স্পোর্টস রিপোর্টার : বেইজিংয়ে ২০০৮ অলিম্পিকের জমকালো সমাপনীর ছয় বছর পর কাল আবার আলো ঝলমলে হয়ে উঠল বার্ডস নেস্ট স্টেডিয়াম। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা লড়াই বলে শুধু নয়, এই ‘পাখির বাসা’র জৌলুশ আরো বেড়েছে মেসি-নেইমার দ্বৈরথের কারণে। কিন্তু বার্সেলোনার দুই সতীর্থকে ছাপিয়ে সব আলো কেড়ে নিলেন ডিয়েগো টারডেলি। অ্যাটলেটিকো মিনেইরোর এই ফরোয়ার্ডের প্রথম দু’টো আন্তর্জাতিক গোলেই তো কাল […]

স্পোর্টস রিপোর্টার : বেইজিংয়ে ২০০৮ অলিম্পিকের জমকালো সমাপনীর ছয় বছর পর কাল আবার আলো ঝলমলে হয়ে উঠল বার্ডস নেস্ট স্টেডিয়াম। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা লড়াই বলে শুধু নয়, এই ‘পাখির বাসা’র জৌলুশ আরো বেড়েছে মেসি-নেইমার দ্বৈরথের কারণে। কিন্তু বার্সেলোনার দুই সতীর্থকে ছাপিয়ে সব আলো কেড়ে নিলেন ডিয়েগো টারডেলি। অ্যাটলেটিকো মিনেইরোর এই ফরোয়ার্ডের প্রথম দু’টো আন্তর্জাতিক গোলেই তো কাল আর্জেন্টিনাকে ২-০ তে হারালো ব্রাজিল। ম্যাচের আগে বেইজিং ঢাকা ছিল ধোঁয়াশার চাদরে। কিন্তু লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তির তারকাদের দ্যুতিতে মিলিয়ে গেছে সেই ধোঁয়াশা। প্রথমার্ধে লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস করার হতাশা ম্যাচ শেষে আরো বেড়ে যায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হারের যন্ত্রণায়।
ফুটবলের দুই শ্বাশ্বত শক্তি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ম্যাচ। বেইজিংয়ে লাতিন আমেরিকার সেই ‘সুপার ক্লাসিকো’ জিতে উপলক্ষ্যটাকে রাঙিয়ে নিল সেলেসাওরা। ১৯১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বুয়েনস এইরেসে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে শুরু যে দ্বৈরথের, সেটির শতবর্ষ পূর্ণ হল ব্রাজিলের ২-০ তে জয়ে। দু’দলের মুখোমুখি দেখায় ৩৬ তম জয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা স্পর্শ করল আর্জেন্টিনাকেও (৩৬ জয়)। অথচ ম্যাচের শুরুতে দুঙ্গার ব্রাজিলের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিল আলবিসেলেস্তিরা। সার্জিও আগুয়েরো, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার শটগুলো কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোলরক্ষক জেফারসনের হৃদয়। খেলার ধারার বিপরীতে ২৮ মিনিটের মাথায় গোল পেয়ে যায় ব্রাজিল। ডানপ্রান্ত থেকে অস্কারের ক্রস মাথা দিয়ে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন পাবলো জাবালেতা ও ফার্নান্দেজ। কিন্তু ফার্নান্দেজের মাথা ছুঁয়ে যাওয়া বলটি গিয়ে পড়ে পেছনে অরক্ষিত অবস্থায় দাঁড়ানো টারডেলির পায়ে। তাঁর কোনাকুনি ভলিতে হাত ছোঁয়াতে পারেননি আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো (১-০)। টারডেলির প্রথম আন্তর্জাতিক গোলের সাথে সাথে গ্যালারিতে ওঠে হলুদ ঢেউ।
এই গোলের পরই নিজেদের গুছিয়ে নেয় দুঙ্গার শিষ্যরা। পাল্টা আক্রমণ থেকে রোমেরোকে সামনে একা পেয়েও নেইমার ওভাবে মিস না করলে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারত ব্রাজিল। ৪০ মিনিটের সময় সমতায় ফেরার সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা, যখন ডি বক্সের মধ্যে ডি মারিয়াকে বাধা দিয়ে পেনাল্টি উপহার দেয়ার পাশাপাশি নিজেও হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিল ডিফেন্ডার ডানিলো। কিন্তু ১২ গজ দূর থেকে নেয়া মেসির বাঁ পায়ের পেনাল্টি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দেন জেফারসন। ফিরতি বলে রোহোর ক্রসে পা ছোঁয়াতে পারলেও গোলটা পেতেন মেসি, কিন্তু দিনটা বোধ হয় ছিল না চারবারের ফিফা বর্ষসেরার। বিরতির বাঁশি বেজে ওঠার আগমুহূর্তে আগুয়েরোর আরেকটি শিশুতোষ ভুলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ধারা পাল্টে দেয় ব্রাজিল। সেটিরই পুরস্কার হিসেবে ৬৪ মিনিটে পেয়ে যায় দ্বিতীয় গোল। এবারও চোখে পড়ে আর্জেন্টাইন রক্ষণের জীর্ণদশা। অস্কারের কর্ণারে প্রথমে মাথা ছুঁয়েছিলেন ডেভিড লুইজ, সেই বলে দ্বিতীয়বার মাথা ছুঁয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করেন দ্বিতীয় পোস্টের সামনে ফাঁকায় দাঁড়ানো টারডেলি। রোমেরো এবার হাত ছোঁয়াতে পারলেও বল ক্রস বারে লেগে জড়িয়ে যায় জালে। পরের সময়টুকু অগোছালোভাবে কেটেছে আর্জেন্টিনার। বেশ কয়েকটি ফ্রিকিক পেলেও জেফারসনের বাধা পেরোতে পারেননি মেসি। জেরার্ডো মার্টিনোর দলও তাই কমাতে পারেনি ব্যবধান।
বিশ্বকাপ ফাইনালে এই দু’দলের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিল ফুটবল বিশ্ব। নেইমারও চেয়েছিলেন বার্সা-সতীর্থ মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্বর্ণালী ট্রফিতে হাত রাখতে। জার্মানির কাছে হেরে দু’দলেরই বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়েছে। বেইজিংয়ের এই ম্যাচটা তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো। ম্যাচ শেষে স্মারক ট্রফিটা নিয়ে যেভাবে উল্লাসে মেতেছে সেলেসাওরা তাতে অবশ্য কোনো কৃত্রিমতা ছিল না। আর্জেন্টিনাকে হারানোর স্বাদটাই যে অন্যরকম, তা সেটি বিশ্বকাপ ফাইনালে হোক কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো প্রীতি ম্যাচে।