প্রাণঘাতী ভাইরাসে ঝুঁকিতে বাংলাদেশও!

বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০ | ৭:৫৯ অপরাহ্ণ | 52 বার

প্রাণঘাতী ভাইরাসে ঝুঁকিতে বাংলাদেশও!

সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বিষেশজ্ঞরা বলছেন, জীবন্ত পশুর অনিরাপদ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি; হাঁচি, সর্দি-কাশি, ঠান্ডায় ভুগছে এমন কারো ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে না যাওয়াই শ্রেয়। প্রয়োজনে মুখে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।

একে একে থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পরার পর চীনের রহস্যময় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কে রয়েছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে, ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এখনো পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

চীনা নববর্ষের আগে দিয়ে সেদেশের পাশাপাশি পুরো বিশ্ব রয়েছে আতঙ্কে। এদিকে এক ভারতে একজন আক্রান্ত হবার পর যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, চীন থেকে সিয়াটলে আসা এক মার্কিন অধিবাসীকে এ ভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি ৩০ বছর বয়সী এক পুরুষ। গত ১৫ জানুয়ারি তিনি চীনের উহান থেকে সিয়াটলে ফেরেন।

আইইডিসিআর অর্থাৎ বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, বাংলাদেশে এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। চীন থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া যারা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা যেমন জ্বর, কাশি, গলাবাথ্যা এসব নিয়ে আসছেন তাদেরকেও স্ক্যান করা হচ্ছে।

আইইডিসিআর বলছে, কারো শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ দেখা গেলে তারা অবশ্যই নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখবেন। এবং এ ব্যাপারে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন। এজন্য তারা চারটি হটলাইন চালু করেছেন। করোনাভাইরাসের আলামত পাওয়া গেলে ০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫ এই চারটি নাম্বারের যেকোনো একটিতে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

চীন থেকে আসা সরাসরি ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে জানিয়েছে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ঢাকা-চীন-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, চায়না ইস্টার্ন ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের ছয়টি ফ্লাইট যাওয়া-আসা করে। এর মধ্যে চীন থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরে ওরিয়েনটেশন প্রোগ্রাম করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তাসহ বিমানবন্দর–সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা অংশ নেন।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ উল আহসান জানান, যাত্রীদের পরীক্ষা–নিরীক্ষা করানোসহ এসএআরএস ভাইরাস প্রতিরোধে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, চীন থেকে আসা তিনটি সরাসরি ফ্লাইটের যাত্রীদের ফিজিক্যাল স্ক্রিনিং করানো হবে। বিমানবন্দরে স্থাপিত থার্মাল স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে আসার সংকেত দিলে ওই যাত্রীকে পরীক্ষা করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সাধারণত কারও শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলেও থার্মাল স্ক্যানার সংকেত দেয়। এরপর ওই যাত্রীকে বিমানবন্দরে কোয়ারেনটাইন রুমে রেখে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হবে। শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী তাঁকে (যাত্রী) কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ছাড়া যাত্রীরা চীনের কোন শহর থেকে এসেছেন, কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, অবস্থানের সময়সহ বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে চীনে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাকে এসব পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ট্রানজিট হয়ে চট্টগ্রামে আসা চীনের যাত্রীদের শরীর স্ক্রিনিং করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার-ই জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চীনের করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সতর্কতামূলক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রামের সঙ্গে চীনের সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই। তবে বিভিন্ন বিমানবন্দর ট্রানজিট হয়ে চীন থেকে যদি কোনো যাত্রী চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আসেন তবে তাদের শরীরের প্রয়োজনীয় ভাইরাস স্ক্রিনিং করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক মেডি‌ক‌্যাল টিম কাজ করছে। চীন থেকে আসা কোন যাত্রী যদি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে আসেন তবে বিষয়টি যেন সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও মেডি‌ক‌্যাল টিমকে অবহিত করা হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চীনের সঙ্গে সিলেটের সরাসরি রুট না থাকা সত্ত্বেও অন্যভাবে এ ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকায় আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক রয়েছে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগ। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, চীনের সঙ্গে সিলেটের সরাসরি ফ্লাইট নেই। সেখান থেকে কেউ এলে ঢাকা হয়ে আসতে হয়।

ভাইরাস এলার্মিংয়ের কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নুরে আলম শামীম জানান, বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক একটি টিম কাজ করে। তবে ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় আরো সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সিরাজাম মুনির বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগ পরিদর্শন করে এসেছেন বলে জানান তিনি।

সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বিষেশজ্ঞরা বলছেন, জীবন্ত পশুর অনিরাপদ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি; হাঁচি, সর্দি-কাশি, ঠান্ডায় ভুগছে এমন কারো ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে না যাওয়াই শ্রেয়। প্রয়োজনে মুখে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।

Comments

comments

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। নবধারা নিউজ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Development by: webnewsdesign.com