নতুন আশা নতুন প্রাণ, নতুন সুরে নতুন গান। নতুন জীবনের নতুন আলো, নতুন বছর কাটুক ভালো। শুভ নববর্ষ নতুন বছর শুরু হওয়ায় সবাইকে নবধারা পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। নতুন বছর মানেই নতুন আনন্দ আর নতুন পরিকল্পনা। আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিয়ে গেল ২০১৯ সাল। শুভ নববর্ষ… স্বাগত-২০২০। আজ আনন্দে মাতছে পুরো বিশ্ব, হ্যাপি […]
৫ মিনিটে পড়ুন |
নতুন আশা নতুন প্রাণ, নতুন সুরে নতুন গান। নতুন জীবনের নতুন আলো, নতুন বছর কাটুক ভালো। শুভ নববর্ষ
নতুন বছর শুরু হওয়ায় সবাইকে নবধারা পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। নতুন বছর মানেই নতুন আনন্দ আর নতুন পরিকল্পনা। আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিয়ে গেল ২০১৯ সাল। শুভ নববর্ষ…
স্বাগত-২০২০। আজ আনন্দে মাতছে পুরো বিশ্ব, হ্যাপি নিউ ইয়ার। আমাদের উচিত পুরনো দিনের দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি, হতাশা, ব্যর্থতা- সব কিছু ভুলে গিয়ে সামনের দিকে এগোনোর দৃঢ় প্রত্যয়ে অটুট থাকা। আমরা সুন্দর একটা আগামী চাই।
কীভাবে এলো ইংরেজি নববর্ষ?
প্রকৃত অর্থে আমরা যে ইংরেজি সাল বা খ্রিস্টাব্দ মেনে চলি তা হলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ইংরেজি নববর্ষ পালন করা হয়। এই ক্যালেন্ডার নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক। এখানকার মতো আগে সর্বজনীনভাবে ১ জানুয়ারি নববর্ষের প্রচলন ছিল না। বর্তমানের যে ক্যালেন্ডার তাতে পৌঁছাতে কয়েকশ বছর সময় লেগেছে।
ইতিহাস বলছে, মানুষ প্রথমদিকে চাঁদের হিসাবেই নতুন বর্ষ গণনা শুরু করে। চাঁদের হিসাবে ১০ মাসে বছর হতো। সেখানে ঋতুর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। সূর্যের হিসাবে বা সৌর গণনার হিসাব আসে অনেক পরে। সৌর এবং চন্দ্র গণনায় আবার পার্থক্য রয়েছে।
সৌর গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে। প্রায় ৪ হাজার বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ খ্রিস্টাব্দে মেসোপটেমীয় (ইরাক) সভ্যতায় প্রথম বর্ষবরণ উৎসব চালু হয়েছিল। সে সময় বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই পালন করা হতো এই বর্ষবরণ। তবে সেটা কিন্তু এখনকার মতো জানুয়ারির ১ তারিখে পালন করা হতো না। তখন নববর্ষ পালন করা হতো বসন্তের প্রথম দিনে।
বসন্তকালে প্রকৃতির নতুন করে জেগে ওঠাকেই তারা নতুন বছরের শুরু বলে চিহ্নিত করেছিল। তখন তারা চাঁদ দেখেই বছর গণনা করত। যেদিন বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠত, শুরু হতো তাদের বর্ষবরণ উৎসব, চলত টানা ১১ দিন। এই ১১ দিনের আবার আলাদা আলাদা তাৎপর্যও ছিল।
ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পর জাঁকজমক করে নববর্ষ পালন করা শুরু করে রোমানরা। সম্রাট রোমুলাসই ৭৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অবশ্য এই ক্যালেন্ডারও চাঁদ দেখেই বানানো হয়েছিল। আর সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ ছিল ১ মার্চ।
সেই ক্যালেন্ডারে মাস ছিল মাত্র ১০টা। পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে যোগ করেন। সমস্যা ছিল আরো, রোমানদের ক্যালেন্ডারে তারিখও ছিল না। ধীরে ধীরে চাঁদের বেড়ে ওঠার ছবি দিয়ে তারা মাসের বিভিন্ন সময় চিহ্নিত করত। চাঁদ ওঠার সময়কে বলা হতো ক্যালেন্ডস, পুরো চাঁদকে বলত ইডেস, চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলত নুনেস।
