নাইম আবদুল্লাহ : “ইনভেস্টমেন্ট,রেমিটেন্স আ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ব্রান্ডিং অব বাংলাদেশ” শীর্ষক স্লোগান নিয়ে গত ৩০শে আগস্ট (রোববার) অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যিক রাজধানী সিডনির রকডেলস্থ রেডরোজ ফাংশন সেন্টারের গ্রান্ড হলরুমে ‘সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশী’স'(এনআরবি)এর আন্তর্জাতিক সম্মেলন সিরিজ ২০১৫ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠানের শুভ সূচনার পর পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত […]

নাইম আবদুল্লাহ : “ইনভেস্টমেন্ট,রেমিটেন্স আ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ব্রান্ডিং অব বাংলাদেশ” শীর্ষক স্লোগান নিয়ে গত ৩০শে আগস্ট (রোববার) অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যিক রাজধানী সিডনির রকডেলস্থ রেডরোজ ফাংশন সেন্টারের গ্রান্ড হলরুমে ‘সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশী’স'(এনআরবি)এর আন্তর্জাতিক সম্মেলন সিরিজ ২০১৫ অনুষ্ঠিত হয়।
সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠানের শুভ সূচনার পর পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করা হয়। এনআরবি এর চেয়ারম্যান এম এস শাকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শুরুতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেরিত বাণী পাঠ করা হয়। তারপর ধারাবাহিকভাবে কমনওয়েলথ প্রধান ইংল্যান্ডের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদেশ মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, আমেরিকার স্টেট সেক্রেটারী নিশা দেশাই বিশ্বাস, আরব বাংলাদেশ ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল ইসলামের বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার কাজী ইমতিয়াজ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অস্ট্রেলিয়া ফেডারেল পারলামেন্ট এমপি, সাবেক ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ও বর্তমান শ্যাডো ফাইন্যান্স মিনিস্টার টনি বার্ক, ডাইভারসিটি ক্যানটারবারী সিটি কাউন্সিলের মেয়র রোবার্ট ব্রায়ান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ওবায়েদুর রহমান।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের সাবলিল উপস্থাপনায় ছিলেন রাবাবা হান্নান এবং ২য় পর্বের উপস্থাপনায় ছিলেন এনআরবি’র চেয়ারম্যান এম এস শাকিল চৌধুরী। এনআরবি এর চেয়ারম্যান এম এস শাকিল চৌধুরী তার স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০১৫ নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি অভিমত প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সু-ব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্ব মন্দার হাত থেকে আমাদের দেশটিকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এপ্রসঙ্গে তিনি এককোটি প্রবাসী বাংলাদেশীর কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার প্রেরণের ভূমিকার কথাও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে আরও বলেন, আমাদের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রবাসীদের সহায়তার কোন বিকল্প নেই। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বের ৩০তম বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে দেখতে চাই। আর এই অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন ছাড়া পৃথিবীর বুকে নিজেদের সবুজ পতাকার মর্যাদা বাড়ানোর আর অন্য কোন পথ নেই। আমাদের সফলতার যত গল্প আছে, এগুলো আমাদেরকেই প্রচার করতে হবে বিদেশীদের কাছে। দেশের মান বিশ্বের দরবারে বাড়ানোর এটা একটা কার্যকরী উপায় হিসেবে তিনি মত প্রকাশ করেন।
শাকিল চৌধুরী নিউইয়র্ক, লন্ডন এবং মালেশিয়ায় ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ ২০১৫ পর্ব সফলভাবে সম্পাদনের পর অস্ট্রেলিয়ার সম্মেলনকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য মোঃ ওবায়দুল হক, খায়রুল ইসলাম, মোঃ রাশেদুল হক, আল নোমান শামীম, এনামুল হক, রূপালী ইসলাম, বাঁধন ও ওয়াহিদুর রহমানের নাম তিনি অতিথিদেরকে অবগত করেন। এছাড়াও আগামী ৮ সেপ্টেম্বর কুয়েতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানের জন্য আগ্রহী অতিথিদের আমন্ত্রণ জানান।
