নাইম আবদুল্লাহ: আগামীকাল ৬ অগাস্ট থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা ৫মিনিটে আর টিভি’তে প্রচার শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায় নির্মিত দীর্ঘ ধারাবাহিক আর ট্রাভেলস। এ উপলক্ষে গত ৪ অগাস্ট (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় সিডনিস্থ রকডেল বনফুল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ফাংশন সেন্টারের হল রুমে অনাড়ম্বর সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাসভূমি’র ব্যানারে নির্মিত আর ট্রাভেলস’র ওয়ালর্ড প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়। এই সাংবাদিক […]

নাইম আবদুল্লাহ: আগামীকাল ৬ অগাস্ট থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা ৫মিনিটে আর টিভি’তে প্রচার শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায় নির্মিত দীর্ঘ ধারাবাহিক আর ট্রাভেলস। এ উপলক্ষে গত ৪ অগাস্ট (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় সিডনিস্থ রকডেল বনফুল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ফাংশন সেন্টারের হল রুমে অনাড়ম্বর সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাসভূমি’র ব্যানারে নির্মিত আর ট্রাভেলস’র ওয়ালর্ড প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়।

এই সাংবাদিক সম্মেলন ও বিশেষ প্রিমিয়ার শোতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর টিভি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন তাঁর সহধর্মিনী ইউএনডিপির একসেস ফর ইনফরমেশন এ কর্মরত ও এনটিভির সংবাদ পাঠিকা তানজিনা শারমিন।

এছাড়াও বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ,সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, টিভি,অনলাইন পোর্টাল, পত্রিকার সম্পাদক, লেখক ও সাংবাদিকগণ এবং বাসভূমি’র আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ায় এই প্রথম কোন অনুষ্ঠান অনাড়ম্বর সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তার অনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো।

সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুভসূচনা করা হয়। প্রথমেই আর ট্র্যাভেলস এর পরিচালক আকিদুল ইসলাম মঞ্চে বাসভূমি পরিবারের সদস্যদের সাথে অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন, সজিব আহমেদ চৌধুরী, জাফর মোল্লা, রাকেশ মন্ডল, প্রভাত হাসান, সুলতানুল আরেফিন এবং আর ট্রাভেলস’র উপস্থাপিকা সামান্তা ও রূপান্তি।

বাসভূমি’র কর্ণধার আকিদুল ইসলাম তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, আগামী ৬ অগাস্ট থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় আর টিভি’তে প্রচার শুরু হচ্ছে। দেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে মূলধারার কোন অনুষ্ঠান সাধারনত সন্ধ্যা ছয়টায় প্রচারিত হয় না। তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, আর ট্রাভেলসকে আমরা গুনগত মানসম্পন্ন করে এমনভাবে তৈরি করবো যে ভবিষ্যতে আর টিভি ই অনুষ্ঠানটি রাত নয়তার পরে প্রচারে আগ্রহ দেখাবে। তিনি উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে দৃঢ়তার সাথে বলেন, সিডনির নেতৃত্ব আপনাদের হাতে আর খুব বেশীদিন থাকবে না, এই নেতৃত্ব চলে যাবে সাংবাদিকদের হাতে। এই সময় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ তার এই বক্তব্যকে তুমুল করতালি দিয়ে স্বাগত জানায়।
এরপর দীর্ঘ ধারাবাহিক আর ট্রাভেলস’র ৬টি পর্ব থেকে ২৫ মিনিটের অংশবিশেষ উপস্থিত দর্শক ও সাংবাদিক জন্য প্রদর্শন করা হয়। এই বিশেষ অংশে আদিবাসীদের জীবন ও দর্শন, সি-ওয়ার্ল্ড, হাইড পার্ক, ক্যানবেরার টাকশাল, ওয়াইল্ড লাইফ সহ সিডনির দর্শনীয় জায়গাগুলোর উপর দিয়ে হেলিকপ্টারযোগে ধারনকৃত চিত্র দেখানো হয়।
তারপর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সৈয়দ আশিক রহমানের উপর কয়েকমিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ দেখানো হয়। নৃত্যশিল্পী অর্পিতা সোমের একটি জনপ্রিয় নাচ দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আশিক রহমান বলেন, আমি একজন অতি সাধারণ সংবাদ কর্মী এবং সংবাদ মাধ্যম নিয়ে কাজ করছি। মিডিয়া আমার ভাললাগার জায়গা বলে আমি দীর্ঘদিন মিডিয়ার সঙ্গে আছি এবং বাকী জীবনটা মিডিয়ার সঙ্গে থাকতে চাই। তিনি উপস্থিত সবাইকে অনুরোধ করে বলেন, আমদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি অন্যদের কাছে ঈর্ষনীয়। তাই আপনারা আপনাদের পরবর্তী বংশধরদের কথা চিন্তা করবেন তারা যেন কোনভাবেই অস্ট্রেলিয়ান বা ব্রিটিশ না হয়ে আমাদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক চর্চায় বেড়ে ওঠে। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের এই ছেলেমেয়েদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে। তিনি অনুষ্ঠানের সবাইকে আর ট্র্যাভেলস দেখার পর গঠনমূলক পরামর্শ ও মতামত পাঠানোর অনুরোধ জানান।

