দুই রাষ্ট্রের কাছে নায্য বিচারের দাবি আবিরনের বাবার

শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১ | ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ | 14 বার

দুই রাষ্ট্রের কাছে নায্য বিচারের দাবি আবিরনের বাবার

গত পাঁচ বছরে বিদেশে কর্মরত প্রায় ৫০০ নারীর মরদেহ দেশে এসেছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জনেরই লাশ এসেছে সৌদি আরব থেকে। কিন্তু এসব ঘটনায় দায়ীদের কখনই শাস্তির আাওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে সৌদি আরবে প্রথমবারের মত গৃহকর্মী আবিরন হত্যার বিচার শুরু হয়। সৌদি আরবে বাংলাদেশী কোনো গৃহকর্মীর হত্যার বিচারের এমন উদাহরণ বিরল।

অভিবাসী ডটকম আবিরনকে কেস স্টাডি ধরে অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছে যে, কোন আর্থ- সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে আবিরনের মতো অক্ষরজ্ঞানহীন একজন নারী বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে কীভাবে একজন নারী নিজের জীবনকে বাজি রাখে।

কোন কৌশলে একজন দালাল আবিরনের মতো সাধারণ নারীদের ফাঁদে ফেলে এবং এর পরিণামে একটি পরিবারকে কতোটা খেসারত দিতে হয়। আর কীভাবেই বা নায্য বিচারের আশায় ভূক্তভোগীর পরিবার হয়রানির শিকার হয়। মূলত, বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে লাশ হয়ে দেশে আসা পর্যন্ত আবিরন যেসব ঘটনা ও পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, সেসবের অধিকাংশই জড়িয়ে আছে বিদেশে কর্মরত ও লাশ হয়ে দেশে ফিরে আসা হাজারো নারীর সঙ্গে।

আবিরনের জীবনলিপি
পরিবারে ছেলে সন্তানের অনুপস্থিতি আবিরনকে জানিয়ে দিয়েছিল বৃদ্ধ বাবা মা আর ছয় বোনের অস্বচ্ছল সংসারের ভরণপোষণের দায় তার উপর। খুব ছোট থেকেই সে বইয়ের বদলে হাতে তুলে নিয়েছিলেন কোদাল, লাঙ্গল আর কাস্তে। বাবার সঙ্গে যেতেন মাঠে, ক্ষেতে ফসল বোনা থেকে শুরু করে ঘর গৃহস্থালির যাবতীয় কাজ সামলাতেন এক হাতে।

আবিরন হাতের কাজেও ছিলেন নিখুঁত। বাহারি হাত পাখা আর নকশি কাঁথা বুননের দক্ষতায় বেশ নাম করেছিলেন গ্রামে। সেখান থেকে যে সামান্য অর্থ আসতো তা দিয়ে ছোট বোনদের আবদার মেটাতেন। তাদের লেখাপড়ায়ও উৎসাহ যোগাতেন আবিরন; স্বপ্ন দেখতেন তার বোনেরা পড়াশুনা শেষ করে চাকরি করবে, স্বনির্ভর হবে।

নববঁধূ আবিরন
সমাজের চিরায়িত প্রথায় নববঁধূর সাজে লাল শাড়ি জড়িয়ে আবিরনকেও একদিন চলে যেতে হয় শ্বশুর বাড়ি। আর দশটা মেয়ের মতো সংগ্রামী আবিরনের মনের কোনে ঘর বাধার রঙ্গীন স্বপ্ন উকি দিয়েছিল।

কিন্তু অল্প ক’দিনের মধ্যে সে স্বপ্ন ফিঁকে হতে শুরু করে। ডাক্তার সাফ জানিয়ে দেয়, জরায়ু টিউমারে আক্রান্ত আবিরন কখনো মা হতে পারবেন না। আবিরনের সংগ্রামী জীবনের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয় নির্যাতনের অধ্যায়। শ্বশুরবাড়ির ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, লাঞ্চনা ও ভর্ৎসনায় একদিন তাকে বাধ্য হয়ে ইতি টানতে হয় দাম্পত্য জীবনের।

সোনলি পাড়ের লাল রংয়ের এই শাড়ি পরে আবিরন স্বপ্ন দেখেছিলেন রঙ্গীন জীবনের, কিন্তু সে জীবন ফিঁকে হয়েছে বহু আগেই।
বটবৃক্ষ বাবা মায়ের সংসারে ফিরলেন আবিরন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেন এতদিনে তার জীবনের অংকটা বদলে গেছে।