সম্মেলনে জাতিসংঘ ঘোষিত বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশের স্বীকৃতির বিষয় তুলে ধরে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে উন্নত মধ্য আয়ের দেশ, ২০৩১ সালের মধ্যে উন্নতশীল দেশ,বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও ভবিষ্যৎ জন-জীবনের পরিকল্পনার উপর(২০১০ -২০৩০) একটি মডেল পর্দায় প্রদর্শন করা হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বাংলাদেশের উন্নয়নের যাবতীয় তথ্য সম্বলিত স্লাইড প্রদর্শনের মাধ্যমে উপস্থিত অতিথিদের সামনে তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পেশ করেন। এই পর্যায়ে তিনি প্রবাসীদের হুন্ডির পথ থেকে সরে এসে ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের সনির্বদ্ধ অনুরোধ জানিয়ে দুইদিনের মধ্যে দেশে টাকা পৌঁছার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। আর ২ দিনের মধ্যে টাকা না প্রাপকের কাছে না পৌঁছলে সরাসরি হট লাইনের মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগের করার জন্য তিনি প্রবাসীদের অনুরোধ জানান।
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ওবায়েদুর রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসী ও তাঁদের প্রেরিত অর্থের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অস্ট্রেলিয়া ফেডারেল পার্লামেন্ট এমপি, সাবেক ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ও বর্তমান শ্যাডো ফাইন্যান্স মিনিস্টার টনি বার্ক তার ব্ক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য আয়োজিত সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশী’স আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০১৫ এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকেও প্রবাসী বাংলাদেশীরা যে তাঁদের দেশের কথা চিন্তা করে রেমিটেন্স প্রেরণ করছে এটা জেনে তিনি তাঁদের জন্য গর্ববোধ করেন। এছাড়াও বক্তাদের ইংরেজিতে বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি উপস্থিত অধিকাংশ বাংলাদেশী অতিথিদের উদ্দেশ্যে বাংলায় তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপনের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি তার আইরিশ ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, নিজের ভাষায় যেভাবে ভাব প্রকাশ করা যায় অন্য ভাষায় তা কোনভাবেই সম্ভব নয়। নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ তার উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এসময় এনআরবি’র চেয়ারম্যান এম এস শাকিল চৌধুরীর অনুরোধে উপস্থিত অতিথিরা সবাই উঠে দাঁড়িয়ে টনি বার্কের দেশপ্রেমের আদর্শকে সম্মান প্রদর্শন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার কাজী ইমতিয়াজ হোসেন প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে, তা উপস্থিত অতিথিদেরকে অবহিত করেন।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, ডাইভারসিটি ক্যানটারবারী সিটি কাউন্সিলের মেয়র রোবার্ট ব্রায়ান,ডাইভারসিটি ক্যানটারবারী সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র এবং কাউন্সিলর কার্ল সালেহ, নিউ সাউথ ওয়েলস স্টেটের লাকেম্বা আসন থেকে প্রথম বাংলাদেশী সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ব্যবসায়ী জিল্লুর রশীদ ভূঁইয়া,বঙ্গবন্ধু কাউন্সিলের সভাপতি শেখ শামীমুল হক,ল্যাকেম্বার প্রথম বাংলাদেশীদের দ্বারা পরিচালিত চাইল্ড কেয়ারের স্বত্বাধিকারী ও ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম, সমাজ সেবক রাশেদুল হক, ডঃ আবদুর রাজ্জাক, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ নাজমুল হুদা বাবু, ডঃ নিজাম ইউ আহমেদ, প্রবাসী কলামিস্ট অজয় দাশ গুপ্ত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু কাইউম খান, ব্যাংকার মোঃ ওবায়দুল হক।
এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংবাদ ও গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে অন্যতম দেশবিদেশ পত্রিকার সম্পাদক বদরুল আলম, বাংলা সিডনি’র সম্পাদক আনিসুর রহমান, বিদেশবাংলা ২৪ ডট কম ও
এবিসি বাংলা ডট নেট এর সম্পাদক মোহাম্মেদ আবদুল মতিন, নবধারা নিউজ ডট নেটের সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ খোকন, সুপ্রভাত সিডনির চীফ রিপোর্টার ফজলে রাব্বি, বেতার বাংলার আজাদ হারুনুর রশিদ, সিডনিবাসী বাংলার সম্পাদক আবদুল মতিন, ভোরের কাগজ ডট কমের সিডনি প্রতিনিধি কাজী সুলতানা সিমি, সাংবাদিক হ্যাপি রহমান, যমুনা টিভি’র অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি হাসান তারিক প্রমুখ।
এছাড়াও বাংলাদেশ কমিউনিটির বিশিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণ উপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ বক্তা হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে নৈশ ভোজের জন্য আহবান জানান মাসিক মুক্তমঞ্চের সম্পাদক আল নোমান শামীম। নৈশ ভোজের পর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়।
“ইনভেস্টমেন্ট,রেমিটেন্স আ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ব্রান্ডিং অব বাংলাদেশ” আন্তর্জাতিক সম্মেলনের এর অতিথিগণ
ছবি: আসমার ফাহাদ






