মোহাম্মেদ আবদুল মতিন ও নাইম আবদুল্লাহ : পৃথিবীর সবচাইতে ‘ব্যয়বহুল’ এবং জমকালো আতশবাজির প্রদর্শনী দিয়ে সিডনিতে বর্ষবরণ হয়েছে। এই জমকালো আতশবাজির খেলা উপভোগ করতে এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সিডনির অপেরা হারবারে নেমেছিল হাজারো মানুষের ঢল। ‘সিটি অব কালার’ স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন আর ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়েছিল সিডনি […]

মোহাম্মেদ আবদুল মতিন ও নাইম আবদুল্লাহ : পৃথিবীর সবচাইতে ‘ব্যয়বহুল’ এবং জমকালো আতশবাজির প্রদর্শনী দিয়ে সিডনিতে বর্ষবরণ হয়েছে। এই জমকালো আতশবাজির খেলা উপভোগ করতে এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সিডনির অপেরা হারবারে নেমেছিল হাজারো মানুষের ঢল।
‘সিটি অব কালার’ স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন আর ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়েছিল সিডনি শহরের বিভিন্ন এলাকাকে। বাস, ট্রেন এবং ফেরিতে দেওয়া হয় বিনা টিকেটে ভ্রমনের সুযোগ। আতশবাজির দৃশ্য ধারণের জন্য বিভিন্ন টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসনরা অবস্থান নেন সুউচ্চ দালানগুলোর ছাদে আর হেলিকপ্টার টহলে ছিল শহরের আকাশে।
অস্ট্রেলিয়ার অনান্য অঞ্চলসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৫ লাখ লোকের জমায়েত এক অভূতপূর্ব আবহ তৈরি করে এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে।
পনের মিনিট স্থায়ী আতশবাজির জন্য গত কয়েকদিন ধরেই প্রস্তুতি চলছিল। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তিন পর্বের এই আতশবাজি প্রদর্শনীর প্রথম পর্ব শুরু হয় রাত ৯ টায় ডারলিং হারবারে। তারপর ১০ টা ৪০ মিনিট এবং সর্বশেষ নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে ১২টা ১ সেকেন্ডে। ১২টা বাজার ১০ সেকেন্ড আগে থেকে ‘কাউন্ট ডাউন’ শুরু হয়। ঠিক ১২টা ১ সেকেন্ডে আতশবাজির ঝলকানিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সিডনির অপেরা হারবার এলাকা।

সিডনি হারবারে প্রায় তিন হাজার স্পিডবোট থেকেও দর্শকরা বর্ষবরণের আতশবাজি প্রদর্শনী উপভোগ করেন। যেকোন নাশকতা ঠেকাতে সিডনি হারবার ব্রিজ এবং অপেরা হাউজ সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত এক হাজার টহল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শহরে ঢোকা বাস ও ট্রেনগুলোকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়।
ভিড় এড়াতে মানুষ আগে থেকেই খাবার নিয়ে নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান নেয়। বর্ষ বরণের আতশবাঁজিতে আকাশে জ্বলে ওঠে চোখ ফুরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য । যা মনে তাড়িয়ে বেড়ায় সব সময়। আবার যদি আসতো বিদ্যুতের ঝলকানির মতো খুব কাছে থেকে দেখা এই দৃশ্য! বারে বারে দেখতে মন চায়। আকাশের তারা গুলো যেন কাছে এসেছে। আহারে আবার যদি দেখতে পেতাম এই মনোরম আলোর ঝলকানি।

সিডনি’র ক্যাম্পবেল টাউন থেকে নাইম আবদুল্লাহর রিপোর্ট: সিডনি শহর থেকে প্রায় অর্ধশত কিলোমিটার দূরে অন্যতম ঘনবসতি পূর্ণ প্রবাসী বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা ক্যাম্পবেল টাউন সিটি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও ক্যাম্পবেল টাউন সিটি কাউন্সিলের উদ্যোগে রাত নয়টায় বর্ণাঢ্য আতশবাজি ও গণসংগীতের মধ্য দিয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় জানানো হয়। তারপর মধ্যরাত বারোটায় জমকালো আতশবাজির মাধ্যমে নূতন বছরকে বরণকরে নেয়া হয়। উভয় পর্বের এই আয়োজন হাজার হাজার দর্শক স্ব-পরিবারে উপভোগ করে।
এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে কশিগায়া পার্কের খোলা মাঠে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে মাগরিব ও এশার নামাজের জামাত পরিচালনা করা হয়।
