মাঈনুল ইসলাম নাসিম : ঢাকায় ইতালীয় দূতাবাসের নিয়োগকৃত বৈধ ‘ভিসা-এজেন্সি’ ভিএফএস গ্লোবালের যাবতীয় ‘অবৈধ’ কার্যকলাপের দায়ভার বাংলাদেশ ও ইতালী উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কেই নিতে হবে – এমনটাই সুষ্পষ্টভাবে জানিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইতালী প্রবাসী বাংলাদেশীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাবেক সিনিয়র কূটনীতিকেরও একই অভিমত। ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও পাসপোর্ট ডেলিভারিকে ঘিরে প্রবাসীদের নিরীহ পরিবার পরিজনদের কাছ থেকে যেভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ‘ভিএফএস গ্লোবাল’, তাতে ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।
ভিএফএস গ্লোবালের অবৈধ এজেন্ট কাম দালালদের কাছ থেকে লাখ টাকার বিনিময়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে কাগজপত্র জমা হবার পর ছয় মাস নয় মাস অতিবাহিত হলেও পাসপোর্ট ডেলিভারির নামগন্ধ খুঁজে না পাওয়া অনেকেই এখন ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাস ও ভিএফএস গ্লোবালের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও ইতালী উভয় দেশের আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে অনেকেই বাংলাদেশ ও ইতালীতে প্রভাবশালী আইনজীবিদের শরণাপন্ন হয়েছেন। সোজা আঙুলে ঘি আর উঠবে না, এমনটা অবশ্য বেশ আগেই নিশ্চিত হন ইতালী প্রবাসী শত শত ভিক্টিম ও তাদের পরিবারের লোকজন।
অন্যদিকে ভিএফএস গ্লোবালের চলমান ‘ক্রাইম’ গুলশান দুই নম্বরে অবস্থিত ইতালীয় দূতাবাসের চার দেয়ালের বাইরে ঘটলেও যেহেতু অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বনানীর রাসেল পার্কে তথা বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমারেখার ভেতরে, তাই ঢাকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কেই এ ব্যাপারে সবার আগে জবাবদিহি করতে হবে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও ইতালীয় দূতাবাসের লোকজন ছাড়াও সেগুনবাগিচাস্থ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ভিএফএস গ্লোবালের ভাগ-বাটোয়ারার অংশীদার বলেই কোটি কোটি টাকার ‘মাফিয়া বিজনেস’ চলছে পুরোদমে।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, উত্তরে আল্পস পর্বতমালা থেকে শুরু করে দক্ষিণে সিসিলি দ্বীপ পর্যন্ত প্রায় দুই লক্ষাধিক বাংলাদেশির বসবাস গোটা ইতালী জুড়ে। অর্থনৈতিক মন্দা সত্বেও বাংলাদেশ থেকে তাদের পরিবার পরিজনদের দেশটিতে আসা থেমে নেই। গত কয়েক বছর ধরে ‘সিজনাল জব’ ভিসায় বাংলাদেশের কোটা স্থগিত থাকলেও অন্যান্য ক্যাটাগরিতে বহু বাংলাদেশীকে প্রতি মাসেই শরণাপন্ন হতে হয় ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাসের। কিন্তু ভিসা প্রক্রিয়াজাতকরণের ‘ইজারা’ নেয়া ‘লুটপাট কোম্পানি’ ভিএফস গ্লোবালের কাছে বাধ্যতামূলক আত্মসমর্পন করতে হচ্ছে আমজনতাকে, যা দেখেও না দেখার ভূমিকায় উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।