসভূমি‚ সিডনীতে প্রতিবছর অন্ততঃ একটি করে আলোকিত সন্ধ্যা উপহার দিয়ে আসছে। আকিদুল ইসলাম এই আলোকিত সন্ধ্যার রূপকার। তাঁরা এই আলোকিত প্রায়াসে চিরসংগী তার সহধর্মীনি আবিদা রুচি ও মেয়ে রূপন্তি। তার সাথে একঝাক প্রত্যয়ী আলোকিত তরুন-তরুনী।  এবারে বাসভূমির আয়োজনে অতিথি হিসেবে আসছেন প্রখ্যাত নাট্যশিল্পী, চলচ্চিত্রশিল্পী, সংগীতশিল্পী ও নাট্য পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন। আাগামী ৩রা জানুয়ারী ২০১৬ রোববার সন্ধ্যায় রকডেলের কস্তুরী (প্রাক্তন বনফুল) রেষ্টুরেন্টের এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টারে শাওন স্মৃতিতচারণে গাইবেন‚ সাথে থাকবে তাঁদের ভালবাসার ফসল- নিষাদ ও নিনিত। বাসভুমি সবসময়ই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যা উপহার দিয়ে থাকে। এবারের আয়োজন আরও ব্যতিক্রম হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

humayun_shaon_poster_images_stories_2015_11_thumb_medium680_400

 ছেলেবেলায় সতীনাথ মুখোপাধ্যায় এর কন্ঠে কলের গানে প্রথম যখন গানটি শুনি তখন তার অর্থ বুঝিনি‚ কিন্তু আজঅব্দি সুরটি কানে লেগে আছে। জীবনের মতো মহাকালের নদী বিরামহীন। তাতে চলেছে মানুষের কাফেলা। সে কাফেলার সংগী হয়ে চলছি তুমি‚ আমি- সবাই। জীবনের পথ পরিক্রমায় বিধাতা জীবনকে কতগুলো স্তরে বিন্যস্ত করেছেন। শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য, যৌবন, প্রবৃদ্ধ ও বৃদ্ধকাল। এর প্রতিটি স্তরই ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা, চেতনা, চাহিদা, ভাললাগা ও ভালবাসায় আবর্তিত হয়। একটি শিশু জন্মের পর মাতৃস্তনই তার কাছে একমাত্র আরাধ্য। কৈশোরে মায়ের আঁচল, বাবার স্নেহের পাশাপাশি বন্ধুদের সান্নিধ্য তাকে ভীষণ ভাবে টানে। তারুণ্যে সে নতুন-নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু করে। দেখা- অদেখা বন্ধুর জন্য ভালবাসার অঙ্কুরোদগম হয়। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে একটি ছেলের মধ্যে তার কাংখিত মেয়ে ও মেয়ের মধ্যে তার আরাধ্য ছেলের জন্য ভালবাসা তৈরী হয়। দয়িতাকে কাছে পাওয়ার জন্য, তাকে সুন্দর করে সাজানোর জন্য, ভালোবাসায় তার জীবন পূর্ণ করে দেওয়ার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়। এই ভালবাসা মানুষের তৈরী কানুন মানেনা। মানেনা কোন ধর্ম, বর্ণ, জাত, গোত্র কিংবা বয়স। তাইতো প্রবৃদ্ধ দেবরাজ ইন্দ্র‚ নন্দন কানণে দুগ্ধ সরোবরে স্নানরতা নাতনী বয়সী উর্বসীর প্রেমে ভেসে যায়। রাক্ষসকন্যা‚ সূর্পণখা ভালবাসে দেবজ্যোতি লক্ষনকে। বারো বছরের রূপবান কন্যা ভালবাসে বারো দিনের শিশু রহিম বাদশা’কে।
মেহের আফরোজ শাওন ও হুমায়ুন আহমেদের প্রেম সে রকমই এক প্রেম। যে প্রেম মানুষের তৈরী কলাকানুন, ধর্মীয় বিধিনিষেধ, সামাজিক প্রতিরোধ আর মধ্যবিত্তের সংরক্ষণশীল চেতনাকে জয় করতে সক্ষম হয়েছে। লায়লি-মজনু, শিরি-ফরহাদ, রোমিও-জুলিয়েট, গ’হর বাদশাহ- বানেছা পরীব পরীর মতোই এক বাঁধভাঙা প্রেমের উপাখ্যান শাওন-হুমায়ুন। এ এক নিয়মভাঙা শাশ্বত প্রেম।
“আশ্চর্য অনুভব
অঙ্গে হাসে সুখময় যন্ত্রনায় আবর্ত বলয়‚
প্রার্থিতের দেহমনে উৎসর্গের আছে অপেক্ষায়।
আশার পতংগগুলো তাঁকে ঘিড়ে নাচে অনুক্ষন‚
আবীর রাঙানো মন চোখ মেলে দেখে সারাক্ষণ।
প্রতিক্ষীত নয়নে প্রথম যেদিন ঢেউ উঠেছিল‚
আঁখির সাগরে ইচ্ছের তারকারা হোলি খেলেছিল।
সংস্কারের যুক্তি জালে যায়না বাঁধা হৃদয় প্লাবন,
কি হবে! কি হবেনা সব যুক্তি একদিন হয়ে যায় ম্লান।
বহুরূপে এই মন নিত্য করে বিচিত্র বিলাস,
ভালবাসা কারাগারে তাঁর সাথে নিত্য সহবাস।
ভ্রমরেরা ফুলে ফুলে পরাগের করে সংমিশ্রণ,
অন্তরে বসে যে দেবী তার কোন নাই বিসর্জন।
স্মৃতি বোনা কথামালা ক্ষনে করে তোলে নয়ন সজল,
প্রিয়হীন রাত শেষে‚ প্রতিদিন তবু আসে বাদামী সকাল।”

