বরাবরের মতোই আপত্কালে পাশে পাওয়া গেল না কোচ ডানকান ফ্লেচারকে। অগত্যা অধিনায়ক একাই মুখোমুখি হলেন সংবাদ মাধ্যমের। সদ্য দক্ষিণ আফ্রিকায় ফাস্ট বোলিংয়ে নাস্তানাবুদ হয়ে ফিরেছেন ক্যাপ্টেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার আগে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের ‘বাউন্সার’ ডারবানের পিচের চেয়েও অস্বস্তিতে ফেলল অধিনায়ককে। তারই মধ্যে ক্ষুব্ধ অধিনায়ক জানালেন, বিদেশের মাটিতে ভেড়ার তকমা মোটেই মানতে পারেন […]
বরাবরের মতোই আপত্কালে পাশে পাওয়া গেল না কোচ ডানকান ফ্লেচারকে। অগত্যা অধিনায়ক একাই মুখোমুখি হলেন সংবাদ মাধ্যমের। সদ্য দক্ষিণ আফ্রিকায় ফাস্ট বোলিংয়ে নাস্তানাবুদ হয়ে ফিরেছেন ক্যাপ্টেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার আগে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের ‘বাউন্সার’ ডারবানের পিচের চেয়েও অস্বস্তিতে ফেলল অধিনায়ককে। তারই মধ্যে ক্ষুব্ধ অধিনায়ক জানালেন, বিদেশের মাটিতে ভেড়ার তকমা মোটেই মানতে পারেন না তিনি। বলেছেন, ‘দেশে বাঘ, বিদেশে ভেড়ার তকমা দুর্ভাগ্যজনক। ছকে ভুল, বোলিংয়ের দুর্বলতা, টেল এন্ডারদের ব্যাটিং অপদার্থতা—দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে একটা ম্যাচও না জিতে আসার পক্ষে এমন সব অজুহাতই দিলেন ভারত অধিনায়ক। তার সাফাই, ‘উল্টো দিকে যখন সাত উইকেট পড়ে গিয়েছে, তখন কী করে চালিয়ে খেলব?্থ সত্যি কথা। ডারবানে যখন একা লড়ছিলেন অজিঙ্কা রাহানে, তখন যেভাবে আউট হয়েছিলেন ক্যাপ্টেন তা টেস্টের ইতিহাসে বহু কাল উদাহরণ হয়ে থাকবে। তার সাফাই অবশ্য দেননি অধিনায়ক।
বরং ভেড়ার তকমায় অখুশি ধোনি জানিয়েছেন, ৮, ৯, ১০ ও ১১-তে যারা ব্যাট করতে আসেন, তাদের শেখা উচিত আরও কী করে অনেকটা সময় পিচে কাটানো যেতে পারে। শুধু তাই নয়, এই ব্যাটসম্যানরা যাতে অন্তত ৩০ থেকে ৫০ রান দিতে পারেন তা-ও নিশ্চিত করা উচিত। বলেছেন, ‘অনেক দেশই নিজের মাটিতে ভালো খেলে বিদেশে এসে লেজে-গোবরে হয়। কিন্তু তাদের দিকে কোনো আঙুল ওঠে না। ভারতই বার বার এমন অভিযোগের মুখে পড়ে। কারণ ভারত উপমহাদেশের প্রতিনিধি।’ ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ড সিরিজে বা ২০১০-১১-র দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ভারতের পারফরম্যান্স ভালোই ছিল মনে করিয়ে দিয়েছেন ধোনি। এরপরই ২০১১-এর ইংল্যান্ডে এবং ২০১১-১২-এর অস্ট্রেলিয়ার মুখ থুবড়ে পড়ল ভারত। ব্যাস, ‘বিদেশে ভেড়া’ তকমা ফের জোরদার হলো। ধোনি দাবি করছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটো টেস্টেই ভারত বেশ ভালো করেছিল। কিন্তু, ডারবানে ওই আড়াই ঘণ্টায় শেষ হয়ে গেল ভারতের লড়াই। অবশ্য এই সময় ভারত খারাপ খেলেছে, স্বীকার করেছেন অধিনায়ক। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে কী হবে? রিচার্ড হেডলি বা শন বন্ডের নিউজিল্যান্ড আর নেই ঠিকই, কিন্তু ট্রেন্ট বোল্ট বা টিম সাউদিকে সামলানোর মতো ব্যাটসম্যান আছে তো টিমে? চেতেশ্বর পূজারা, বিরাট কোহলি বা অজিঙ্ক রাহানের মধ্যে সম্ভাবনা যথেষ্ট, কিন্তু বাকিরা? কেবলমাত্র সংবাদমাধ্যমই নয়, এই প্রশ্নের জবাব খুঁজেছেন ধোনি নিজেও। তাই আগেভাগেই জানিয়েছেন, ‘ওখানে আমাদের সামনে কড়া চ্যালেঞ্জ। ঘরের মাটিতে ভালো খেলার সঙ্গে সঙ্গে বিদেশেও নজির গড়ার দরকার আছে।’ ৮১ টেস্টের পরও উপমহাদেশের মাটিতে এখনও কোনো সেঞ্চুরি নেই বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কের। দক্ষিণ আফ্রিকায় জঘন্য পারফরম্যান্সের পর ক্রুদ্ধ সংবাদ মাধ্যমের সামনে অযথা তর্ক না বাড়িয়ে ধোনি স্বীকার করেছেন, তাকে ব্যাটিং নিয়ে আরও হোমওয়ার্ক করতে হবে। আর টিমের বোলিং পারফরম্যান্সও যে তাকে চিন্তায় রেখেছে তাও বেশ বোঝা গেল। বল উইকেটে ঠিকমতো সিম না করলে ভারতীয় বোলাররা সহজেই ব্যাটসম্যানদের খাদ্যে পরিণত হচ্ছে। এই খামতি মেটানোর চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে।