অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে মিল পার্কে বাসকারী বাড়ির মালিক মিস্টার সিঙ্গারাভেলুকে গলায় ও কাঁধে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোমেনা সোমার ৪২ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। গত বুধবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অ্যান লেসলি টেইলর এই কারাদণ্ডের আদেশ দেন। বিচারপতি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় সোমার আগমনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল একটি সন্ত্রাসী হামলা চালানো। ২৪ বছর বয়সী সোমা সাড়ে […]
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে মিল পার্কে বাসকারী বাড়ির মালিক মিস্টার সিঙ্গারাভেলুকে গলায় ও কাঁধে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোমেনা সোমার ৪২ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। গত বুধবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অ্যান লেসলি টেইলর এই কারাদণ্ডের আদেশ দেন। বিচারপতি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় সোমার আগমনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল একটি সন্ত্রাসী হামলা চালানো।
২৪ বছর বয়সী সোমা সাড়ে ৩১ বছর কারাবাসের আগে প্যারোলের আবেদনও করতে পারবেন না। ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যান সোমা আর এর ৯ দিনের মাথায় তিনি মেলবোর্নে রজার সিংগারাভেলু নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি (২৫ সেন্টিমিটার ছুরি) নিয়ে হামলা চালান। হামলার পরপরই সোমাকে গ্রেফতার করে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ইসলামীক জঙ্গি সংগঠন আইএস কর্তৃক অনুপ্রাণিত হয়ে মোমেনা ওই সন্ত্রাসী হামলা করেন এবং তার শিকার হওয়া বেছে নেন ঐ লোকটিকে। ভিক্টোরিয়া রাজ্যের আইন কারাবিধি অনুযায়ী, সোমাকে কমপক্ষে ৩১ বছর ছয় মাস কারাগারে থাকতে হবে।
তুরস্কের লা ট্রোব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে তিনি ভর্তিও হয়েছিলেন। কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় সে যাত্রায় তার আর তুরস্ক যাওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য যে, পুলিশ ঢাকার মিরপুরে মোমেনার ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা করে তাঁরই ছোট বোন আসমাউল হোসনা। পরে পুলিশ হোসনাকে গ্রেফতার করে। আর তার গ্রেফতারের মধ্য দিয়েই উঠে আসে অনেক তথ্য।
আসমাউল হোসনা জানিয়েছিলেন, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে সিরিয়ায় গিয়ে ফিরে আসা গাজী কামরুস সালাম এবং সিরিয়ার গিয়ে নিরুদ্দেশ হওয়া মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নজিবুল্লাহ আনসারীর সঙ্গেও মোমেনা সোমার যোগাযোগ ছিল। মোমেনা আক্রমণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি নাইট ভিশন গগলস কেনেন এবং বালিশের উপরে ছুরি মেরে এর আগে অনুশীলনও করেন।
২০১৮ সালে আগস্টে মোমেনার বিচার শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মোমেনার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। তার বাবা একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ করেন। দুই বোনের মধ্যে মোমেনা বড়। ঢাকার মাস্টার মাইন্ড স্কুল থেকে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেবেল শেষ করে মোমেনা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা শেষ করেন।