অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (২৭ মার্চ) বিকেল পাঁচটায় ল্যাকেম্বাস্থ অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. খায়রুল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল […]
অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (২৭ মার্চ) বিকেল পাঁচটায় ল্যাকেম্বাস্থ অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. খায়রুল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদ, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ত্রিশ লাখ বীর শহীদ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত সকল শহীদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আজ তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের বুকে আজ বিস্ময়কর এক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। স্বাধীনতাযুদ্ধে বিরোধিতাকারী আমেরিকাও আজ তাদের কংগ্রেসে বাংলাদেশকে তাদের অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উল্লেখযোগ্য নেতারা আজ এই মহতী লগ্নে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
বক্তারা বলেন, বিদেশের বুকে রাজনীতি মানে ভাতের হোটেলে মারামারি নয়। এখানে আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করব যাতে মূলধারার রাজনীতির সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের আরো উন্নয়ন ঘটানো যায়।
তারা বলেন, প্রবাসে কিছু বাংলাদেশি আছে যারা বিভিন্ন আড্ডায়, আলোচনায় বাংলাদেশ এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিদেশর বুকে ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা করে।
খোঁজ নিলে জানা যাবে, হয় এরা নিজেরা কিংবা এদের পূর্বপুরুষ স্বাধীনতা বিরোধীচক্রের সঙ্গে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। এদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় মুজিবাদর্শের সকল সৈনিককে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হবার জন্য আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন- অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এমদাদ হক, সহ-সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য তালুকদার, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মতিন, কলামিস্ট অধ্যাপক শাখাওয়াৎ নয়ন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান হৃদয়।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান শামীম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান চৌধুরী সুমন, নিউ সাউথ ওয়েলস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল হক, কেন্দ্রীয় সদস্য ওসমান গনি, অস্ট্রেলিয়া যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন কাদের, খুশবু মো. এম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাইরে এবার অস্ট্রেলিয়ার বুকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টে, নিউ সাউথ ওয়েলস ও অস্ট্রেলিয়া ক্যাপিটাল টেরিটরির রাজ্য পার্লামেন্টেও ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলের এমপিরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন।
আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধুর ১০১তম জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং উপস্থিত সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।