আপনি জানেন কি ? ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আলতাফ হোসাইন আমি কি জানি আমাদের দেশে কত মানুষ শুধু পানি দিয়ে ইফতার করে? সেহেরীতে খাবার জন্য কিছু থাকে না? কত পরিবারে ঈদের দিনে ভাল রান্না হয় না? কত পরিবারে সন্তানদের ঈদে নতুন জামা কাপড় দিতে পারে না? ঈদের দিনে একটু সেমাই সিন্নি রান্না করতে পারে না? আচ্ছা বলুনতো […]
আপনি জানেন কি ?
ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আলতাফ হোসাইন
আমি কি জানি আমাদের দেশে কত মানুষ শুধু পানি দিয়ে ইফতার করে?
সেহেরীতে খাবার জন্য কিছু থাকে না?
কত পরিবারে ঈদের দিনে ভাল রান্না হয় না?
কত পরিবারে সন্তানদের ঈদে নতুন জামা কাপড় দিতে পারে না?
ঈদের দিনে একটু সেমাই সিন্নি রান্না করতে পারে না?
আচ্ছা বলুনতো সিডনীতে আমাদের বাসায় কত আইটেম রান্না করা হয়? আর কত খাবারের অপচয় আমরা করি? আমাদের বাচ্চারা কত খাবার নষ্ট করে?
আসুন এই রমাদানে বাংলাদেশের অসহায় মানুষের জন্য কিছু করি—
রমাদান মাসে বেশি বেশি নফল দান-সাদকাহ কার উচিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সবচেয়ে বেশি দানশীল ব্যক্তি। আর রমাদান আসলে তিনি আরো বেশি দানশীল হতেন। হাদীসে এসেছে, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধন সম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সকলের চেয়ে দানশীল ছিলেন। রমাদানে জিবরীল আলাইহিস সালাম যখন তাঁর সাথে দেখা করতেন, তখন তিনি আরো অধিক দান করতেন। রমাদান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাতেই জিবরীল তাঁর একবার সাক্ষাৎ করতেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কুরআন শোনাতেন। জিবরীল যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি রহমত প্রেরিত বায়ূর চেয়ে অধিক ধন-সম্পদ দান করতেন”। তাই সামর্থবানদের উচিত পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, গরীব-দু:খী সবাইকে সাধ্যমত দান-সাদকা দিয়ে সহযোগিতা করা। আমরা প্রতি বছর এর ন্যায় আপনাদের কাছে সমাজের এই অসহায় গরিব মিসকিনদের জন্য আপনার আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করছি।
আমরা প্রতি বছর রমাদানে দেশের অসহায় পরিবারদের জন্য ইফতার, সেহরী এবং ঈদ উদ্যাপনের জন্য আর্থিক সহায়তার আয়োজন করে থাকি। যারা এ কাজে শরিক হতে চান তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমরা মোট ১০০টি পরিবারের জন্য সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। এবার আসুন নিয়্যত করি এই রমাদানে কয়টি পরিবারের জন্য দায়িত্ব নিতে পারি। এক মাসের জন্য ইফতার প্রতি পরিবার = ১০০ ডলার ঈদ উদযাপন প্রতি পরিবার = ১০০ ডলার। নিজ পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনদের পিছনে শুধু টাকা ব্যয় করলেই চলবে না। দেশের গরীব, অসহায়, ইয়াতিম, বিধবা, পঙ্গ, বৃদ্ধদের জন্যও টাকা ব্যয় করতে হবে।
গত রমাদানে আমরা আল্লার অশেয মেহেরবানিতে যে কাজ গুলো করতে পেরেছিলাম তার কিছু বর্ণনা ও ছবি তুলে ধরা হলোঃ
১. একটি গরীব পরিবারকে কাপড় ও ঈদ-বাজার সামগ্রী। ঈদ বাজার সামগ্রী বলতে, ২ কেজি করে পোলার চাল, সয়াবিন তেল, চিনি ও ২ প্যাকেট সেমাই ও একটি সাবান ও কিছু গরম মসলা। আর কাপড় দেয়া হয়েছে, মহিলার জন্য থ্রি-পিছ
২. মেয়ের জন্য থ্রি-পিছ, ছেলে ও তার বাবার জন্য পাঞ্জাবী। এই পরিবারের ২ ছেলে মেয়ে মাদরাসায় হেফজ করছে। কর্তা ব্যক্তিটি সবজি বিক্রয় করে সংসার চালায় ও মহিলা অন্যের বাসায় কাজ করে। পর্দা করে মা মেয়েরা। কাপড়ের সাথে তাদেরকে এক প্যাকেট ঈদ-বাজার সামগ্রী দেয়া হয়েছে। আর সেমাই রানড়বার জন্য ২০০ টাকা দুধ কেনা বাবদ।
৩. অন্ধ হাফেজে কুরআন এক ব্যক্তি। নাম মোস্তাক। মাকে নিয়ে থাকে। তার জন্য একটি লুঙ্গি ও তার মায়ের জন্য একটি শাড়ি। আর তার জন্য এক প্যাকেট ঈদ-বাজার সামগ্রী। আর ঈদের খরচ বাবদ আরো ৫০০ টাকা রেখেছি এর জন্য।
৪. আরেক অসহায় পরিবারকে এক প্যাকেট ঈদ-বাজার সাগ্রী। মহিলা অন্যের বাসায় কাজ করে। মহিলা পর্দানশীন, নামাযী। সাথে ২০০ টাকাও দেয়া হয়েছে।
৫. দুইটি পরিবারকে ঈদ-বাজার সামগ্রী প্রদান। ওরা নামাজি। একটি ছেলের বাবা বিডিআর বিদ্রোহে সরকারী নির্যাতনের শিকার হয়ে জেলে। পরিবারটি খুব অসহায় জীবন যাপন করছে। আরেকটি পরিবারের আরও শোচনীয়।
আমাদের কাছে আপনার দানের টাকা পাঠাতে পারেন নিচের একাউন্টেঃ
BSB: 062191 A/C: 1057 9689 – Commonwealth Bank, Australia.
Conatct: Enginner Altaf Hossain, Mobile : 0430594661
Email: altaf_duet@yahoo.com
যারা দেশের একাউন্টে টাকা জমা দিতে চান আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে দেশের একাউন্ট জানিয়ে দেয়া হবে।
আয়জনেঃ ইসলামী বেতার সিডনী প্রচারিত হয় এফ,এম ৮৭.৬। প্রতি রবিবার মাগরিবের নামাজের পর।



