Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ nobodharanews

আন্তর্জাতিক
৬:০৫ এএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৫

তুরষ্ক-বাংলাদেশ বিলিয়ন ডলার বানিজ্যে রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমানের সন্তোষ

কামাল আতাতুর্কের দেশ তুরষ্কের সাথে বাংলাদেশের বিলিয়ন ডলারের চলমান বানিজ্য আগামী দিনে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আঙ্কারায় গত সাড়ে ৪ বছর দায়িত্ব পালনকারী রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান। পেশাদার এই কূটনীতিক তুরষ্কের রাজধানীতে ২০১০ সালের শেষ নাগাদ দায়িত্ব গ্রহণের সময় দ্বিপাক্ষিক বানিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র সাড়ে ৪শ’ মিলিয়ন ইউএস ডলার। এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে […]

তুরষ্ক-বাংলাদেশ বিলিয়ন ডলার বানিজ্যে রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমানের সন্তোষ
৩ মিনিটে পড়ুন |

তুরষ্ক-বাংলাদেশ বিলিয়ন ডলার বানিজ্যে রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমানের সন্তোষকামাল আতাতুর্কের দেশ তুরষ্কের সাথে বাংলাদেশের বিলিয়ন ডলারের চলমান বানিজ্য আগামী দিনে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আঙ্কারায় গত সাড়ে ৪ বছর দায়িত্ব পালনকারী রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান। পেশাদার এই কূটনীতিক তুরষ্কের রাজধানীতে ২০১০ সালের শেষ নাগাদ দায়িত্ব গ্রহণের সময় দ্বিপাক্ষিক বানিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র সাড়ে ৪শ’ মিলিয়ন ইউএস ডলার। এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান জানান, “তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আঙ্কারায় সরকারী সফরের পর বন্ধুপ্রতীম দুই দেশের সম্পর্ক গভীর থেকে আরো গভীরতর হয়েছে”।

 রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান বলেন, “টার্কিশদের তুলনায় আমরা ৫ গুণ বেশি এক্সপোর্ট করছি। ট্রেড এন্ড কমার্স ছাড়াও তুরষ্ক-বাংলাদেশ টেকনিক্যাল কো-অপারেশন বেশ ডেভেলপ করেছে। হেলথ্ সেক্টরে এখান থেকে দু’বার টিম গিয়ে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে আমাদের ডাক্তারদের সাথে হসপিটালে কাজ করেছে, অপারেশন করেছে। মিলিটারি কো-অপারেশনতো অনেক পুরনো ও সুপ্রিতিষ্ঠিত আমাদের সাথে। বাংলাদেশ সশস্র বাহিনীর অফিসাররা সবসময় এখানে প্রশিক্ষণে এলেও টার্কিশরা আগে বাংলাদেশে যেতো না। কিন্তু এখন তারা ঢাকায় যাচ্ছে এনডিসি কোর্সে। সব মিলিয়ে খুব ভালো সময় যাচ্ছে বাইল্যাটেরাল রিলেশনে”।
 
বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য আঙ্কারার ডিপ্লোম্যাটিক জোনে তিন বছর আগে সরকারীভাবে যে জমি বরাদ্দ হয়েছিল, সেখানে চলতি বছর কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, ২০১২ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উক্ত স্থানে দূতাবাস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি উদ্বোধন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর বিশেষ ভাস্কর্য। বর্ণাঢ্য ঐ অনুষ্ঠানে তখন এই প্রতিবেদকও উপস্থিত ছিলেন আঙ্কারাতে। রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান আরো বলেন, “আমাদের বড় সন্তুষ্টির বিষয় হচ্ছে ২০১২ সালেই আমরা বানিজ্যিক নগরী ইস্তাম্বুলে একটা কনস্যুলেট অফিস খুলতে পেরেছিলাম। আমাদের এই কনস্যুলেট এখন দুবাইয়ের মতো বা দুবাইয়ের চাইতেও বেশি ব্যস্ত আছে প্রটোকল ও ব্যবসায়িক কাজে”।
 
