লেখক, প্রকাশক, গবেষক ও প্রচ্ছদশিল্পী সিকদার আবুল বাশার মারা গেছেন। গতকাল দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বাংলাবাজার নিউ নভেল পাবলিকেশনের প্রকাশক মো. হারুন অর রশীদের সাথে চা-চক্রের সময় হঠাৎ তার বুকে ব্যথা অনুভব করার পর সহকর্মীরা সাথে সাথে তাকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার […]
লেখক, প্রকাশক, গবেষক ও প্রচ্ছদশিল্পী সিকদার আবুল বাশার মারা গেছেন। গতকাল দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বাংলাবাজার নিউ নভেল পাবলিকেশনের প্রকাশক মো. হারুন অর রশীদের সাথে চা-চক্রের সময় হঠাৎ তার বুকে ব্যথা অনুভব করার পর সহকর্মীরা সাথে সাথে তাকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির রাজধানী শাখার যুগ্ম সম্পাদক মো. কাওসার আলম কাঞ্চন অস্ট্রেলিয়া থেকে শোক প্রকাশ করে জানান, ‘আবুল বাশার ভাইরের সাথে আমার খুবই সখ্যতা ছিল। আমাদের দু’জনের প্রকাশনী দোকানটি পাশাপাশি ছিল। তিনি অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলেন।’
সিকদার আবুল বাশার একজন লেখক, প্রকাশক ও গবেষক। তিনি পশ্চিমবঙ্গের, মুর্শিদাবাদ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাশার বামপন্থী ও ধর্ম নিরপেক্ষতার জন্য পরিচিত। তার জন্ম ১৯৬৫ সালে ঝালকাঠি জেলার। ন্যায়বিচারের জন্য তিনি অত্র এলাকায় ‘মুন্সি মিঞা’ নামে পরিচিত ছিলেন। ১৯৯০ সালে তিনি শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করেন।
কর্মজীবন শুরু বাংলাবাজারের একটি বইয়ের দোকানে। পরবর্তীতে সিকদার আবুল বাশার গতিধারা প্রকাশনী গড়ে তুলেন। এ পর্যন্ত গতিধারা প্রকাশনা সংস্থা থেকে ইতিহাসভিক্তিক, মুক্তিযুদ্ধ, লোকসংস্কৃতি, গবেষণা, প্রবন্ধ, জীবনী, উপন্যাস, গল্প, কবিতা, শিশুতোষ ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে প্রায় দেড় সহস্রাধিক।
সিকদার আবুল বাশার তাঁর সৃজনশীল কর্মের জন্য জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের ২০০১, ২০০২, ২০০৩ সালে শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদশিল্পীর পুরস্কার এবং সেরা মানের গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ২০০৮ সালে বাংলা একাডেমি কর্তৃক অমর একুশে গ্রন্থমেলা পুরস্কার পান।
এছাড়া ২০১২ সালে ডিসেম্বর জাতীয় কবিতা পরিষদ-বরিশালের উদ্যোগে প্রকাশনায় বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় তিনি তাঁর মহৎকর্মের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা পেয়েছেন। গবেষণা ও সাফল্য গাঁথার উপর ভিত্তি করে কয়েকটি টিভি চ্যানেলে তাঁর সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছে।
সিকদার আবুল বাশারের সৃজনশীল ও মহৎ কর্মের জন্য প্রবন্ধ-নিবন্ধে অনেক বিশিষ্টজন মূল্যায়ন করেছেন। তাঁর সম্পর্কে বিশিষ্ট রাষ্টবিজ্ঞানী ড. মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেছেন, ‘সিকদার আবুল বাশার কেবল একজন পুস্তক প্রকাশকই নন, একজন সৃজনশীল মানুষও। তিনি সবসময় কর্মযোগী থাকেন’।
বাংলাদেশ পুস্তক প্রাকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কেন্দ্রীয় পরিচালক ছিলেন। সিকদার আবুল বাশার বহুবিধ গুণে গুণান্বিত একজন মানুষ। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও এক কন্যা রেখে গেছেন। সিকদার আবুল বাশারের দাফন আজ সন্পন্ন হলো।