গত ২২ শে ফেব্রুয়ারী ২০১৪ তে লেকেম্বার হাম্পডেন পার্ক পাবলিক স্কুলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো লাকেম্বা বাংলা স্কুলের একুশে মেলা। বাংলাদেশ কমুনিটির গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতে লাকেম্বা বাংলা স্কুলের কার্যনির্বাহী কমিটি অনুষ্ঠানটির উদ্ভোদন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত এবং বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সূচনা করেন লাকেম্বা বাংলা স্কুলের […]
গত ২২ শে ফেব্রুয়ারী ২০১৪ তে লেকেম্বার হাম্পডেন পার্ক পাবলিক স্কুলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো লাকেম্বা বাংলা স্কুলের একুশে মেলা। বাংলাদেশ কমুনিটির গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতে লাকেম্বা বাংলা স্কুলের কার্যনির্বাহী কমিটি অনুষ্ঠানটির উদ্ভোদন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত এবং বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সূচনা করেন লাকেম্বা বাংলা স্কুলের শিক্ষিকাবৃন্দ উম্মে আলিয়া, ফিরোজা ইয়াসমিন, গুলশানারা বেগম এবং প্রিন্সিপাল জুবাইদা হোসেন।
অনুষ্ঠানটিতে মূল সঞ্চালকের ভুমিকা পালন করেন রুহুল আমীন। অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি ছিলেন নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টের লাকেম্বার বর্তমান সংসদ সদস্য জনাব রবার্ট ফূরোলো। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্যান্টারবেরি সিটি কাউন্সিলের বর্তমান কাউন্সিলর এবং বহুসাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির প্রধান কার্ল সালেহ এবং নিউ সাউথ ওলেস ফেডারেশন অফ কমিউনিটি ল্যাঙ্গুএজ স্কুলের বর্তমান সভাপতি জনাব আলবার্ট ভিলা
প্রধান অতিথি তার ভাষণে ক্যান্টারবেরি অঞ্চলে বহুজাতিক সাংস্কৃতিক কমিউনিটি গড়তে লাকেম্বা বাংলা স্কুলের বিশেষ অবদান এবং এর বলিষ্ঠ ভূমিকাকে মাইলফলক বলে আখ্যায়িত করেন । তিনি বাংলাদেশ কমিউনিটির একাত্মতা সম্মুত রাখার উপর জোর দেন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে লাকেম্বা বাংলা স্কুলের একুশে মেলার আয়োজনকে অভিন্ন বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং বাংলাদেশিদের প্রতি তার গভীর ভালবাসার কথাও বাক্ত করেন।
লাকেম্বা বাংলা স্কুল আয়োজিত একুশে ফেব্রুয়ারীর এই অনুষ্ঠানটি একটি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন শিল্পীগণ বিভিন্ন একুশের এবং দেশের গান পরিবেশন করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নাসিম হোসেন, সালকি বৈতালিক, আতিক হেলাল, মিতা হেলাল, আনিকা সারওয়ার, আব্দুস সাত্তার এবং অর্পিতা দাস নন্দি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রুহুল আমিন এবং অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্বাবধায়ক মোহাম্মদ হুদার যৌথ উদ্যোগে পরিবেশিত “গ্রামের নও জোয়ান” গানটি ছিল খুবিই শ্রুতিমধুর এবং জনপ্রিয়। তাদের যৌথ উদ্যোগের এই গানটি মেলাতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করে এবং দর্শকদের গানের ভূবনে প্রবেশ করিয়ে দেয়।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানের বিশেষ আকষর্ন ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত কুংফু গুরু ক্রিস এবং তার দলের বিভিন্ন অভাবনীয় পরিবেশনা। লাকেম্বা বাংলা স্কুলের ছোট্ট মণিদের পরিবেশনা ছিল অসাধারণ এবং চমকপ্রদ। তারা সারা অনুষ্ঠানটি মাতিয়ে রাখেন তাদের অভাবনীয় নাচ, গান, আবৃতি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে দর্শকদের পক্ষ্য থেকে বক্তব্য রাখেন লেকেম্বার স্থায়ী বাসিন্দা জনাব আবুল বাসার খান। তিনি তার বক্তব্যে সকল ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করার অনুরোধ জানান। এছারাও আমন্ত্রিত অতিথিদের পক্ষ্য থেকে অনেকেই মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানটির শেষপ্রান্তে ছিল স্বপ্ন ব্যান্ডের চমৎকার গানের আয়োজন এবং রেফেল ড্র। স্বপ্ন ব্যান্ডের ভোকাল মিঠু ছিলেন আনন্দের এক মহাসাগর। সারা অনুষ্ঠানটি তিনি মাতিয়ে রাখেন চমৎকার সব গান পরিবেশনের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানটির সফলতার জন্য লাকেম্বা বাংলা স্কুলের পক্ষ্য থেকে সকল আয়োজক, মিডিয়া, স্বেচ্ছাসেবকগণ, স্টল মালিকদের এবং অনান্য অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান মেলা আয়োজক কমিটির প্রধান এবং স্কুলের সভাপতি জনাব জামিল হোসেন। এছাড়াও তিনি সিডনিতে বসবাসরত সকল বাঙালি পরিবারকে তাদের সন্তানদের বাংলা স্কুলে ভর্তির আহবান জানান(স্কুলটি প্রতি শনিবার সকাল ১০ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত খোলা থাকে, অতিরিক্ত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন -০৪১৯৯৭৬৭৫৫) এবং সবশেষে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।