দ্বিতীয় পর্বে বিশেষ প্রিমিয়ার শো’র পর শুরু হয় সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও উত্তর পর্ব। প্রশ্ন পর্বে অংশগ্রহণ করেন এসবিএস রেডিও’র বাংলা বিভাগের প্রধান রেজা আরেফিন, বিদেশবাংলা২৪ ডট কম ও এবিসি বাংলা ডট নেট এর সম্পাদক এম. এ. মতিন, সুপ্রভাত সিডনি’র প্রধান প্রতিবেদক ফজলে রাব্বি, লেখক,সাহিত্যিক ও দেশ বিদেশ পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক নাইম আবদুল্লাহ নবধারা নিউজ ডট নেটের সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ খোকন, বেতার বাংলার আজাদ হারুনুর রশিদ,এনটিভি’র সিডনি প্রতিনিধি সায়মন সরোয়ার, ভোরের কাগজের সিডনি প্রতিনিধি কাজী সুলতানা সিমি, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হ্যাপি রহমান। সাংবাদিকদের বিভিন্ন গঠনমূলক প্রশ্নের উত্তর দেন সৈয়দ আশিক রহমান ও আকিদুল ইসলাম।
এক প্রশ্নের জবাবে আকিদুল ইসলাম বলেন, আর ট্রাভেলস এ উঠে এসেছে ৫০ হাজার বছরের অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীদের কথা। ২৫০ বছর আগেও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ ছিল যাদের নিজস্ব ভুমি।
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ান টাকশালে কয়েন তৈরি হয়। আর ট্রাভেলস এর ক্যামেরা ঐ টাকশালে সারাদিন ঘুরে খুব কাছে থেকে কয়েন তৈরী করা দেখেছে। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য ধারন করেছে এক অতি বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। এই টাকশালেই কখনো কখনো তৈরী হয় বাংলাদেশী কয়েন। আর অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের নামটি অস্ট্রেলিয়ার টাকশালের দেয়ালে লেখা আছে আলোকিত অক্ষরে।
সারা বিশ্বে ওয়াইন সিটি” হিসাবে খ্যাত অস্ট্রেলিয়ার মনোমুগ্ধকর হান্টারভ্যালী বোটানিক্যাল গার্ডেনে আর ট্রাভেলস এর ক্যামেরা চিত্রায়ন করেছে অনেক নাজানা তত্ব।
অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রতিটি পর্বেই অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলির পাশাপাশি ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে এই ভ্রমণ চিত্রের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সিডনিসহ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এই দীর্ঘ ধারাবাহিকটির চিত্রায়ন করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এর চিত্রায়ন করা হবে। বহির্বিশ্বে চিত্রায়নের অংশ হিসেবে আর ট্রাভেল টিম আগামী সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ড যাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে নিউজিল্যান্ড, ফিজি, থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া সহ অন্যান্য দেশে অনুষ্ঠানটির দৃশ্যধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই দীর্ঘ ধারাবাহিকটি মূলত অস্ট্রেলিয়ার সমসাময়িক ও ঐতিহাসিক তথ্য ও উপাত্তসমুহের চিত্রায়িত রূপ।পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী সত্তর হাজারেরও বেশী প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিত্যদিনের জীবন- সংগ্রাম, হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ ও সাফল্য অর্জনের ইতিহাস অতি যত্ন সহকারে তুলে ধরা হয়েছে।
এই ধারাবাহিক ভ্রমণ চিত্রের উপস্থাপনায় রয়েছেন, শামান্তা ইসলাম এবং রুপন্তি। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন প্রভাত হাসান ও সুলতানুল আরেফিন। তাদের সঙ্গে থাকছেন এক ঝাঁক মেধাবী তরুণ তরুণী।
গত একযুগ ধরে অস্ট্রেলিয়া কেন্দ্রিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বাসভূমি’ ধারাবাহিক নাটক, টেলিফিল্ম, খণ্ড নাটক ও প্রামাণ্য চিত্র সহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান নির্মাণ করছে। প্রবাসে প্রথম কোন বাংলা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এই ধরনের একটি দীর্ঘ ধারাবাহিক নির্মাণ ও পরিচালনা শুরু করছে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ান/বাংলাদেশী/বিনোদন সংবাদ