সংস্কারপন্থী, মধ্যবিত্ত জীবনবোধ আর প্রচলিত জীবন পথের পথিকেরা হয়ত একমত হবেননা। নানা যুক্তি জালে তাঁরা একটি পবিত্র‚ অপার্থিব সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইবেন। এটি তাদের দোষ নয়, প্রচলিত জীবনবোধের ফসল। একপেশে বিশ্লেষন। নিজের ভেতর থেকে বেড়িয়ে এসে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখুন- কোন ভালবাসার সম্পর্ককে আবেগ আর যুক্তি দিয়ে কলুষিত করা যায়না।

মেহের আফরোজ শাওন ১৯৮১ সালের ১২ই অক্টোবর বাংলাদেশের একটি ধনাঢ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মা ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সম্মানিত জাতীয় সংসদ সদস্য আর বাবা ছিলেন একজন স্বনামধন্য স্থপতি ও শিল্পপতি। একজন মেধাবী ছাত্রী হিসাবে ঢাকার সবচে’ নামকরা বিদ্যাপীঠ ভিখারুন্নেছা নুন স্কুলে পড়াশুনা করেছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি সংস্কৃতি প্রিয় ছিলেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৯১ সালে নতুন কুড়ি অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। মেধার স্বীকৃতি স্বরূপ একই বছর তিনি স্বনামধন্য চিত্র-পরিচালক আলাউদ্দিন আহমেদ এর ডকুমেন্টারী “ওয়াটার পাম্প” এ অভিনয় এর জন্য নির্বাচিত হন। এর পর তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পড়াশুনায়ও তিনি সমান ভাবে এগিয়ে যান। বাবার পদাংক অনুসরণ করে তিনি আর্কিটেক্ট হিসেবে তার ক্যারিয়ারে আরেকটি মাত্রা যোগ করেন। তার জীবনে সবচে’ যে ঘটনাটি তার জীবন বদলে দেয় তা হল উপমহাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, চিত্র নির্মাতা ও পরিচালক এবং শতাব্দীর সবচে’ জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদের সাথে পরিচয় ও ১৯৯৯ সালে তার “আজ রবিবার” ধারাবাহিক নাটকে কুশীলব হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ লাভ। তাঁর সান্নিধ্যে এসে তিনি এই বোহেমিয়ান, সংসার বিরাগী- নিবেদিতপ্রান লেখকের ভেতরের মানুষটিকে খুজে পান। তাঁর কষ্টগুলো তাকেও ব্যথিত করে। তার না বলা অভিমান তিনি বুঝতে পারেন। হুমায়ুন আহমেদ নামের মুখোশ পরা এই মানুষটির মধ্যে প্রকৃত হুমায়ুন আহমেদকে আবিস্কার করতে সক্ষম হন। একটি প্রচন্ড ভালবাসা, সহমর্মিতা আর নির্ভরশীলতা তাঁকে হুমায়ুন আহমেদের অনেক কাছে নিয়ে আসে। ভাললাগা থেকে ভালবাসা, প্রেম ও পরিণয়ের মাধ্যমে তার জীবনে একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়। আমি আগেই বলেছি যে ভালবাসার সম্পর্ক কোনদিন যুক্তি নির্ভর নয়। হতে পারেনা। অনেকেই হয়ত বাস্তবতার নিরিখে হুমায়ুন আহমেদের ব্যক্তি জীবন নিয়ে বিতর্ক করতে চাইবেন। আমি সে বিতর্কে যাবোনা। কারণ হৃদয়ের আবেগ কোন যুক্তি মানেনা। বেলীফুল দিয়ে প্রখ্যাত অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীও অভিনেত্রী সুবর্না মোস্তফাকে আত্মার সঙ্গী করে নিয়েছিলেন। একটা প্রচন্ড ভালবাসা আর কমিটমেন্ট থাকা স্বত্ত্বেও ক’-বছর পরে সেই সুবর্না মোস্তফা, হুমায়ুন ফরিদীকে ত্যাগ করে বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুন এক কুশীলবকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। এটি একটি উদাহরণ মাত্র। এরকম হাজার হাজার উদাহরণ আছে। এই জটিল মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। সেই বিচারে স্বশিক্ষায় সুশিক্ষিত, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ও স্বনামধন্য একজন অভিনয়শিল্পীকে আবেগতারিত হয়ে আসামীর কাঠগড়ায় দাড় করানে কতটা যুক্তিসঙ্গত ভেবে দেখবেন। আমার ব্যক্তিগত অভিমত এর বিপরীত। মেহের আফরোজ শাওনের মত এক ব্যক্তিত্ব, হুমায়ুন আহমেদের মত এক বিশাল ব্যক্তিত্বের আড়ালে ম্লান হয়ে গিয়েছিল। এটাই হয়। একটি ছোট্ট উদাহরণ দিচ্ছি- একদিন ইনাম ভাই (ড. ইনামুল হক), লাকী ভাবী (লাকি ইনাম) তাদের মেয়ে হৃদি ও আমি গেলাম শান্তিনগর রাজমনি- ঈশাখাঁ শপিং কমপ্লেক্সে টুকিটাকি কিছু কেনা কাটা করার জন্য। গাড়ী পার্ক করে আমরা সবাই বেড়ুনোর কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যেই চারিদিক থেকে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর বেশ কিছু তরুন-তরুনী, যুবক-যুবতী আমাদের ঘিরে ধরল। অবাক হলাম না। এটা সব সময়ই হয়। বিশেষ করে কোন সেলিব্রিটি যদি পাবলিকলি দেখা দেয়। কিন্তু অবাক হলাম তখনই যখন সবাই পকেট থেকে টুকরা কাগজ, ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ডায়েরী, সিগারেটের খোসা, আর কিছু না থাকলে খোলা হাত এগিয়ে দিল অটোগ্রাফের জন্য। না‚ ড. ইনামুল হকের দিকে নয়, লাকী ইনাম এর দিকে। ইনাম ভাই, আমি ও হৃদি কিছুটা দূরে গিয়ে ব্যাপারটা উপভোগ করতে লাগলাম। ঐ সময় ইনাম ভাই এর মুখাবয়বে যে ছাপটি আমি দেখেছি তা হল এক ধরনের কষ্ট মিশ্রিত বিড়ম্বনার ছাপ। যথানিয়মে আড়চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। এক ধরনের অসহায়ের হাসি। মুখে কিছু বললেন না। এটাই বোধ হয় স্বাভাবিক। অতিপ্রিয় মানুষের ভীড়ে প্রিয় মানুষটি তুচ্ছ হয়ে যায়। ঠিক সেটাই হয়েছে শাওনের বেলায়। বড় ব্যক্তিত্বের হুমায়ুন আহমেদের বিশাল ছায়া তাঁকে যতটা না পরিচিতি দিয়েছে তার বেশী করেছে ম্লান। অথচ শাওন হুমায়ুন আহমেদের বিবাহিত স্ত্রীর চেয়েও বেশি ছিল তার মনস্তাত্ত্বিক বন্ধু। তাঁর দুর্দিনে, সুদিনে, আপদে, বিপদে, সংকটে-সংগ্রামে তার হার্দিক ও ঐকান্তিক সাহায্য তাঁকে প্রিয়তার উচ্চ শিখরে উঠতে সাহায্য করেছে। কবি নজরুল ইসলাম বোধ করি যথার্থই বলেছিলেন-
“ এ পৃথিবীতে যা কিছু মহান‚ চিরকল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।”

