আজ বিশ্ব নার্স দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি। আধুনিক নার্সিংয়ের প্রবর্তক ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের সেবাকর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছরের ১২ মে তাঁর জন্মদিন আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত হয়। ১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহেরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে […]




আজ বিশ্ব নার্স দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি। আধুনিক নার্সিংয়ের প্রবর্তক ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের সেবাকর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছরের ১২ মে তাঁর জন্মদিন আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত হয়।
১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহেরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন তিনি। তাঁকে আধুনিক নার্সের প্রবর্তক বলা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার, নার্স অ্যাওয়ার্ড ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আজ বেলা ১১টায় বারডেম মিলনায়তনে ১০জন নার্সকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করবে ডায়াবেটিক সমিতি। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ’স্বাস্থ্য উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় নার্স গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।’ দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসুচি হাতে নিয়েছে।
নাইটিংগেলের কর্মজীবন :
আধুনিক নার্সিংয়ের অগ্রদূত ফ্লোরেন্স ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯১০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে ক্রিমিয়ান আহত সৈন্যদের সেবা করার জন্যে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে যান। সেখানে তিনি দৃষ্টান্তমূলক ও গঠনমূলক সেবা কর্মতৎপরতায় অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক সৈন্যদের আহত ও মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করেন। আহত সৈন্যদের সেবা করার সময় রাতে তিনি একটি বাতি নিয়ে রোগীর পাশে পাশে গিয়ে কুশলাদি বিনিময় করতেন। এই অদ্ভুত দৃশ্য আহত সৈন্যদের সহানুভূতিকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল সাদা পোশাকে বাতি হাতে এক রোগী হতে অন্য রোগীর কাছে যাওয়ার সময় তাকে আন্তরিকভাবে সৈন্যরা শ্রদ্ধা জানাত। ফলে তাকে লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প উপাধিতে ভূষিত করে।
যুদ্ধ শেষে ইংল্যান্ডের রানী তাকে ‘নাইট’ উপাধিসহ অনেক অর্থ পুরস্কার হিসেবে প্রদান করেন। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল সেই অর্থ দ্বারা ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের প্রতিষ্ঠিত নার্সিং ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীদের শপথবাক্যগুলো এ রকম_ আমি নিষ্ঠার সহিত কর্তব্য সম্পাদন করিব। আমি যাহা কিছু অন্যায় ও অশুভ তাহা হইতে বিরত থাকিব এবং জ্ঞাতসারে ক্ষতিকর কোন ওষুধ নিজে গ্রহণ করিব না এবং অপরকে দিব না। আমি আমার সর্বশক্তি দ্বারা আমার পেশার মান উন্নত রাখিব এবং আমার কার্য উপলক্ষে যেসব বিষয় আমার জ্ঞাত হইবে তাহার গোপনীয়তা রক্ষা করিব। আমি সততার সহিত চিকিৎসককে তাহার চিকিৎসা কার্যে সহযোগিতা করিব এবং আমার সেবাধীন রোগীদের কল্যাণে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করিব। ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ ও উন্নত ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যার মাধ্যমে তিনি বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে নার্সিং পেশার উদ্ভাবন করেন।
স্বাস্থ্য ও সেবা/ আন্তর্জাতিক সংবাদ