অস্ট্রেলিয়া বহুজাতিক অভিবাসী মানুষের আবাসস্থান। যুগ যুগ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিবাসীরা এখানে এসে বসতি গড়েছে। ১৯৯৯ সাল থেকে বহুজাতিক অভিবাসীদের সম্মানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবছর ‘হারমনি ডে’ পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে এখানকার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ অফিস পাড়ায় সব অভিবাসী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উপস্থাপন করে। অফিসে […]
অস্ট্রেলিয়া বহুজাতিক অভিবাসী মানুষের আবাসস্থান। যুগ যুগ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিবাসীরা এখানে এসে বসতি গড়েছে। ১৯৯৯ সাল থেকে বহুজাতিক অভিবাসীদের সম্মানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবছর ‘হারমনি ডে’ পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে এখানকার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ অফিস পাড়ায় সব অভিবাসী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উপস্থাপন করে।
অফিসে আমরা সবাই এই দিনে আমাদের নিজ দেশের একটা করে খাবারের ডিশ তৈরি করে এনেছি।
সেই খাবার ভাগাভাগি করে খাওয়ার সময় আমরা সবাই অল্প কথায় নিজ দেশের গৌরব আর ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরলাম। আমাদের তিনজন বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে প্রথমে আমরিন আপা আমাদের গৌরবময় স্বাধীনতাযুদ্ধের কথা শোনালেন।
আমাকে কিছু বলতে বলা হলে আমি ‘বিশ্বকাপ ক্রিকেট’ শব্দটি বলার সঙ্গে সঙ্গে আমরিন আপা আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আকাশছোঁয়ার স্বপ্ন কে না দেখে।’ দেখেছিলাম আমরাও। গত ১৯ মার্চ টাইগারদের সঙ্গে ১৬ কোটি বাংলাদেশির চোখেও ছিল সেমিতে যাওয়ার প্রবল স্বপ্ন। তবে প্রতিপক্ষ ভারত বলেই স্বপ্নটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তাইতো আম্পায়ারদের নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্বের সাক্ষী হয়ে থাকল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড। মেলবোর্নে ভারতের কাছে ১০৯ রানের পরাজয় কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না টাইগার-সমর্থকেরা। যেখানে আম্পায়ারদের পক্ষপাত ছিল লজ্জাজনক। কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে দুই আম্পায়ার আলিম দার ও ইয়ান গোল্ডকে। সেমির টিকিট পেয়েছে ভারত ঠিকই কিন্তু সঙ্গে তাদের গায়ে সেঁটে থাকছে সমালোচনাও।
তবে পিছু হটছে না বাংলাদেশ। এই ম্যাচের বিরুদ্ধে আপিল করবে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের মঞ্চ বাংলাদেশের বিদায়ে কিছুটা আফসোস, তবে গর্বটাই আমাদের অনেক বেশি। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। প্রতি ম্যাচেই লড়াই করেছে টাইগাররা। রিয়াদের ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি, রুবেলের বিধ্বংসী রূপ, মুশফিকের নির্ভর ব্যাটিং, আরও কিছু রেকর্ড। ফলে বিদায় নয়, বরং বলা ভালো, ‘শাবাশ বাংলাদেশ।’
আমরিন আপার গলা ধরে এল। রাগে দুঃখে আর ক্ষোভে তিনি আর কিছু বলতে পারলেন না। তারপর অন্যরা যে যার দেশের গৌরবগাথা শোনাল।
সবাইকে কথাগুলো জানাতে পেরে কিছুক্ষণের জন্য আমাদের তিনজনের মন ভালো হয়ে গেল।