Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ nobodharanews

প্রবন্ধ
১১:১০ পিএম, ৫ জানুয়ারি ২০১৯

এমন এই সংস্কৃতির ধারায় যেন শীতের কুয়াশা ভরা চাঁদের আলোয়….

এমন এই সংস্কৃতির ধারায় যেন শীতের কুয়াশা ভরা চাঁদের আলোয় মৃদু মৃদু বাতাসেই বাড়ির আঙ্গিনাতে বাউলের গান ও বাদ্যযন্ত্রের সুরসহ একতার টানে ও ঢোলির ঢোলের তালের সঙ্গেই বাজে আরও অনেক বাদ্যযন্ত্র। উদাহরণস্বরূপ- তাহলো যেমন, ডুগ ডুগি, ডুগীতবলা, ঝনঝনি, ড্রাম, সাইট ড্রাম, ফুলট, কর্নাট, কংগো এবং আধুনিক যুগের যন্ত্র ক্যাসিও। এইসবই আজকের লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গেই অঙ্গাঅঙ্গিভাবে […]

এমন এই সংস্কৃতির ধারায় যেন শীতের কুয়াশা ভরা চাঁদের আলোয়….
নজরুল ইসলাম তোফা
৩ মিনিটে পড়ুন |

এমন এই সংস্কৃতির ধারায় যেন শীতের কুয়াশা ভরা চাঁদের আলোয় মৃদু মৃদু বাতাসেই বাড়ির আঙ্গিনাতে বাউলের গান ও বাদ্যযন্ত্রের সুরসহ একতার টানে ও ঢোলির ঢোলের তালের সঙ্গেই বাজে আরও অনেক বাদ্যযন্ত্র। উদাহরণস্বরূপ- তাহলো যেমন, ডুগ ডুগি, ডুগীতবলা, ঝনঝনি, ড্রাম, সাইট ড্রাম, ফুলট, কর্নাট, কংগো এবং আধুনিক যুগের যন্ত্র ক্যাসিও।

এইসবই আজকের লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গেই অঙ্গাঅঙ্গিভাবে এক সুতায় গাঁথা। তাছাড়াও জারি, সারি, ভাটিয়ালি, ভাবগান, নৌকা বাইচের গান, মুর্শিদীগান, আলকাপ গানেও এমন লোকজ সংস্কৃতির বাদ্য যন্ত্রের সমন্বয় ঘটিয়ে গ্রামের মানুষেরাই উৎসবে বাজিয়ে গর্ব বোধ করে। আবার এমন লোকজ সংস্কৃতির “বাদ্য” থেকে আলকাপ গানে তারা নিয়ে যায়- আঞ্চলিক গম্ভীরা গানে, তাছাড়াও তারা যোগীগান, মনসারগান, লীলা, রামায়নী, পালা গান ও পট গানে আদিমতম বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে নাচ এবং সঙ্গীতকে শৈল্পিক বলয় তৈরি করে। বিভিন্ন বর্ণ কিংবা ধর্মাবলম্বীদের জীবন বৃত্তে কোন না কোন ভাবেই লোকজ সংস্কৃতির এমন বাদ্যযন্ত্রের শাখা প্রশাখা খোঁজে পাওয়া যায়। তাই- এই লোকজ শিল্পের শিকড়ের গভীরতা মানব সৃষ্টির সূচনা থেকেই বলা চলে।

গ্রামের কিষান-কিষানিরা জীবনোপায়কেই “বাদ্যের সুরে সুরে” জীবনাচারের অনেক ভালবাসাকে তুলে ধরে সারারাত্রি। কলা গাছের তোরণকেই লক্ষ্য করে খরার সময় ”বৃষ্টি” যেন হয়, এই আশায় তারা বৃষ্টিতে ব্যাঙের বিয়ে দিতে পারবে এ ভাবনায় চরম আনন্দে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে উৎসব করে। হিন্দু- ধর্মাবলম্বীরা যেন পুরনো বট পাকুড় গাছের বিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্রবৃন্দ করে বহু বস্তুনিষ্ঠ ধর্মের পরিপূর্ণতায় লোকজ ধারার বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে তারা খুব আনন্দ উল্লাসে মত্ত হয়। বাঙালীর হাজার বছরের এ শিল্প ধারায় তৈরি হয়েছে লোকজের নিজস্ব কাব্য কিংবা নিজস্ব সাহিত্য। যে সাহিত্যতে রস সুধাতেই গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা আজ মহিমান্বিত এবং সমাদৃত। সুতরাং গ্রামীণ জনপদের মানুষের মাঝে খোঁজে পাওয়া যায়- লোকজ ধারার নানা গল্প-কাহিনী, গীতিকাব্য, আঞ্চলিক গীত, লোক সঙ্গীত, গীতিনাট্য, লোকনাট্য, নৃত্যনাট্যের মতো যেন হাজারও লোকজ সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতিতে লোকজ বাদ্য না হলে যেন চলেই না। আসলেই বলা দরকার, শঙ্খধ্বনিও নাকি ‘লোকজ’ সংস্কৃতির একটি সূচনা বাদ্যযন্ত্র।

এই প্রাচীন ‘লোকজ’ বাদ্যে শঙ্খধ্বনির অলঙ্কার যুগ যুগ ধরে লোকজ সংস্কৃতিতে এদেশে ও ভারতবর্ষের গ্রামাঞ্চলের অনেক অঞ্চলে বিরাজমান। যার প্রমাণ প্রাচীন ‘গ্রন্থ’, ‘শিল্প’, ‘সাহিত্য’, “ভাস্কর্য’ ঔ ‘চিত্রশিল্পীর শৈল্পীক চিত্রে’ই উঠে এসেছে। ঝিনুকের তৈরীকৃত এ শঙ্খের ছিদ্র পথে মুখ দিয়ে ফুঁ দিলে মিষ্টি মধুর শব্দ বাহির হয়। আবার গ্রামাঞ্চলের শঙ্খের সঙ্গে নিবিড় সক্ষতার সঙ্গেও ঢাকঢোলের চর্মাচ্ছাদিত বাদ্যযন্ত্রেই যেন আনদ্ধ হয়ে থাকে। টাকডুম টাকডুম আওয়াজ শুনলে তো বুঝাই যায়, এ লোকজ সংস্কৃতির আবহ ছড়িয়ে পড়ছে সমগ্র গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।

‘বাংলা ঢোল’ নামে আরেক বাদ্যযন্ত্র আছে যার শব্দ সাধারণ ঢোলের চেয়েও যেন গম্ভীর। তাছাড়াও যেন ঢোলের চেয়ে ছোট আরেকটি বাদ্যযন্ত্র রয়েছে, যার নাম ঢোলক। এমন ঢোলক বেশির ভাগ ব্যবহৃত হয় ‘নাটক’, ‘যাত্রায়’, ‘গজল’ ও ‘কাওয়ালী’ গানে ঢোলক অনেক অপরিহার্য বাদ্যযন্ত্র। আবার- “ঢোল” একটি প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র। মধ্য যুগের মঙ্গল কাব্যেও ঢোলের উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘ঢোল’ বাদ্যে লাঠি খেলা, হোলি খেলা, নৌকা বাইচ, কুস্তি, কবি গানের আসর, জারি ও ‘সারি’ গান, ‘টপ্পা’ গান, ‘বাউল’ গান, ‘আলকাপ’ ও ‘গম্ভীরা’ গান, ‘যাত্রা’ গান, ‘গাজনের’ গান, মহররমের ‘শোভা যাত্রা’, ‘ছোকরা’ নাচ এবং বিয়ের বরযাত্রাতে বাজিয়ে গ্রামীণ মানুষের ‘লোকজ’ সংস্কৃতির চর্চাকে পরিপক্ব করে তোলে।

হিন্দুদের বিভিন্ন পূ্জাতে “ঢোল” না হলে যেন চলেই না। ”হিন্দু”, ”মুসলমান”, এবং ”আদিবাসী” নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশাদের মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের জন্যেই যেন ঢোল ব্যবহার হয়। যানা যায় যে বেশকিছু বছর আগে সরকারি কোনও আদেশ কিংবা পরোয়ানাতে গ্রামাঞ্চলের হাটেবাজাবে ঢোল কিংবা ঢেড়া পিটিয়ে বিভিন্ন নির্দেশ মুলক কথা ঘোষণা দিয়েছে। সুতরাং, এখন আর এমন ভাবে লোক সংস্কৃতির ব্যবহার হয় না। বাঙপালির বিয়ের অনুষ্ঠানের কথায় যদি আসি তাহলে বলা যায় যে, শানাই ছাড়া বিয়ের কথা ভাবা যায় না। তাই গ্রামীণ লোকজ বাদ্যযন্ত্রের আলোচনা আসলেই স্বল্প পরিসরে শেষ হবার নয়, তবুও গ্রাম্য জনজীবনের একাকিত্ব কিংবা অবসন্ন মনের অলস দুপুরে এক বাঁশিওয়ালার বাঁশিতে ফুঁ দেওয়ার মধ্যে খোঁজে পাওয়া যায়, “লোকজ বাদ্যের সুর”:- ‘পূবাল হাওয়া যায়রে বইয়া ঝিরি ঝিরি ঝির….
উড়াল দিছে সল্লী পংখী ধরলা নদীর তীর।
প্রাণ মোর উড়য়্যা যায়রে…
ঝাউ নাচে, কাউন নাচে, আর নাচে বন
তারে সাথে নাচিয়া ফেরে উদাস করা মন।
প্রাণ মোর উড়য়্যা যায়রে’….

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

ধর্মান্ধের সমাজে বাউল বুঝবে কে?
৭ বছর আগে
আমি ফকিন্নির পুত!!
১২ বছর আগে

Advertise with us
Advertise with us
আরও nobodharanews সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com