যাই হোক, ১৯৯৯ সালে “আজ রবিবার” দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সে যাত্রা থেমে থাকেনি। ঐ বছরই হুমায়ুন আহমেদের “শ্রাবন মেঘের দিন” টেলিফিল্মে কুসুম এর ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শক-শ্রোতার মন জয় করে নিয়েছেন। ২০০১ সালে “দুই দুয়ারীর” তরু, ২০০৩ সালে “চন্দ্রলেখা’র” চন্দ্র, ২০০৪ সালে “শ্যামল ছায়া”র আশালতা ও ২০০৮ সালে “আমার আছে জল” টেলিছবির নিশাদ চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে আসেন। পরবর্তীতে তিনি একজন সফল নাট্য পরিচালক হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি ২০০৯ সালে “নয়া রিক্সা”, ২০১১ সালে হুমায়ুন আহমেদের “স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ”, চৌধুরী কামরুজ্জামানের “অসময়ে” ও হুমায়ুন আহমেদের “বিভ্রম” নাটকের ছায়াচিত্র তৈরীতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এতো গেল ছায়ানট ও ছায়াচিত্রের কথা। একজন সংগীত শিল্পী ও প্লেব্যাক সিংগার হিসেবে তার আরেকটি পরিচিতি আছে। বিভিন্ন নাটক, অনুষ্ঠান ও টিভি শো-তে তিনি সংগীত পরিবেশন করে সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০১১ সালে “পিতা” ছায়াচিত্রের গানে কন্ঠ দেয়ার তিন বছর পর আইটেম গানে কন্ঠ দিয়েছেন শাওন। সংগীত পরিচালক ছিলেন বেলাল খান। এ গানটি সম্পর্কে শাওন বলেছেন-

“তিন বছর পরে চলচ্চিত্রের গানে কন্ঠ দিলাম। গানটি গাওয়ার পর থেকে আবারও গানে নিয়মিত হওয়ার তাগিদ অনুববন কলাম। ভাবছি গান নিয়ে নতুন চিন্তা-ভাবনা শুরু করব। স্বপ্নলোকের ছবির গানটির কথা ও সুর চমৎকার। আমি সাধারনতঃ যে ধরনের গান করে থাকি, তা থেকে এটি পুরোপুরি আলাদা। শুরুতে যখন গানটি গাওয়ার প্রস্তাব পাই, কিছুটা অস্বস্তি বোধ করেছিলাম। পরে ভাবলাম, এটা তো গান। চটুল ধরনের এই গানটি দর্শক শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলে আশা করছি।”

সংগীত এর পাশাপাশি শাওন‚ হুমায়ুন আহমেদের “জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প” উপন্যাস অবলম্বনে একটি ধারাবাহিক নাটক নির্দেশনা দেয়ার ব্যাপারেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। পারিবারিক জীবনে শাওন একদিকে যেমন হুমায়ুন আহমেদের সার্থক জীবনসংগী ছিলেন তেমনি নিষাদ হুমায়ুন ও নিনিত হুমায়ুনের সার্থক মা।

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে “ভালো জিনিস ক্ষণস্থায়ী হয়।” হুমায়ুন আহমেদ নিজের জীবন দিয়ে এ চরম সত্যটি আবারও প্রমাণ করে গেলেন। মরণ ব্যাধি ক্যান্সার এ আক্রান্ত হয়ে তিনি ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই আমেরিকার  একটি হাসপাতালে চিকিৎশাধীন অবস্থায় সবাইকে চির বিদায় জানিয়ে চলে গেলেন। একটি বিশাল নক্ষত্রের হঠাৎ পতন হল। একটি মহাকাব্য অসমাপ্ত রয়ে গেল। শাওন এর সাথে সাথে লক্ষ লক্ষ হুমায়ুন ভক্তের কান্নায় এ পৃথিবীর আকাশ বাতাস সেদিন ভারী হয়ে গিয়েছিল।

মেহের আফরোজ শাওন তার প্রয়াত স্বামীর স্মৃতি রক্ষার্থে একটি ক্যানসার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং এজন্য সমাজের সবার কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই মহতী উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালীরাও এ ব্যাপারে মুক্তহস্ত নিয়ে এগিয়ে আসবেন এবং শাওনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাহায্য করবেন এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। হুমায়ুন বেঁচে থাকবেন আমাদের মননে-স্মরণে। পরিশেষে রবি ঠাকুরের যে দুটি লাইন আমার ভীষণ প্রিয় তা দিয়েই শেষ করছি।
“তোমার কীর্ত্তির চেয়ে তুমি যে মহৎ
তাই তব জীবনের রথ‚
পশ্চাতে ফেলিয়া যায় কীর্ত্তিরে তোমার- বারম্বার”

(সূত্রঃ তৃতীয় মাত্রা‚ প্রিয়টক¸ প্রিয়∙কম‚ দ্য ডেইলি ষ্টার‚ প্রথম আলো)

Comments

comments

নভেম্বর ২০১৭
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। নবধারা নিউজ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Development by: webnewsdesign.com