১৯৯২’র বিশ্বকাপ থেকে শুরু, বৃষ্টি আইনে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ১৯ রানের হারটা প্রোটিয়াদের মনে এতটাই ধাক্কা দিয়েছে যে, আইসিসি’র মেগা আসর মানেই চোকার্স অপবাদ সঙ্গী তাদের! ৯৯’র বিশ্বকাপই বলুন কিংবা ২০০৭, ২০০৯ টি-২০ বিশ্বকাপ-আইসিসি’র ১১টি মেগা ইভেন্টের ১০টিতে সেমিফানাইনাল থেকে বিদায় নেয়ার অতীত যাদের, সেটাই যেন নিয়তি হয়ে গেছে দ. আফ্রিকার। সেমির হার্ডল পেরিয়ে একবার […]
১৯৯২’র বিশ্বকাপ থেকে শুরু, বৃষ্টি আইনে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ১৯ রানের হারটা প্রোটিয়াদের মনে এতটাই ধাক্কা দিয়েছে যে, আইসিসি’র মেগা আসর মানেই চোকার্স অপবাদ সঙ্গী তাদের! ৯৯’র বিশ্বকাপই বলুন কিংবা ২০০৭, ২০০৯ টি-২০ বিশ্বকাপ-আইসিসি’র ১১টি মেগা ইভেন্টের ১০টিতে সেমিফানাইনাল থেকে বিদায় নেয়ার অতীত যাদের, সেটাই যেন নিয়তি হয়ে গেছে দ. আফ্রিকার। সেমির হার্ডল পেরিয়ে একবার মাত্র শিরোপা জয়ের অতীত আছে প্রোটিয়াদের। ৯৮এ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (মিনি বিশ্বকাপ) জয়ের সেই ভেন্যুটি যখন ঢাকা, তখন হ্যান্সি ক্রোনিয়ের সাফল্যের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা তো ছিলই। তবে আইসিসি’র মেগা ইভেন্টের সেমিতে এসে ম্যাচের ভাবনার চেয়েও যখন বড় ভাবনা হয়ে দাঁড়ায় অতীত অপবাদ চোকার্স, তখন মনস্ত¡াত্বিক লড়াইয়ে যে পিছিয়ে পড়ে প্রোটিয়ারা। গতকালও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভারতকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েও (১৭২/৪) এই প্রতিপক্ষকে প্রতিবন্ধকতার মুখে ফেলতে পারেনি দ. আফ্রিকা। বরং ৭ বছর আগে টি-২০ বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে ডারবান ট্র্যাজেডির কলঙ্ক দিয়েছে যারা, সেই ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হেরে চোকার্স অপবাদ ভারী হলো তাদের! অল এশিয়ান ফাইনালে শ্রীলংকা পেল ভারতকে!
১৭৩ রানের চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডের হিসেব-নিকেশ সামনে রেখেই ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছে ভারতকে। প্রথম ওভারে ডুমিনিকে রাহানে, রোহিত শর্মার ৩টি বাউন্ডারি ভারতের সে স্ট্র্যাটেজির কথাই দিয়েছে জানিয়ে। আস্কিং রান রেটের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডের অংক মেলানো, পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে ৫৬/১ স্কোরে সে ভরসার জায়গা খুঁজে পেয়েছে ভারত। স্টেইনকে আপার কাট এ দর্শনীয় ছক্কায় রোহিত শর্মার ১৩ বলে ২৪ ই বলুন, কিংবা এক অ্যান্ড আগলে রেখে রাহানের ৩০ বলে ৩২, ভারতের সহজ জয়ের পথ করেছে প্রশস্ত। কোহলী কোহলী রূপে ফিরে পেতে করেছেন অপেক্ষা। ১৬ বলে স্কোর তার একপর্যায়ে ১৭, নেই একটিও বাউন্ডারি-সেই কোহলী নিজেকে ফিরে পেলেন ডাউন দ্য উইকেটে লং অনের উপর দিয়ে ডুমিনিকে দর্শনীয় ছক্কায়। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা লেগ স্পিনার ইমরান তাহির ভারত ব্যাটসম্যানদের সামনে কতটা মামুলি বোলার-কোহলী মিড অফের উপর দিয়ে ছক্কায় জানিয়ে দিয়েছেন তা। ৩৫ তম বলে টি-২০ ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ ফিফটি উদযাপনের ইনিংসটি তার নট আউট ৭২। ৪৪ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় শোভিত ইনিংসটি কি সুবাসই না ছড়িয়েছে। চলমান টি-২০ বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে কোহলীর এটি আবার তৃতীয় ফিফটি! ঠিকই তার নামটি বিরাট ই মানায়।
অথচ, এই ম্যাচে বৃষ্টি ভাবনায় টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ডু প্লেসিস-ডুমিনির দারুণ বোঝাপড়ায় ৫২ বলে ৭১ রানের পার্টনারশিপ বড় স্কোরের সম্ভাবনা দেখিয়েছে দ. আফ্রিকাকে। ডু প্লেসিস থেমেছেন ৫৮ রানে (৪১ বলে ৫ চার ২ ছক্কা) ডুমিনি সেখানে নট আউট ৪৫। এমন ম্যাচে অফ স্পিনার আশউইন ছাড়া ভারতের বোলিং আক্রমণে ভয় ধরাতে পারেনি কেউ। ভয়ঙ্কর রূপ ছড়ানো লেগ স্পিনার অমিত মিশ্রা এদিন ছিলেন নিষ্প্রভ ৩ ওভারের স্পেলে খরচা তার উইকেটহীন ৩৬! অকেশনাল অফ স্পিনার সুরেশ রায়নার সেখানে উইকেটহীন খরচা ৩৫। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-২০’র ক্যারিয়ার সেরা বোলিং (৪/১১) করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা অফ স্পিনার আশউইনই এদিন ধোনীকে দিয়েছেন ভরসা (৩/২২)! চলমান টি-২০ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ মিরপুরে খেলতে খেলতে এই মাঠ এবং উইকেটের প্রতিটি বিন্দু সম্পর্কে বিস্তর ধারনা হয়ে গেছে ভারতের। সেটাই কাজে লাগিয়ে দ.আফ্রিকাকে ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়েছেন কোহলী (৭২ নট আউট)। পেস বোলার হেনরিক্স (২/৩১) ছাড়া প্রোটিয়া বোলারদের কেউ ভারত ব্যাটসম্যানদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পেস বোলার স্টেইনের জারি-জুরি তুড়ি মেরে দিয়েছেন উড়িয়ে ভারত ব্যাটসম্যানরা (১৯ বলে উইকেটহীন খরচা ৩৬)। আপার কাটে রোহিতের ছক্কায় চুল ছিড়ে ফেলার জোগাড়, মিড উইকেট দিয়ে কোহলীর নেয়া উইনিং বাউন্ডারি শটটির সঙ্গে চোকার্স অপবাদ যে আরো বড় হলো প্রোটিয়াদের-সে যন্ত্রনায় শেষ হলো আইসিসি’র আর একটি মেগা আসর।