নাইম আবদুল্লাহ: গতকাল ৯ অগাস্ট (রবিবার) সিডনির ম্যাকুরিফিল্ডের ম্যাকারথার অ্যাডভেনটিস কলেজ অডিটোরিয়ামে ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলুমনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার (DUAAA) বাৎসরিক সাধারণ সভা ও পুনর্মিলণী ২০১৫ অনুষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটির কিছু কর্মোদ্যোগী প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সিডনিতে ডুআ সংগঠনটি গড়ে তোলে। গতকাল তারা ষষ্ঠ পুনর্মিলণী উৎযাপন করে। এই দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরজন্য ছিল এক অনন্য অসাধারন […]
নাইম আবদুল্লাহ: গতকাল ৯ অগাস্ট (রবিবার) সিডনির ম্যাকুরিফিল্ডের ম্যাকারথার অ্যাডভেনটিস কলেজ অডিটোরিয়ামে ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলুমনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার (DUAAA) বাৎসরিক সাধারণ সভা ও পুনর্মিলণী ২০১৫ অনুষ্ঠিত হয়।
২০১০ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটির কিছু কর্মোদ্যোগী প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সিডনিতে ডুআ সংগঠনটি গড়ে তোলে। গতকাল তারা ষষ্ঠ পুনর্মিলণী উৎযাপন করে।
এই দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরজন্য ছিল এক অনন্য অসাধারন দিন। তারা ফিরে যায় ফেলে আসা তারুন্যে উচ্ছল ঝলমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলোতে। তাইতো সেদিন শত ব্যস্ততার মাঝেও সিডনী, ক্যানবেরা, মেলবর্ন থেকে প্রানের টানে ছুটে আসে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
এই অনুষ্ঠানে সন্মানিত প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলুমনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি রকিবউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডঃ এফ এম মোখলেসুর রহমান। অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্বে বার্ষিক সাধারণ সভা দুপুর সাড়ে বারটায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব মোস্তফা আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে শুরু হয়।তারপর সাধারণ সম্পাদক আনিস মজুমদার বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করেন। তিনি প্রতিবেদনে গত এক বৎসরে ডুআ এর কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এই সময় তিনি নব নির্বাচিত নির্বাহী পরিষদকে পরিচয় করিয়ে দেন।
এরপর দ্বিতীয় পর্বে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় সেলিমা বেগম ও সালেহ’র সাবলীল উপস্থাপনায়। শিক্ষাজীবনের স্মৃতি চারণ পর্বে প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীরা বিভিন্ন বিষয়ের উপর স্মৃতি চারন করতে গিয়ে আবগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কারও কারও চোখের কোনে জমে ওঠে বিষাদের অশ্রু ফোঁটা আবার কেউ কেউ হাসির বন্যায় উদ্বেলিত হয়ে পড়েন। মনের মণিকোঠায় আগলে রাখা দামি সোনালী সেইসব দিনের কথা বলতে যেয়ে তাদের চোখমূখ উদ্ভাসিত হয়ে উঠে কী এক অচেনা আলোয়। সভাপতির সমাপনি ভাষনে জনাব মোস্তফা অনুষ্ঠান সফল করে তোলার জন্য যারা শ্রম দিয়েছেন তাদেরকে অভিনন্দন জানান এবং নতুন কমিটি নির্বাচন করায় সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানান।
স্মৃতি চারনের পাশাপাশি চলতে থাকে মধ্যাহ্ন ভোজ পর্ব। অনুষ্ঠান জুড়ে চলতে থাকে স্মৃতিরোমন্থনের পালা। সবাই মেতে উঠে সহপাঠীদের সাথে আড্ডা আর খুনসুটিতে। জীবনের অনেক পথ পাড়ি দিয়ে সবাই যেন আবার একটি দিনের জন্যে হারিয়ে যায় প্রিয় শিক্ষাঙ্গনে ফেলে আসা দিনগুলোতে। পরবর্তী পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাফেল ড্র ও কুইজ প্রতিযোগিতা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে সাজানোহয় কুইজ প্রতিযোগিতার প্রশ্নমালা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় ব্যান্ড লাল সবুজ গান পরিবেশন করেন। এই পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী পলাশ, শুভ্রা ও মাসুদ সুরের মায়াজালে মুগ্ধ করে রাখেন দর্শক-শ্রোতাদের। পুরানো দিনের সেই সব গান সবাইকে নষ্টালজিক করে তোলে। র্যাফেল ড্র দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
প্রাক্তন ছাত্রদের এই মিলন মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবারের মতো এবারো প্রকাশিত হয় প্রবাসী লেখক ও কবিদের লেখা নিয়ে বর্নাঢ্য সংকলন “নানান রঙয়ের দিন গুলি”।