হাস্যোজ্জ্বল, সংগ্রামী, দায়িত্বশীল আবিরনের নামের পাশে ততক্ষণে যুক্ত হয়েছে সমাজের আরোপিত – বন্ধ্যা, স্বামী পরিত্যাক্তা, ডিভোর্সি নামক কিছু বিশেষণ। সমাজের বাঁকা চোখ তাকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। আবিরন অনুধাবন করে যে, পরিবারে বটবৃক্ষ হয়ে উঠতে হলে তাকে খুঁজে নিতে হবে অন্য কোন নিশ্চিত উপায়।

এরকম পরিস্থিতিতে আবির্ভাব ঘটে রবিউল মোড়ল নামের এক স্থানীয় দালালের। আবিরনের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, এই রবিউলই প্রতিনিয়ত আবিরনকে সৌদি আরব যাওয়ার প্রলোভন দেখায়। রবিউল আবিরনের কাছে কথার ফুলজুড়ি হাজির করে-বলে সৌদি আরব গেলে প্রতিমাসে বাবা-মার কাছে অনেক টাকা পাঠাতে পারবে, তাদের চিকিৎসা করাতে পারবে।

এমনকি তার ছোট বোন রেশমা যে সবেমাত্র স্নাতক সম্পন্ন করেছে তার চাকরির জন্যও নাকি মোটা অংকের টাকার ব্যবস্থা করতে পারবে। শুরুতে আবিরন রাজি হয় না, পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরাও বাঁধা দেয়। কিন্তু মাসের পর মাস রবিউল বিভিন্নভাবে আবিরনকে প্রভাবিত করতে থাকে। শেষমেষ আবিরন রবিউল দালালের প্রলোভনে আশ্বস্ত হয় এবং কাউকে না জানিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়।

সৌদি আরব যাত্রা
আবিরনের এমন সিদ্ধান্তে আপত্তি জানায় তার পরিবার। তার বোন রেশমা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা আবিরনকে সতর্ক করতে থাকে। একদিকে পরিবারের আপত্তি অন্য দিকে রবিউল দালালের প্রলোভন-বিপরীতমুখী এ পরিস্থিতি আবিরনকে বিভ্রম আর দোটানায় ফেলে দেয়।

এরপর ২০১৭ সালের শুরুর দিকে আবিরনের বোন রেশমা তার পড়াশুনার উদ্দেশে খুলনা চলে যায়। এই রেশমাই তাকে রবিউলের ফাঁদে না পড়ার আকুতি জানিয়েছিল বারবার। যে কারণে তার অবর্তমানের সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেনি রবিউল। রবিউল আবিরনের পরিবারের অজান্তে আবিরনকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট ভিসার ব্যবস্থা করে দেয়।

রিক্রুটিং এজেন্সি ফাতেমা এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস এবং এম এস এয়ার ওয়ে ইন্টারন্যাশনাল এর মাধ্যমে তাকে সৌদি আরব নেওয়ার প্রস্তুতি চলতে থাকে। রেশমা ভিসার কাগজপত্র দেখে জানতে পারে, চাকরির কোনো ধরনের চুক্তিপত্র তো নেইই, উল্টো মাত্র তিন মাসের ভ্রমণ ভিসায় তাকে সৌদি পাঠানো হবে। পরিবারের সদস্যরা এবার আবিরনকে প্রবলভাবে বাধা দিতে থাকে।

কিন্তু রবিউল পিছু ছাড়ে না আবিরনের। সঙ্গে যুক্ত হয় ঢাকার আরেক দালাল নিপুল চন্দ্র (বিএমটির চাকরিচ্যুত কর্মচারি)। তারা আবারো প্রলোভন দেখাতে থাকে, এমনকি রবিউল তার প্রবাসী স্ত্রী-সন্তানের উন্নত জীবনযাপনের ভিডিও চিত্র দেখিয়ে আবিরনকে আশ্বস্ত করতে থাকে। শেষপর্যন্ত পরিবারের জন্য নিজের জীবনকে বাজি ধরেন আবিরন।

অবশেষে ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই বাসা থেকে পালিয়ে রবিউলের সহযোগিতায় পুনরায় ঢাকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আবিরন। পথিমধ্যে বোন রেশমা আবারো আবিরনকে ফোন করে সতর্ক করেন, বিদেশ না যাওয়ার অনুরোধ করেন। এমনকি রেশমা আবিরনকে এও বলেছিলেন, ‘আপা টাকা গেছে যাক, জীবনের রিস্ক নেওয়ার দরকার নেই, তুই জীবন নিয়ে বেচে থাক, ফিরে আয়।’ রেশমার কথা রাখেনি আবিরন। সৌদি আরবগামী বিমানে উঠে পড়েন তিনি ।

