মাঈনুল ইসলাম নাসিম : ঢাকাস্থ ইতালীয়ান দূতাবাসের নিয়োগকৃত এজেন্সি ‘ভিএফএস গ্লোবাল’ কর্তৃক ভিসা আবেদনকারীদের হয়রানি-ভোগান্তি কমার কোন লক্ষণ দেখছেন না স্বয়ং রোমে দায়িত্বরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহদৎ হোসেন। প্রবাসীদের বহুদিনের অভিযোগ এখনো একটুও কমেনি বলেই মনে করছেন পেশাদার এই কূটনীতিক। ২ জুলাই বৃহষ্পতিবার এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় রাষ্ট্রদূত শাহদৎ হোসেন ঢাকায় চলমান সংকট মোকাবেলায় ইতালীতে […]

মাঈনুল ইসলাম নাসিম : ঢাকাস্থ ইতালীয়ান দূতাবাসের নিয়োগকৃত এজেন্সি ‘ভিএফএস গ্লোবাল’ কর্তৃক ভিসা আবেদনকারীদের হয়রানি-ভোগান্তি কমার কোন লক্ষণ দেখছেন না স্বয়ং রোমে দায়িত্বরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহদৎ হোসেন। প্রবাসীদের বহুদিনের অভিযোগ এখনো একটুও কমেনি বলেই মনে করছেন পেশাদার এই কূটনীতিক। ২ জুলাই বৃহষ্পতিবার এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় রাষ্ট্রদূত শাহদৎ হোসেন ঢাকায় চলমান সংকট মোকাবেলায় ইতালীতে তাঁর এবং তাঁর দূতাবাসের অবস্থান ব্যাখ্যা করছিলেন।
রাষ্ট্রদূত শাহদৎ হোসেন জানান, “এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশীরা বহুবার আমাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশে তাদের পরিবার-পরিজনের ভোগান্তির কথা। তাদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে যে হাজার হাজার এমনকি লাখ লাখ টাকা আদায় করে আসছে ঢাকার ভিএফএস গ্লোবালের লোকজন, তারও অনেক তথ্য-প্রমাণ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্রায়ই আমাদের দূতাবাসে শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমিও বহুবারই এখানকার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছি”। এতোবার জানানো সত্বেও বরফ কেন গলছে না, জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেই বললেন, “রোম থেকে আমার বা আমাদের দূতাবাসের করণীয় এ ক্ষেত্রে খুবই সীমিত”।
ঢাকাস্থ ইতালীয়ান দূতাবাসের নাকি জনবল সংকট, এমনটা তাঁকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত শাহদৎ হোসেন। তবে তিনি মনে করেন, “বাংলাদেশে ভিএফএস গ্লোবালের ভালো-মন্দ সবকিছু দেখভালের দায়িত্ব ঢাকাস্থ ইতালীয়ান দূতাবাসেরই”। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের যে অপকর্ম বা অপরাধটি ভিএফএস বা তাদের লোকজন করে আসছে, তা বন্ধে কূটনৈতিকভাবে কার্যকর আরো কিছু করার আছে কি-না জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, “ভিএফএস যা করছে তা অপরাধ কি অপরাধ নয়, একজন ডিপ্লোম্যাট হিসেবে এ ব্যাপারে আমি সরাসরি কোন মন্তব্য করতে চাই না”।
ঢাকাস্থ ইতালীয়ান দূতাবাসের নিয়োগকৃত এজেন্সি’র অবৈধ বানিজ্য বন্ধে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়বদ্ধতা কতটুকু জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত শাহদৎ হোসেন জানান, “হাঁ, এটা ঠিক যে, প্রবাসী বাংলাদেশীদের এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব”। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, ভিএফএস গ্লোবালের ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কোন হদিস পাওয়া না গেলেও তাদের এজেন্টরা ভিসা আবেদনকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি লাখ টাকার বিনিময়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের এই অবৈধ বানিজ্যটি করে আসছে স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে। ঢাকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এখানটায় নির্বিকার ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইতালীর বিভিন্ন শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদ