আগামী ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রবাসী বাংলাদেশী জিল্লুর রশিদ ভূইয়া। এই প্রথম একজন প্রবাসী বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির মনোনয়নে অংশগ্রহণ করছেন। এই নির্বাচনে ল্যাকেম্বা আসন থেকে তিনি লেবার পার্টির জিহাদ দিবের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। গতবারের প্রার্থী মাইকেল হাওয়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় গত ২০ ফেব্রুয়ারী রশিদ […]
আগামী ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রবাসী বাংলাদেশী জিল্লুর রশিদ ভূইয়া। এই প্রথম একজন প্রবাসী বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির মনোনয়নে অংশগ্রহণ করছেন। এই নির্বাচনে ল্যাকেম্বা আসন থেকে তিনি লেবার পার্টির জিহাদ দিবের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।
গতবারের প্রার্থী মাইকেল হাওয়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় গত ২০ ফেব্রুয়ারী রশিদ ভূইয়াকে মনোনয়ন দেয় লিবারেল পার্টি। ১৯২৭ সাল থেকে একবারের জন্যও হাতছাড়া হয়নি লেবার পার্টির লাকেম্বার এই আসনটি। অভিবাসী অধ্যুষিত ল্যাকেম্বায় লেবানিজ ও বাংলাদেশী নাগরিকের সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া আছে মধ্যপ্রাচ্য, চীন ও ভিয়েতনামের অভিবাসীরা। এই নির্বাচনের সাথে জড়িয়ে আছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থ ও ক্ষমতায়নের প্রশ্ন। সেই স্বাধীনতার সময় থেকে বাংলাদেশের সুখ দুঃখের সাথে অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টির অবদান সবচেয়ে বেশী। কিন্তু এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ক্ষমতায়নে চিন্তিত সবাই। কারণ লাকেম্বার লেবার আসনে লেবানিজ বংশোদ্ভূত জিহাদ দিবের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে হাড্ডিসাড় লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন রশিদ ভূইয়া। রশিদ ভূইয়া তার নির্বাচনী ইস্তেহারে বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি লাকেম্বায় বহুতল বিশিষ্ট পার্কিং নির্মাণ, রাস্তাগুলোতে নূতন কার্পেটিং সহ প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করবেন। ‘অভিবাসী অধ্যুষিত ল্যাকেম্বায় মনোনয়ন দেওয়ার পেছনে দলের কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে কি না—এন টিভি অস্ট্রেলিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে রশিদ ভূইয়া বলেন, দলের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, পুরো ব্যাপারটাকেই আমি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একধাপ এগিয়ে যাওয়া হিসেবেই দেখছি। তিনি বলেন, লিবারেলের হয়ে ল্যাকেম্বা আসনে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। তবে এ আমার বাংলাদেশী ভাইবোনদের কাছে ভোটপ্রত্যাশী।
দেশবিদেশ পত্রিকার সম্পাদক বদরুল আলম বলেন, সদা সদালাপি, হাসস্যজ্বল, পরোপকারী রশিদ ভূইয়াকে আমি বিগত ৯০ সাল থেকে চিনি। তখন সিডনিতে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন। সেইসময় থেকেই তিনি সদ্য বাংলাদেশ থেকে আসা অনেককে চাকুরী, বাসস্থান সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে সর্বদা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
মাসিক পত্রিকা ‘মুক্তমঞ্চ’ তাদের ফেব্রুয়ারি সংখ্যার সম্পাদকীয়তে লিখেছে, ‘প্রবাসী বাংলাদেশীরা দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টিকে সমর্থন করার পরও বাংলাদেশী অধ্যুষিত লাকেম্বায় একজনও কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হতে পারেনি। অন্যদিকে সবচেয়ে আশার কথা অস্ট্রেলিয়ান লিবারেল পার্টি এই প্রথমবারের মতো একজন জনপ্রিয় বাংলাদেশী রশিদ ভূইয়ার মনোনয়ন নিশ্চিত করেছে। পুরনো বিশ্বস্ত লেবার পার্টি নাকি বিশ্বাসী বাঙালী স্বার্থে লিবারেল, চায়ের আড্ডায় সরগরম পুরো সিডনি। একটা ব্যাপার পরিস্কার, সব বাংলাদেশীকে এক হতে হবে এই নির্বাচনে, না হলে নিজেদের পায়ে কুড়াল মারা হবে। শ্লোগান উঠেছে, জাগো বাহে, কোনঠে সবায়…..।’
‘সুপ্রভাত সিডনি’র এডিটর পরাগ সাজ্জাত তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, লাকেম্বা আসনে বাংলাদেশী ভোটার প্রায় চার হাজার, সেখান থেকে তিন হাজার সাতশোঁ ভোট পেলে রশিদ ভাই জয়ী হবে। আমরা কি প্রতিজ্ঞা করতে পারিনা যে, সবাই দল, মত নির্বিশেষে রশিদ ভূইয়াকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবো।
মাসিক পত্রিকা ‘সাদাকালো’র এডিটর কামরুল হোসেন বলেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের থেকে দেশ বড়। এই বাস্তবতাকে মনে রেখে আমাদের বাংলাদেশী ভাই রশিদ ভূইয়াকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
বাংলাদেশের নরসিংদীর রশিদ ভূইয়া ল্যাকেম্বার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক।
সাংবাদিক: নাইম আবদুল্লাহ