২০০ টাকায় ২০ লক্ষ টাকা !!! শিলা বেগম আত্মবিশ্বাসী এক নারী।

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৪ | ১:৫০ পূর্বাহ্ণ | 606 বার

২০০ টাকায় ২০ লক্ষ টাকা !!! শিলা বেগম আত্মবিশ্বাসী এক নারী।

২০০ টাকায় ২০ লক্ষ টাকা !!! শিলা বেগম আত্মবিশ্বাসী এক নারী। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ফিকে হয়ে যাওয়া জীবনের স্বপ্নকে রঙিন করে তুলেছেন। ৮ বছর আগে মাত্র ২০০ টাকা নিয়ে শুরু করেছিলেন পাইপ আইসক্রিমের ব্যবসা। সামান্য এ পুঁজিকে অবলম্বন করে মেধা আর শ্রম দিয়ে আজ নিজেকে পরিণত করেছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তায়। নরসিংদী সদর উপজেলার ঘোরাদিয়ে গ্রামে নিজবাড়িতে গড়ে তুলেছেন আইসক্রিম কারখানা। নিত্য অভাবের সংসারে জ্বালিয়েছেন সুখের আলো। ২০০ টাকাকে পরিণত করেছেন ২০ লাখ টাকার সম্পদে। নিজের ভগ্যের চাকা সচল করার পাশাপাশি ৩০ জন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

মুঠোফোনে কথা হয় শিলার সঙ্গে। তিনি জানান, কিশোরী মনের সব আবেগকে চাপা দিয়ে ১৬ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল তাকে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বাবার আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বই-খাতা ছেড়ে হাতে তুলে নিতে হয়েছিল স্বামীর সংসারের দায়িত্ব। কিন্তু স্বামীর সংসারেও অভাব শিলার পিছু ছাড়েনি। স্বামীর একার উপার্জনে সংসারে ‘নুন আনন্তে পান্তা ফুরানোর অবস্থা’। এরই মাঝে স্বামী খুরশেদ দুর্ঘনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বামীর চিকিৎসা ও সংসার চালাতে গিয়ে শিলা বেগম এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। এদিকে তার কোলজুড়ে আসে নতুন এক অথিতি। বেড়ে যায় সংসারের খরচ। শিলার জীবনে নেমে আসে আরও দুর্ভোগ। বাড়তি আয়ের আশায় তিনি ২০০ টাকা পুঁজি নিয়ে পাইপ আইসক্রিম বানানো শুরু করেন। নিজের বানানো পাইপ আইসক্রিমের সঙ্গে বাজার থেকে কিনে আনা আইসক্রিম বাসাতেই বিক্রি শুরু করেন। দিন শেষে লাভের পরিমাণ নেহাৎ মন্দ থাকে না। এভাবে কেটে যায় আরও একটি বছর। আইসক্রিমের ব্যবসার লাভ শিলার মনে নতুন স্বপ্ন জাগিয়ে তোলে। এক বছরের মাথায় তিনি ভাবতে শুরু করেন নিজেই আইসক্রিম তৈরির কারখানা দেবেন। তার এ স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুঁজি। এ অবস্থায় প্রতিবেশীর পরামর্শে ২০০৭ সালে শিলা ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ক্ষুদ্র ঋণ বিভাগের ঘোরাদিয়ে সবুজ মহিলা উন্নয় সমিতির সদস্য হন। এ মিশন থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নিজবাড়িতেই ছোট পরিসরে আইসক্রিম তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে আইক্রিম উৎপাদন ও বিপণনের কাজ শুরু করেন। লাভের টাকায় ওই ঋণ শোধ করে পরের বছর দ্বিগুণ ঋণ নিয়ে ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করেন। এভাবে প্রতি বছরই ঋণ শোধ করে নতুন ঋণ নিয়ে একটু একটু করে বাড়াতে থাকেন ব্যবসার পরিসর। চলতি বছর আড়াই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কিনেছেন আইক্রিম বানানোর একটি নতুন মেশিন। এ নিয়ে তাদের আইসক্রিম বানানোর মেশিনের সংখ্যা দাঁড়ায় দুটিতে। আইসক্রিম বিক্রির জন্য কিনেছেন চারটি ভ্যানগাড়ি। আইক্রিম বানানো ও বিক্রির কাজে কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত ৩০ জনের। শিলার আইসক্রিম কারখানায় এখন চকবার, কুলফি, অরেঞ্জসহ ৮ থেকে ১০ ধরনের আইসক্রিম উৎপাদন হয়। গড়ে প্রতিদিন উৎপাদন করা হয় ১০ হাজারের মতো আইসক্রিম।

Comments

comments

অক্টোবর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« মার্চ    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। নবধারা নিউজ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Development by: webnewsdesign.com