বিখ্যাত শিল্পী কে, জি মুস্তাফা সিডনিতে বেড়াতে এসে মেয়ের কাছে অবস্থান করছেন। পদ্মা পাড়ের ছেলে কাজী গোলাম মুস্তফা ১৯৪৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মাদারীপুরের শেকপুর গ্রামে এক রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৫৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে তিনি ভর্তি হন তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটসে (বর্তমানে চারুকলা ইনস্টিটিউট) এবং ১৯৬৪ সেখান থেকে […]
বিখ্যাত শিল্পী কে, জি মুস্তাফা সিডনিতে বেড়াতে এসে মেয়ের কাছে অবস্থান করছেন।
পদ্মা পাড়ের ছেলে কাজী গোলাম মুস্তফা ১৯৪৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মাদারীপুরের শেকপুর গ্রামে এক রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৫৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে তিনি ভর্তি হন তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটসে (বর্তমানে চারুকলা ইনস্টিটিউট) এবং ১৯৬৪ সেখান থেকে লেখাপড়া শেষ করে বের হন। এই ছেলেটিই পরবর্তী সময়ে একজন গুণী শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
তিনি দীর্ঘদিন তৎকালীন পাকিস্তান সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে চাকরি করেন। কে জি মুস্তফা বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য।
কে জি মুস্তফা নব্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুদ্রার ডিজাইন করেন। তিনি বলেন, প্রথমে ১ টাকা, ৫ টাকা এবং ১০০ টাকার ডিজাইন করি। তারপর প্রতিটি টাকার আবার দু’টো করে ডিজাইন করতে হয়েছিল। শুধু ১০০ টাকার একটি ডিজাইন করা হয়েছিল। ডিজাইনগুলো করতে আমার প্রায় ২ মাস সময় লাগে। তিনি আরও জানান, এছাড়াও আমি ১,২, ৫, ১০,২৫ এবং ৫০ পয়সার ডিজাইনসহ সর্বমোট ৭টি কারেন্সি নোট এবং ৬টি কয়েন এর ডিজাইন করেছিলাম। এছাড়াও বাংলাদেশ ডাকবিভাগের অসংখ্য পোস্টকার্ড, খাম, অ্যারোগ্রাম ও ডাকটিকিটের ডিজাইন করে দিয়েছেন কে জি মুস্তাফা। তার নিজের করা ঢাকা বিষয়ক ডাকটিকিটের মূল পরিকল্পক বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি।
পরবর্তী সময়ে সিপাহি বিদ্রোহ, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে, বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, পাটের শিকা ও কার্পেট, গ্রামীণ নারী কলম্বো পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা বর্ষ, অলিম্পিক গেমস, ফিফা বিশ্বকাপ, এশিয়ান গেমস প্রভৃতি বিষয়ের ওপর ডাকটিকিটে তিনি ডিজাইন করেছেন। মহান স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকী, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী, কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের স্মরণে, বিশ্ব ডাক সংস্থার শতবর্ষ উদযাপন, ডাক জীবন বীমা শতবার্ষিকী, ডাকটিকিট প্রকাশের ১৫০তম বার্ষিকী সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে তিনি ডাকটিকেটের নকশা করেছেন।
সেই সাথে তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলা, লালন শাহ ও কবি কায়কোবাদের ওপর অনেক ডাকটিকিটের ডিজাইন করে দিয়েছেন। শহীদ নূর হোসেনের বুকে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক‘ লেখা যে ডাকটিকিটটি বেরিয়েছিল, সেটির ডিজাইন করে তৎকালীন সময়ে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন এই গুণী শিল্পী। ১৯৯১ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী সিরিজ ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়, সেগুলোর মধ্যে দশটির ডিজাইন করেছেন তিনি। তিনি অসংখ্য ব্যাংক, বীমা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রাম, চেক বই, ভাউচার, প্রাইজবন্ড, শেয়ার সার্টিফিকেট, সঞ্চয়পত্রের সার্টিফিকেটসহ অনেক কাজের ডিজাইন করেছেন। পাশাপাশি তিনি অনেক ছবিও এঁকেছেন।
শিল্পী কে জি মুস্তফা এখনোও নিরবে কাজ করে চলেছেন। সদালাপি এই শিল্পী নবধারা নিউজকে অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এখনো পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো বড় ধরনের পুরস্কার বা স্বীকৃতি পাননি। এই নিয়ে তার কিছুটা দু:খবোধ থাকলেও তিনি মোটেও হতাশ নন। নিরবে কাজ করতেই ভালোবাসেন এই শিল্পী। ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী এবং দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে কে জি মুস্তফা’র সুখের সংসার। ছেলেমেয়েরা সবাই কম বেশি বাবার প্রতিভায় আলোকিত এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
কে জি মুস্তফা আগামী মাসে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।