গত ১৩ই ডিসেম্বর (রোববার) বিকাল ৫টায় ইঙ্গেলবার্ন কমিউনিটি হলে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সংগঠন ‘সিডনি-বাঙালি কমিউনিটি’ আয়োজন করেছিল ‘এসো মেতে উঠি বিজয়ের আনন্দে’ স্লোগান নিয়ে বিজয় উৎসবের আয়োজন করে। এই বিজয় উৎসব মূলত ছিল শিশু কিশোরদের বাংলাদেশ নিয়ে নানা পরিবেশনায় সাজানো। বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানসূচীতে ছিল মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, শিশুকিশোরদের […]
গত ১৩ই ডিসেম্বর (রোববার) বিকাল ৫টায় ইঙ্গেলবার্ন কমিউনিটি হলে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সংগঠন ‘সিডনি-বাঙালি কমিউনিটি’ আয়োজন করেছিল ‘এসো মেতে উঠি বিজয়ের আনন্দে’ স্লোগান নিয়ে বিজয় উৎসবের আয়োজন করে।
এই বিজয় উৎসব মূলত ছিল শিশু কিশোরদের বাংলাদেশ নিয়ে নানা পরিবেশনায় সাজানো। বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানসূচীতে ছিল মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, শিশুকিশোরদের এবং সিডনির প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ছোট্টবন্ধু ঈশান তারিক পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে উৎসবের শুভ সূচনা করে। তারপর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ হোসেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
এরপর কিশলয় কচিকাঁচা সমবেত সঙ্গীত, ছড়া, নাচ ও গানসহ বিজয় দিবস ভিত্তিক বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করে। ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’-গানটির সাথে একটি একক নৃত্য পরিবেশন করে নুশাবা রহমান। তারপর কাম্পেলটাউন বাংলা স্কুলের ছোট বন্ধুরা ছড়া , গান ও নৃত্য পরিবেশন করে সবাইকে মুগ্ধ করে রাখে।
তানিয়া ও তাসফিয়া সুরেলা কণ্ঠে একটি করে দেশের গান পরিবেশনায় দর্শকরা আজন্ম কালের আবহ বাংলাকে সুদূর পরবাসে খুজে পায়।
নতুন প্রজন্মের অস্ট্রেলিয়ান বাঙ্গালীদের মধ্যে ঐহিক তারিক শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ও সামস হোসেন শহীদ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি করে ছোট প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। কিশলয় কচিকাচার ছোট বন্ধুদের বাংলাদেশ থিম নিয়ে একটি অসাধারন নৃত্য পরিবেশন করে “চার চাক্কা .হই হই বল গুরিয়া গেল কই…”। এরপর প্রদর্শিত হয় হামিদ উদ্দিন এর সংকলিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র। ১৯৭১ এ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার ভাই মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জু তালুকদার এই পর্বটি শুরু করার সময় কিছুটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।
মাগরিবের নামাযের বিরতির পর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কবিতা আবৃতিতে প্রথমে নাসরিন আহমেদ আবৃতি করেন। তারপর আবৃতি করেন সিডনির পরিচিত আবৃতিকার সুরভী ছন্দা এবং সাইফুর রহমান অপু। উপস্থিত সবাই গভীর আগ্রহ সহকারে তাদের আবৃতি উপভোগ করেন।
গানের পর্বে শারমিন পাপিয়া, ফারিয়া এবং রুনু রফিক একটি করে দেশের গান গেয়ে দর্শক শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন। সিডনির গানের দল ‘লাল-সবুজ’ এর পরিবেশিত গান ‘সবকটা জানালা খুলে দাও না” ও “যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে’ এই গানগুলো উপস্থিত স্রোতা ও দর্শকদের সবার মনে দাগ কাটে।
বাংলা কমিউনিটির পরিচিত শিল্পী আরফিনা মিতা’র সুরেলা কণ্ঠে “এক নদী রক্ত পেরিয়ে” এবং আতিক হেলালের “তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর” গান দুটি সবার মনকে মাতিয়ে রাখে।
সবশেষে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতে সবাই গলা মেলায়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সিডনিবেঙ্গালিজডটকমের সম্পাদক আবু তারিক জানান, ১৬ই ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের স্বাধীনতার ও স্বকীয়তার আত্মপ্রকাশের দিন। নতুন প্রজন্মের শিশু কিশোরদের মনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে ‘সিডনি-বাঙালি কমিউনিটি বহুদিন ধরে প্রবাসে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নুতন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরগাঁথা, ইতিহাস এরং দেশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই মূলত আমাদের এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সেলিমা বেগম এবং সার্বিক তত্বাবধানে ছিল সিডনি বাঙ্গালী কমিউনিটি (sydneybengalies.com)