পরে সম্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন ঘটান। তিনি ক্যালেন্ডস, ইডেস, নুনেসের ঝামেলা শেষ করে বসিয়ে দেন তারিখ। ফলে বছরে মোট ৩৫৫ দিন হয়। যেহেতু চাঁদের হিসাবে প্রতিমাসে দিন হয় সাড়ে ২৯। আর তাই চাঁদের হিসাব করায় তাদের বছরে ১০ দিন কম থেকে গিয়েছিল। এভাবে বছর হিসাবের ফলে চাষিরা সমস্যায় পড়ে যায়। পরে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে সম্রাট জুরিয়াস সিজার চাঁদের হিসাব না করে, সূর্য দিয়ে হিসাব করে বছরকে ৩৬৫ দিনে এনে এই সমস্যার সমাধান করেন।
অনেকে বলেন, সেই সময়ে সূর্য দেখে প্রথমে ৩৬৫ দিনের নয়, ৪৪৫ দিনের ক্যালেন্ডার বানানো হয়েছিল! রোমান সম্রাট জুলিয়ান সিজার লিপইয়ার বছরেরও প্রচলন করেন। জুলিয়াস সিজার আলেকজান্দ্রিয়া থেকে গ্রিক জ্যোতির্বিদ মোসাজিনিসকে নিয়ে আসেন ক্যালেন্ডার সংস্কারের জন্য।
মোসাজিনিস দেখতে পান পৃথিবী সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা। ৩৬৫ দিন বছর হিসাব করা হলে এবং প্রতি চতুর্থ বছরে ৩৬৬ দিনে বছর হিসাব করলে হিসাবের কোনো গরমিল হয় না। আর তাই মোসাজিনিস অতিরিক্ত একদিন যুক্ত করে এ বছরটির নাম করেন ‘লিপইয়ার’।
যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৬০০ বছর আগে, অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে ঠিক করা হয়েছিল বর্ষবরণ হিসেবে পালন করা হবে ২৬ মার্চ তারিখটি। কিন্তু সেটা ঠিকভাবে মানা হচ্ছিল না। পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস যখন জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে স্থান দেন, তিনি ঠিক করে দেন জানুয়ারির ১ তারিখ হলো বছরের প্রথম দিন। ওইদিনই হবে বর্ষবরণ। কিন্তু সে কথাও মানা হলো না।
রোমানরা সেই আগের মতো মার্চের ১ তারিখেই বর্ষবরণ উৎসব করতে লাগলেন। পরে জুলিয়াস সিজার যখন ৩৬৫ দিনে বছরের ঘোষণা দেন, তখন আবার বলে দেন মার্চে নয়, বছর শুরু হবে জানুয়ারির ১ তারিখে। উৎসবও সেইদিনই হবে। এরপরই বর্ষবরণ উৎসব মার্চ মাস থেকে চলে এলো জানুয়ারিতে।
সেই সময়ে রোমান সাম্রাজ্যে এই ক্যালেন্ডার নিয়ে অনেক রকম ঝামেলা হয়েছিল। আর তাই কবে যে নতুন বছর শুরু হবে, সেটা ঠিকই করা যাচ্ছিল না। একেক সময় একেক জায়গায় একেক দিন নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে পালিত হতো।
সিজারের ক্যালেন্ডারেও বেশকিছু সমস্যা ছিল। এই সমস্যার সমাধানে মাত্র ৪০০ বছর আগে ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পরামর্শ নিয়ে ক্যালেন্ডারটির সংস্কার করেন। তারই নাম অনুসারে ক্যালেন্ডারটির নামকরণ করা হয়েছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার।
আর এটি বের করার পর এর সুবিধার কারণে আস্তে আস্তে সব জাতিই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করে। ফলে আগে যারা নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্ষবরণ উৎসব পালন করত, তারাও এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জানুয়ারির ১ তারিখই নববর্ষ হিসেবে পালন করে।
গ্রেট ব্রিটেনে এই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রচলিত হয় ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে। আর এই ক্যালেন্ডার আমাদের দেশে নিয়ে আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে। আমরাও পহেলা বৈশাখের পাশাপাশি প্রতিবছর ১ জানুয়ারিতেও বর্ষবরণ করি।
এদিকে ইংরেজি নববর্ষ পালনে ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন ইসরায়েল গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করলেও নববর্ষ পালন করে না। কারণ বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী অ-ইহুদি উৎস হতে উৎপন্ন এই রীতি পালনের বিরোধিতা করে থাকে। আবার কিছু দেশ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারকে গ্রহণই করেনি। যেমন- সৌদি আরব, নেপাল, ইরান, ইথিওপিয়া ও আফগানিস্তান। এসব দেশও ইংরেজি নববর্ষ পালন করে না।