বাংলাদেশে ৭ নভেম্বর তারিখটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসাবে পালন করা হয়। এ দিবসটি উপলক্ষে সিডনি বিএনপি সম্প্রতি ল্যাকাম্বা কোহিনুর রেস্টুরেন্টে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সংহতি দিবস উদযাপনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা কমান্ডার সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে দোয়া করা হয়। ল্যাকাম্বার রেস্টুরেন্টে রবিবার স্থানীয় সময় […]
বাংলাদেশে ৭ নভেম্বর তারিখটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসাবে পালন করা হয়। এ দিবসটি উপলক্ষে সিডনি বিএনপি সম্প্রতি ল্যাকাম্বা কোহিনুর রেস্টুরেন্টে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
সংহতি দিবস উদযাপনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা কমান্ডার সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে দোয়া করা হয়।
ল্যাকাম্বার রেস্টুরেন্টে রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে সিডনি বিএনপির সভাপতি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তালুকদারের সঞ্চালনায় বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক মকিতুর রহমান চৌধুরী সেলিমের কোরআন তেলাওয়াত মধ্য দিয়ে আলোচনার শুরু হয়।
এ সময় বক্তারা সাদেক হোসেন খোকার শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের জন্য জাতি ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলো, ৭ নভেম্বর যদি বিপ্লব না হতো তাহলে বাংলাদেশ একটি অপশক্তির কাছে চলে যেত। এই বিপ্লবের মাধ্যমে বিএনপি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বাংলাদেশেকে একটি গণতান্ত্রিক দেশে রূপান্তরিত করেছে।
বক্তারা বর্তমান সরকারের কাজের নিন্দা জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে গণতন্ত্রের দেশমাতা গণতন্ত্রের কান্ডারী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হোক। দাবি জানান। সরকার যেন দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে এবং মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয় সেই দাবিও জানান।
আলহাজ লুৎফুল কবিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি মনিরুল হক জর্জ, বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন- স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাবেক আন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী স্বপন, ডা. আব্দুল ওহাব বকুল।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন, কুদরত উল্লাহ লিটন, আবুল হাসান, আলহাজ্ব মো. নাসিম উদ্দিন আহম্মেদ, ফজলুল হক শফিক, ইয়াসির আরাফাত সবুজ, ডা. জাহিদুল ইসলাম, এসএম রানা সুমন, সেলিম লিয়াকত, এএনএম মাসুম, আব্দুস সামাদ শিবলু, অনুপ আন্তনী গোমেজ, ইন্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম শামীম, মোহাম্মদ জুমান হোসেন, জাকির হোসেন রাজু, মোঃ নাসির উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, জাহিদ আবেদিন, আব্দুল করিম, গোলাম রাব্বানী, মোহাম্মদ মানিক, পংকজ বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম,পারভেজ আলম, মেহেদী হাসান মেহেদী, আশরাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন, মোহাম্মদ জসিম, সালাম খান, মোহাম্মদ মঈন, কাজী সাজেদুল ইসলাম, আনিক হাসান, সামিউল মাহমুদ, ওয়ারিস মাহমোদ, মোহাম্মদ আলমসহ প্রমুখ
নেতৃবৃন্দ।
মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের মানুষের যে রাজনীতি; সেই রাজনীতিতে একটা মৌলিক পরিবর্তন এসেছিল। এই দিনে একাত্তর সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ করে যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, সেই স্বাধীনতাকে সুসংহত করার একটা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনগণ নিয়েছিল। এদিনে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃস্থাপিত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল।
তিনি বলেন, এ কারণে দিনটিকে আমরা সবসময় স্মরণ করে এসেছি, এ দিনটিতে আমরা স্বাধীনতার ঘোষক, বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যিনি পুনরায় প্রবর্তন করেছিলেন সেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। কিন্তু আজ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে বিএনপিকে ধবংস করার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সকল অবৈধ রায় দিয়ে তাকে নির্বাচন থেকে দূরের রাখার সকল ব্যবস্থা কায়েম করছে।
মনিরুল হক জর্জ বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করছে আইন আদালতকে ব্যবহার করে একের পর মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বিএনপির নেতৃত্ব শূন্য করবে কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রমান করবে যে, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক জনগনের দল এবং জিয়াউর রহমানের আদর্শই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
মো. মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ বলেন, ক্ষমতাসীনরা জনগণের দাবি মানছে না। ৭ দফা দাবিকে অগ্রাহ্য করেই একতরফা নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্যই বছরের পর বছর ধরে মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমা-গ্রেফতার-হত্যা-গুপ্তহত্যা-ক্রসফায়ারের মতো পৈশাচিক নির্মমতাকে কাজে লাগানো হয়েছে বিরোধী দল দমনে। ওরা জনগণকে ভয় পায় বলেই দেশের বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে রেখেছে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. আলহাজ লুৎফুল কবির বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে ভয় পায় বলেই দেশের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে রেখেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও বানোয়াট মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। বিবেকশূন্য সরকার ও সরকারপ্রধানের নির্দেশে বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়েই জরাজীর্ণ, পরিত্যক্ত ও বাসানুপযোগী কারাগারে বন্দী করে রেখেছেন।
অনুষ্ঠানটি সাবলীলভাবে যৌথভাবে পরিচালনা করেন হাবিব রহমান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।