নাইম আবদুল্লাহ: গত ১০ই অক্টোবর (শনিবার)আসন্ন দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে ক্যানেবেরার হোলি ট্রিনিটি স্কুলেরহলে বেঙ্গলি কালচারাল এসোসিয়েশান ক্যানবেরার উদ্যোগেঅনুষ্ঠিত হল এক মনোজ্ঞ “আগমনী” আয়োজন। এইআয়োজনের অন্যতম প্রধান উপস্থাপনায় ছিল সিডনি থেকেআগত “ধ্বনিল আহ্বান”। “ধ্বনিল আহ্বান”-এর গ্রন্থনায় ছিল মূলত শরৎকাল, বাংলার সনাতন মাতৃরূপ এবং উৎসবেরপেছনের সত্য ও সুন্দরের অধিষ্ঠানের কথা। অনুষ্ঠানের গ্রন্থনাকার নীলাঞ্জনা সিনহা শুরুতেই বলেছেন—“শুধু রবীন্দ্রনাথের […]
নাইম আবদুল্লাহ: গত ১০ই অক্টোবর (শনিবার)আসন্ন দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে ক্যানেবেরার হোলি ট্রিনিটি স্কুলেরহলে বেঙ্গলি কালচারাল এসোসিয়েশান ক্যানবেরার উদ্যোগেঅনুষ্ঠিত হল এক মনোজ্ঞ “আগমনী” আয়োজন। এইআয়োজনের অন্যতম প্রধান উপস্থাপনায় ছিল সিডনি থেকেআগত “ধ্বনিল আহ্বান”। “ধ্বনিল আহ্বান”-এর গ্রন্থনায় ছিল মূলত শরৎকাল, বাংলার সনাতন মাতৃরূপ এবং উৎসবেরপেছনের সত্য ও সুন্দরের অধিষ্ঠানের কথা।
অনুষ্ঠানের গ্রন্থনাকার নীলাঞ্জনা সিনহা শুরুতেই বলেছেন—“শুধু রবীন্দ্রনাথের বাণী ও সুরে একটা আস্ত আগমনী অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ কতটা সফল হবে তা নিয়ে আমার নিজের মধ্যেই খানিকটা সংশয় ছিল। ভরসা জুগিয়েছিলেন কবিগুরু স্বয়ং! জানতাম যা চাইছি সব তিনি কোথাও না কোথাও ঠিক লিখে গেছেন। শুধু খুঁজে নিতে হবে। সে কাজে আমরা কতটা সফল হয়েছি তার বিচারের ভার রইল শ্রোতাদের ওপর”। ঠাস বুননের এই আগমনী আয়োজনের পুরো সময়ে শ্রোতাদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি পরিবেশনার সফলতার সাথে সাথে ভিন্নস্বাদের কাজ এবং রবীন্দ্রনাথের চিরায়ত গ্রহনযোগ্যতাও প্রমাণ করেছে ।
অনুষ্ঠান শুরু হয় সমবেত কণ্ঠে ব্রহ্মসঙ্গীত—“এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার” দিয়ে। গানের সাথে সঙ্গতি রেখে ছিল রবীন্দ্র কবিতা ও প্রবন্ধ থেকে পাঠ। মালা ঘটকচৌধুরীর চমৎকার স্বতন্ত্র কণ্ঠে যেমন শোনা গেল বহুশ্রুত চিরায়ত কবিতা “প্রভাত সঙ্গীত” (“হৃদয় আজি মোর কেমনে গেল খুলি”) আবার সেই সাথে একদম অশ্রুত কবিতা “শারদা”। সমবেত উপস্থাপনায় আলাদা করে উল্লেখের দাবী রাখে শরতের চিরন্তন গান “আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ”, ব্রহ্মসঙ্গীত “বিপুল তরঙ্গে রে” এবং রবীন্দ্রনাথের প্রায় অশ্রুত একটি গান “জননীর দ্বারে আজি ওই শুনো গো শঙ্খ বাজে”! একক সঙ্গীত পরিবেশায়—ও ছিল বৈচিত্রের ছোঁয়া । পূজা পর্যায়ের গান শোনালেন অনন্যা অনিন্দিতা “আকাশ জুড়ে শুনিনু ওই বাজে” এবং সেতু গুপ্ত “তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে”, শরতের গান “তোমার মোহন রূপে কে রয় ভুলে” শোনা গেল নীলাঞ্জনা সিনহার কণ্ঠে, আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের “অয়ি ভুবনমনমোহিনী” শোনালেন মীনাক্ষী চক্রবর্তী । পুরো উপস্থাপনায় বাণী এবং সুরের যথার্থ সমন্বয়ের সাথে আলাদা করে উল্লেখ করতে হবে যন্ত্রশিল্পের সাহচর্যের কথা। তবলায় অসামান্য সঙ্গত করেছেন সাকিনা আক্তার। মন্দিরায় ছিলেন প্রবীন প্রাজ্ঞ শিল্পী লোকামান হাকিম। ১১ বছরের নীলাদ্রি চক্রবর্তী কী-বোর্ড সঙ্গতের পাশাপাশি সঙ্গীতে কন্ঠ দিয়েছেন। নীলাদ্রির নবীন কন্ঠের একক পরিবেশনা অসামান্যব্রহ্মসঙ্গীত “মোরে ডাকি লয়ে যাও মুক্তদ্বারে তোমার বিশ্বের সভাতে” অনুষ্ঠানের এক পরম প্রাপ্তি। শব্দ প্রক্ষেপণে ছিলেন এসোসিয়েশানের স্বেচ্ছাসেবী সৌম্য ব্যানার্জী ।
অনুষ্ঠানের গ্রন্থনায় বলা হয়েছিল কবিগুরুর কথা— “উৎসবের মধ্যে মিলন চাই। একলার উৎসব হইলে চলে না। উৎসবের দিনে আমরা যে সত্যের নামে বহুতর লোকে সম্মিলিত হই তাহাই আনন্দ, তাহাই প্রেম”। উৎসবের আয়োজনে যে এমনটাই হবার কথা, উৎসব যে ধর্মের, বিশ্বাসের, বয়সের সব বিভেদের সম্পূর্ণ উর্ধ্বে “ধ্বনিল আহ্ববান” সত্যি হয়ত সেটা প্রমান করতে পেরেছে।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এসোসিয়েশনেরসভাপতি ডঃ দেবাশীষ রাহা অসামান্য এই উপস্থাপনার জন্যেশিল্পীদের ফুলেল শুভেচ্ছার সাথে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।