ব্যাপক উচ্ছ্বাস আর আনন্দ-উদ্দীপনার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছেন ব্রিসবেনপ্রবাসী বাংলাদেশিরা । জন্মভূমি ছেড়ে এলেও ব্রিসবেনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণের উচ্ছ্বাসে যেন এক টুকরো বাংলাদেশই ফুটে উঠেছিল বাংলা বর্ষবরণ ১৪২১ উৎসবে। ১২ এপ্রিল দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিসবেন (ব্যাব)। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের আয়োজন বড় পরিসরে হওয়ায় বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্দীপনা ছিল […]
ব্যাপক উচ্ছ্বাস আর আনন্দ-উদ্দীপনার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছেন ব্রিসবেনপ্রবাসী বাংলাদেশিরা । জন্মভূমি ছেড়ে এলেও ব্রিসবেনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণের উচ্ছ্বাসে যেন এক টুকরো বাংলাদেশই ফুটে উঠেছিল বাংলা বর্ষবরণ ১৪২১ উৎসবে। ১২ এপ্রিল দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিসবেন (ব্যাব)। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের আয়োজন বড় পরিসরে হওয়ায় বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্দীপনা ছিল ব্যাপক। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠান বিরতিহীনভাবে চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। একক ও দলীয় নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, ছড়া, ফ্যাশন শো, একক ও দলীয় গান ছাড়াও ছিল অস্ট্রেলিয়াখ্যাত বাংলা ব্যান্ড দ্য ক্রুর পরিবেশনা।শহরের স্ট্রাইটপাইন কমিউনিটি হলে সকাল ১১টার কিছু পর থেকেই আসতে শুরু করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। নারীরা পরেন বিভিন্ন রংয়ের শাড়ি আর পুরুষরা রঙিন পাঞ্জাবি। শিশুদের মুখে ছিল রং বেরঙের আলপনা। অনুষ্ঠানস্থলে ছিল নানা রকম দেশি মিষ্টি, পান্তা ইলিশ ছাড়াও বাঙালি বিভিন্ন পদের খাবারের স্টল। এছাড়া মেলায় বাঙালি পোশাক ও কারুপণ্যের স্টল ছিল ১৫টি। শিশুদের পরিবেশনায় মেঘের কোলে রোদ হেসেছে বাদল গেছে টুটি গানের কোরাস দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। পরে বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় শিশুদের ফ্যাশন শোতে। ব্রিসবেনে বর্ষবরণ উত্সবে ফ্যাশন শোএরপর বাংলাদেশর বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিবসের রংয়ের ওপর ভিত্তি করে পোশাক পরে মঞ্চে আসেন মডেলরা। প্রথমে তাঁরা অমর একুশের সাদা-কালো পোশাক পরে র্যাম্প করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের লাল সবুজ রংয়ের পোশাক পরে মঞ্চে আসেন তাঁরা। শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাঅনুষ্ঠানের এই পর্যায়ে পরিবেশিত হয় বেশ কয়েকজন শিল্পীর একক গান। তাঁরা রবীন্দ্র সংগীত, লালন গীতি, আধুনিক বাংলা গানসহ পুরানো দিনের জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করেন। এছাড়াও গানের ফাঁকে ফাঁকে বেশ কয়েকটি ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশত হয়। সিডনির বিখ্যাত বাংলা ব্যান্ড দ্য ক্রু মঞ্চে আসে গোধূলির শেষবেলায়। প্রায় ১২শ দর্শকের তুমুল করতালির মাধ্যমে গান শুরু করে ব্যান্ড দল। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে জনপ্রিয় এক ডজনের বেশি গান পরিবেশন করেন তাঁরা। সারা দিনের হৈ চৈ আর নাচ গানের ক্লান্তির পরও পরস্পরকে আগামী বছরের শুভ কামনায় বিদায় জানায় আগতরা। তখন ঘড়ির কাঁটা রাত ১০টা ছুঁই ছুঁই। আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতা করেছে ফুড সিটি, বেঙ্গল কিচেন, নোলক ফ্যাশন, টাইম হলিডেসহ বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি মালিকানার প্রতিষ্ঠান।