শ্রীলংকা ১ম ইনিংস : ৫৮৭ বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৮৬/১ (২৫.০ ওভারে) শামীম চৌধুরী, চট্টগ্রাম থেকে : বাঁ হাতি স্পিনার রফিক উত্তর টেস্টে বাংলাদেশের বোলিংয়ে স্পটলাইট সাকিবের ওপর। সাকিবের টেস্ট বোলার হয়ে ওঠার প্রেরণা দিয়েছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। ২০০৯ সালের অক্টোবরে, নিউাজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ভেন্যুতে বোলিং করতে এসে সাকিব পাবেন না ছন্দ, তা কি […]
শ্রীলংকা ১ম ইনিংস : ৫৮৭
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৮৬/১ (২৫.০ ওভারে)
শামীম চৌধুরী, চট্টগ্রাম থেকে : বাঁ হাতি স্পিনার রফিক উত্তর টেস্টে বাংলাদেশের বোলিংয়ে স্পটলাইট সাকিবের ওপর। সাকিবের টেস্ট বোলার হয়ে ওঠার প্রেরণা দিয়েছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। ২০০৯ সালের অক্টোবরে, নিউাজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ভেন্যুতে বোলিং করতে এসে সাকিব পাবেন না ছন্দ, তা কি করে হয়? সাকিব সে পরিচিত ছন্দই পেয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে মরা পিচে ৫ উইকেটের ইনিংস, এই ভেন্যুর ফিরতি টেস্টেও তাই (৫/১৪৮)। বাংলাদেশের নির্বিষ বোলিংয়ে একমাত্র ব্যতিক্রম সাকিব এদিন টেস্ট ক্যারিয়ারে দেখেছেন ইনিংসে ১১তম বার ৫ উইকেটের মুখ। দ্বিতীয় দিনের টি ব্রেকের আগে তার একটি স্পেলে দিলরুয়া, মেন্ডিজের উইকেট ৬শ’ পেরুতে দেয়নি শ্রীলংকাকে। তবে এমন দিনে সাকিব নয়, ক্যারিয়ারের প্রথম ত্রিপল সেঞ্চুরি আর ১১ হাজারী ক্লাবের সদস্যপদে লারার কৃতিত্ব ছাড়িয়ে যাওয়ায় আলোচনার পুরোটা থাকবেন সাঙ্গাকারা।
১৬০ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে এসে ডাবল সেঞ্চুরিটাই যার কঠিন হওয়ার কথা, সেই সাঙ্গাকারা ব্রায়ান লারার ৯ম ডাবল সেঞ্চুরি স্পর্শ করার দিনে যা করেছেন, তা বিস্ময়কেও মানাবে হার। পার্টনার অজন্থা মেন্ডিজের সঙ্গে ৮ম জুটিতে কাঁটায় কাঁটায় ১০০’র পর নিজেও ত্রিপল সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখেননি, দেখবেন কি করে, লাকমাল, প্রদীপ, দুই টেল এন্ডারকে নিয়ে নিজের ৪৭ তো অনেক দূরের পথ। ১১ হাজারী ক্লাবের সদস্যপদে অপেক্ষা করতে হবে, তা ধরেই নিয়েছিলেন সাঙ্গাকারা। অথচ, ১১ হাজারী ক্লাবের সদস্যপদ পেতে এই ইনিংসে প্রয়োজনীয় ২৭৩ ছাড়িয়ে সাঙ্গাকারা থেমেছেন ৩১৯এ!
১৯৯৭ এ ভারতের বিপক্ষে প্রেমাদাসা টেস্টে জয়সুরিয়ার ৩৪০, ২০০৬ সালে কলোম্বোর সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বন্ধু মাহেলার ৩৭৪’র পর তৃতীয় শ্রীলংকান হিসেবে পেয়েছেন সাঙ্গাকারা ত্রিপল সেঞ্চুরির দেখা। এই ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে এখন সর্বোচ্চ তিনি। ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০০৪ এ কিংসটনে সারওয়ানের ২৬১, আর বাংলাদেশের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২০১২ সালে খুলনায় আর এক ক্যারিবিয়ান স্যামুয়েলসের ২৬০ ছাড়িয়ে গেছেন এই লংকান টপ অর্ডার। প্রতিটি মাইলস্টোনই ছুঁয়েছেন তিনি চার কিংবা ছক্কায়। ১১ হাজারী ক্লাবে পা দেয়ার শটটি সোহাগ গাজীকে বাউন্ডারি শটে, সাকিবকে ডাউন দ্য উইকেটে ছক্কার শটে পৌঁছে গেছেন অভীষ্ট লক্ষ্য ৩’শতে! শ্রীলংকার ইনিংসে শেষ ৮২ রানে সাঙ্গাকারার অবদান ৬৬। পার্টনারের অভাবে ১৯৯ রানে নট আউট থাকার কস্ট লাঘবে ২৯০’র ঘরে এসে শেষ ১০ রানে বেছে নিয়েছেন সাকিবকে চার ছক্কা! সাঙ্গাকারার ৫৫১ মিনিটের ইনিংস থেকে যা শেখার কথা, তার কিন্তু প্রতিফলন ছিল না গতকাল শেষ ১০৭ মিনিটে। ইনিংসের চতুর্থ বলে তামীম ফিরে যাওয়ার পর যে শংকা ছিল তীব্র, তা বাংলাদেশের উপর ভর করেনি, উল্টো ইমরুল ৩১ আর সামছুর রহমান শুভ ৩৬ রানে বেঁচে গেছেন। এভাবে ২ বার বেঁচে যাওয়া দলটির স্কোর দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৭/১। ফলো অন এড়াতে এখনো দরকার ৩০২। মুশফিকুরের কনিষ্ঠা আঙুলের চিড়, রাজ এর ইনজুরি ও পিছু নিয়েছে দুর্ভাবনা। প্রতিবন্ধকতা জয় করতে চাই প্রতিরোধ-সেই পরীক্ষার মুখে এখন বাংলাদেশ।