তুরষ্ক-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক সম্পর্কে অসামান্য অবদান রাখছে ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেট অফিস, এমনটাই জানান অভিজ্ঞ কূটনীতিক জুলফিকার রহমান। ঢাকায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের চলমান প্রতিদিনের ফ্লাইটের বিষয়টিও যোগ করেন রাষ্ট্রদূত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঢাকা-ইস্তাম্বুল প্রতিদিন ফ্লাইট থাকাতে অনেক বাংলাদেশী এখানে আসছেন, বহু টার্কিশ বাংলাদেশে যাচ্ছেন। ব্যবসা-বানিজ্য ট্যুরিজম-ইনভেস্টমেন্ট সব মিলিয়ে ইন্টারেকশনটা এখন অটোম্যাটিক হচ্ছে। টার্কিশ এয়ারলাইন্সের সার্ভিস এবং ইস্তাম্বুলে আমাদের কনস্যুলেট অফিস যেভাবে এগুচ্ছে তাতে করে ৫ থেকে ১০ বছর পর দেখা যাবে টার্কি-বাংলাদেশ সম্পর্কের চিত্রটাই পাল্টে গিয়েছে”।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের পর থেকে গত ৩ বছরে তুরষ্কে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থীদের আগমনও আশাব্যঞ্জক হারে বেড়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান। তিনি বলেন, “আগে এখানে সরকারী স্কলারশিপ পেতো বছরে মাত্র ১০ থেকে ১৫ জন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর এখন প্রতি বছর আসছে ৫০ থেকে ৭০ জন। সরকারী এই স্কলারশিপের বাইরেও প্রতি বছর ২ থেকে ৩শ’ বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী নিজস্ব ফাইনান্সিংয়ে এখানে আসছে”। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, “টার্কির একটি বিষয় এখনো অনেকের কাছেই অজানা। এতো কম খরচে এতোটা কোয়ালিটি এডুকেশন বিশেষ করে মেডিসিন ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আর কোথাও পাওয়া যায় বলে আমার অন্ততঃ জানা নেই। আশার কথা, বাংলাদেশের স্টুডেন্টস এবং তাদের অভিভাবকরা এখন এটা জানতে শুরু করেছে, ফলে সে সুযোগটা তারা ইদানিং নিচ্ছে”।
বর্তমানে প্রায় ৫শ’র মতো বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী তুরষ্কের বিভিন্ন স্থানে অধ্যয়নরত আছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান। প্রায় সাড়ে ৪ বছর আঙ্কারায় দায়িত্ব পালন শেষে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তিনি যোগ দিচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীতে। সিউলের বাংলাদেশ দূতাবাসে সর্বশেষ দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রদূত এনামুল কবির অবসরে যাবার পর সরকার গত জানুয়ারীতেই সিদ্ধান্ত নেয় জুলফিকার রহমানকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করার। আঙ্কারার বিদায়ী রাষ্ট্রদূত এই প্রতিবেদককে বললেন, “আশা করছি সিউলে গিয়েও ভালো কিছু করতে পারবো। কোরিয়ার সাথেও আমাদের সম্পর্ক বেশ ভালো। প্রবাসী কমিউনিটি আছে। দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বানিজ্য বিশেষ করে বাংলাদেশে কোরিয়ান ইনেভেস্টমেন্ট, এটা আরো বাড়াবার সুযোগ রয়েছে”। 
Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

সিডনিতে ‘হারমনি ডে’ উদযাপন
৪ বছর আগে
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ
সিডনিতে ১২তম ‘হোয়াইট রিবন ডে’ অনুষ্ঠিত
৫ বছর আগে
অস্ট্রেলিয়াতে বাবা দিবসের কথা
৫ বছর আগে
প্রাণ হাতে নিয়ে ইউরোপ!
৫ বছর আগে
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ

Advertise with us
Advertise with us
আরও nobodharanews সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com