এম এ মতিন : নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর রাজাকার আলবদরদের দোসর হানাদার পাকিস্তানি সেনারা মাথা নিচু করে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা, বীর বাঙ্গালী ও যৌথ বাহিনীর কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির নিজস্ব ঠিকানা, আমাদের স্বপ্নের নতুন দেশ ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’। বিশ্বের যেকোন প্রান্তেই আমরা থাকিনা কেন […]
এম এ মতিন : নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর রাজাকার আলবদরদের দোসর হানাদার পাকিস্তানি সেনারা মাথা নিচু করে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা, বীর বাঙ্গালী ও যৌথ বাহিনীর কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির নিজস্ব ঠিকানা, আমাদের স্বপ্নের নতুন দেশ ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’। বিশ্বের যেকোন প্রান্তেই আমরা থাকিনা কেন আমাদের হৃদয় বাংলাদেশ, আমাদের রক্তে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আমাদের স্ব্প্নের ঠিকানা। সর্বোপরি যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময় আমরা পেয়েছি এই মহান স্বাধীনতা, সমগ্র বাঙ্গালী জাতি আজো সেই বীর শহীদদেরকে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে।
গত ১৪ই জুন (রবিবার) সন্ধ্যায় সিডনির ম্যাকুউরিফিল্ডের মাই রোডে বিপ্লবী ছাত্রনেতা শহীদ গোলাম মোস্তফা তালুকদার স্মরণে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ ও দোয়া পরিচালনা করেন অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সম্পাদক আক্তার সৈয়দ বাদল ও সিনিয়র সিটিজেন মোহাম্মাদ গিয়াস উদ্দিন খান। মরহুমের রূহের মাগফেরাত কামনা করে পরম করুনাময় মহান আল্লাহর নিকট উপস্থিত মজলিশ দোয়া প্রার্থনা করেন।
অনুষ্ঠানে শহীদ গোলাম মোস্তফা’র জীবনের উপর স্মৃতিচারণ করেন তার ছোট বোনের জামাই কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম এবং অনুজ (ছোট ভাই) মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার মন্জু। তারা আবেগপ্লুত কন্ঠে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চের পর শেরপুর শহর থেকে নিজ গ্রাম খর খরিয়া তালুকদার বাড়ীতে তাদের পরিবারের অবস্থান, শহীদ গোলাম মোস্তফা বন্ধুদের নিয়ে ইন্ডিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রশিক্ষণ এবং সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহন, ২৩শে আগষ্ট আলবদর কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে গোলাম মোস্তফাকে বন্দী ও ওইদিনেই অমানুষিক নির্যাতনের পর গুলি করে তাকে হত্যার হৃদয় বিদারক ঘটনাসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা করেন।
দোয়া মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ গ্রহন করেন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো: গাউসুল আলম শাহজাদা, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ডঃ খাইরুল চৌধুরী, সেক্রেটারি রোফিক উদ্দিন, উপদেষ্টা ডক্টর নিজাম উদ্দিন, মুক্তি যোদ্ধা সদস্য শাহাদত হোসাইন, অস্ট্রেলিয়া মুসলিম ওয়েল ফেয়ার সেন্টারের সেক্রেটারি নুরুল আমিন, প্রতিষ্ঠাতা সদেস্য ,ডাঃ তোজাম্মেল হেসেন, সদস্য আব্দুল জলিল কেম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের সভাপতি নাজমুল খান, সেক্রেটারী মাসুদ চৌধুরী, প্রক্তন সভাপতি ডাঃ এ কে এম বজলুল করিম, প্রিন্সিপাল রোকেয়া হাসান, শিহ্মিকাবৃন্দ, লিভারপুল সিটি কাউন্সিলের নকশাবিদ এ কে এম জিয়াউল হকসহ প্রায় দেড় শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী।
মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার মন্জু দোয়া মাহফিলে শরীক হওয়ার জন্য উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।