কালো অধ্যায়
বড় বোনের বিদেশ যাওয়ার এমন ঘটনায় শুরু থেকেই স্বস্তিতে ছিলেন না রেশমা। নিজেদের বাড়ির উঠানে বসে অভিবাসী ডটকমকে তিনি বলছিলেন, ‘আপারে নিয়ে আমার খুব চিন্তা হচ্ছিল, সে তো পড়ালেখা জানে না, ও ওই দেশে গিয়ে কী করবে!’ দিন যায় রেশমার অস্বস্তি বাড়তে থাকে। আবিরন চলে যাওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি তার পরিবার। রবিউল দালালকে বারবার অনুরোধ করেও লাভ হয়নি। পনেরো দিনের মাথায় রেশমার কাছে আবিরনের ফোনকল আসে।

‘আমি খুব যন্ত্রণার মধ্যি রইছি, আমি কিন্তু বাঁচবো না, তোরা আমার ফিরায় নিয়ে যা। তোদের কথা শুনিনি, দালালের ফাঁদে পড়ি আমি ভুল করি ফেলিছি’-কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবিরন বোনকে জানান। ‘আপার এই কথা শোনার পর আমার মাথা ঘুরে যায়, কি করব? কার কাছে যাব? কোনো দিশা পাচ্ছিলাম না – বলছিলেন রেশমা।

আবিরনের পরিবার তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য রবিউল দালালকে অনুরোধ করতে থাকে। আবিরনের বৃদ্ধ মা রবিউলের পা জড়িয়ে ধরে কাকুতি মিনতি করলেও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি সে। রেশমা বলেন, ‘রবিউল উল্টো আমাদের হুমকি দিত যে, আমার ছোট বোনদের ক্ষতি করবে, তার নামে মামলা করলে আপাতো মরবে, আর তার লাশও দেশে ফেরত আসবে না।’

এমনকি আবিরনের পাঠানো সব টাকা রবিউল জালিয়াতি করে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করতো বলেও সরাসরি অভিযোগ রেশমার।

এরপর পাঁচ ছয় মাস কেটে যায়, পরিবারের সঙ্গে আবিরনের কোনো যোগাযোগ নেই। অনেক চেষ্টার পর বেশকিছুদিন বাদে আবিরনকে একবার ফোনে পায় তার পরিবার। আবিরন নাকি তখন বলেছিলেন, ‘আমার মাথা ধরে গ্রিলের সঙ্গে ধাক্কা দেয় ওরা, চাবুক দিয়ে পিটায়, বেত দিয়ে মারে, আমি এখানে থাকলে বাঁচবো না, আমারে তোরা বের করে নিয়ে যা।’

দিন যায়, আবিরনের উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এরপর থেকে আবিরনের সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ হয়নি তার পরিবারের। একদিন অবশ্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে তারা জানতে পারে, তাদের বুকের ধন আবিরন আর বেঁচে নেই। ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ তাকে হত্যা করা হয়েছে!

লাশের অপেক্ষায়
আবিরনের মৃত্যুর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তার পরিবার লাশ আনার কোন ব্যবস্থা করতে পারেনি। এরপর তারা বেসরকারি সংস্থা ব্রাকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ব্রাকের অভিবাসন কর্মসূচির সহায়তায় ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে লাশ আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সৌদি থেকে একটি লাশ এসেছে এমন খবরে বিমান বন্দরে ছুটে যায় রেশমা ও তার স্বামী।

কফিনের উপর লাশের নাম, ঠিকানার অমিল থাকায় লাশটি তার বোনের কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কফিন খুলে দেখতে চায় রেশমা। অনেক চেষ্টার পর লাশ দেখার অনুমতি পান তিনি।

মর্গের অন্ধকার ঘরের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয় রেশমাকে। রেশমার ভাষায় এরপর তিনি যেসব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তা ছিল ভয়ঙ্কর। কফিনের ঢাকনা খুলে দেখেন এক নারীর মৃতদেহ, যার শরীরের পুরো ত্বক কুঁচকুঁচে কালো হয়ে গেছে। চেহারার অবয়বে চেনার উপায় নেই সে তার বোন কিনা। তার বোনের সঙ্গে মিলে যায় এমন কোন শনাক্তকরণ চিহ্নও সে খুঁজে পায় না।

খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অনেকক্ষণ দেখার পর রেশমা নিশ্চিত হন এটি তার বোনের লাশ নয়। পরে জানা যায় রেশমার কথাই ঠিক, কর্তৃপক্ষ খোঁজ নিয়ে তাকে জানায়, কার্গোতে উঠানোর সময় আবিরনের কফিনের বদলে আরেকটি কফিন চলে এসেছিল।

লাশের জন্য অপেক্ষা আবারো দীর্ঘতর হয়। ২৪ অক্টোবর, ২০২০ তারিখে আরেকটি লাশ আসে বিমান বন্দরে। রেশমা আবারো একইভাবে কফিন খোলে। কিন্তু এবার রেশমার আত্মচিৎকারে ভারি হয়ে ওঠে চারপাশ।

একি বিভৎস! এটি যে কোনো মানুষের শরীর দেখে বোঝার উপায় ছিল না। পুরো শরীর যেন পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেশমা বলছিলেন ‘নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি প্রাণপণে চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম, তারপর দাত দেখে চিনতে পারছিলাম এটা আমার আপা।’ মূলত সাত মাস ধরে সৌদি আরবের মর্গে পড়ে ছিল আবিরনের নিথর দেহ।

মামলা- আদালত- বিচার
পরিবারের ভরসার খুঁটিটি বাবার কাঁধে লাশ হয়ে ফিরে এলেন বাড়িতে, শায়িত হলেন চিরনিদ্রায়। মা নিসারুন খাতুনের কাছে এখন আবিরন মানে এক বুক আহাজারি। ‘রবিউল আমার কলিজায় লাথি মারলো, এই বৃদ্ধ বয়সে আমাদের কে দেখবে, আমার বেঁচে থাকার ভরসাটুকু ও কেড়ে নিল, ওদের বিচার আল্লায় করবে।’ অসহায় মায়ের আহাজারিতে কেবলই বিচার পাওয়ার আকুতি।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে গিয়ে অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হয় আবিরনের পরিবারকে। রেশমা জানান, প্রথম দিকে স্থানীয় থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা নিতে বারবার অস্বীকৃতি জানায়। পরে মানবাধিকার কমিশনের সহায়তায় মামলা দায়ের করা হয়।

লাশ যেদিন আসে ওই দিন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে। কমিশনের অবৈতনিক সদস্য নমিতা হালদারকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি ২৫ নভেম্বর খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রামনগর গ্রামে আবিরনের বাবা আনছার সরদারের বাড়ি সরেজমিন পরিদর্শন করে, এজেন্সি, মন্ত্রণালয়, দূতাবাসসহ সবার সঙ্গে কথা বলে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেন|

কমিশনের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবিরনকে হত্যার ঘটনায় দালাল রবিউলকে প্রধান আসামি করে ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয় । মামলাটি বর্তমানে খুলনার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় এবং অভিযুক্ত নির্যাতনকারীদের আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে মানবাধিকার কমিশন।

এরপর আবিরনের পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে বিচার শুরু হয়।সৌদি আরবে আবিরন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির কাউকে জামিন দেয়নি আদালত। আদালত এ ব্যাপারে আসামিদের লিখিত জবাব দিতে বলেছে। গত ৬ জানুয়ারি এই মামলার সর্বশেষ শুনানি ছিল।

আবিরনের বোন রেশমা বলেন, ‘সরকারের প্রতি আমার পরিবারের সম্পূর্ণ আস্থা আছে। সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে এই প্রথম আমার আপার এই মামলার মাধ্যমে সৌদিআরবে গৃহকর্মীর হত্যার ঘটনা বিচার কাজ শুরু হয়েছে। এই মামলার বিষয়ে যারা প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে আপোস নাকি আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি কোনটা চান, অভিবাসী ডটকম এর এমন প্রশ্নে পরিবারে পক্ষ থেকে তিনি বলেন, ‘মামলা চালানোর সক্ষমতা আমাদের নেই, সরকার আমাদের জন্য যেটা ভালো মনে করবে আমরা সেটাই মেনে নেব। তবে যাদের জন্য আমার বোনকে হারিয়েছি তারা যেন কঠিন শাস্তি পায়। আমি বিশ্বাস করি সরকার আমাদের ন্যায়বিচার পেতে সহযোগিতা করবে।’

সূর্যের আলো হেলে পড়েছে, আবিরনদের বাড়ির উঠানে আঁধার নামতে শুরু করেছে। সেই উঠানের এক কোণে বিছিয়ে রাখা শুকনো পাতার ঝোপের উপর দুর্বল শরীরটাকে ছড়িয়ে দিয়ে সন্তান হারানো শোকে মুহ্যমান বাবা আনসার সরদার বিড়বিড় করে আওড়ান, ‘আমার আর কি বলার আছে, দুই রাষ্ট্রের কাছে শুধু আমার দাবি আমি যেন নায্য বিচারটা পাই।’
চলবে…

Comments

comments

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮

২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। নবধারা নিউজ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Development by: webnewsdesign.com