Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ nobodharanews

আন্তর্জাতিক
৬:১২ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৪

ভারতে প্রেসিডেন্ট শাসনব্যবস্থা চায় বিজেপি

ভারতে বাজপেয়ীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকারের আমলে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট প্রধান শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে জোরালো ওকালতি শুরু হয়েছিল। বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থায় বিজেপির আস্থা নেই। তারা চায় মার্কিন ঘরানার প্রেসিডেন্ট প্রধান শাসন ব্যবস্থা। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভা থাকবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদের সমর্থনে সরকার গঠন হবে না। সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট তার পছন্দমতো […]

ভারতে প্রেসিডেন্ট শাসনব্যবস্থা চায় বিজেপি
২ মিনিটে পড়ুন |

ভারতে বাজপেয়ীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকারের আমলে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট প্রধান শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে জোরালো ওকালতি শুরু হয়েছিল। বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থায় বিজেপির আস্থা নেই। তারা চায় মার্কিন ঘরানার প্রেসিডেন্ট প্রধান শাসন ব্যবস্থা। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভা থাকবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদের সমর্থনে সরকার গঠন হবে না। সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট তার পছন্দমতো সচিব নিয়োগ করবেন এবং তাদের সহায়তায় নিজেই সরকার চালাবেন। লোকসভা ও রাজ্যসভার ভূমিকা গৌণ হয়ে যাবে। অনেকটা একনায়কতন্ত্রী শাসনের পক্ষে সেই সময় জোরালো সওয়াল করেছিল বিজেপি। গণতন্ত্রের বিকাশে এবং প্রসারে যে বিজেপির আস্থা নেই সেই সময়ই তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।
আসলে বিজেপি একটি মনুবাদী দল। হিন্দুত্বই তাদের মতাদর্শে ভিত্তি। জাতি, বর্ণ, ধর্ম, বর্ণের বৈচিত্র্য তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতিকেই তারা ভারতীয় সংস্কৃতি হিসেবে জোর করে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তেমনি ভারতের ইতিহাসকেও তারা হিন্দুত্বের আধারে নতুন করে লিখতে চায়। এমন মৌলবাদী আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে হলে চাই একনায়কতন্ত্রী শাসন। গণতন্ত্রে বহুত্ববাদের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বিজেপি’র কাছে গণতন্ত্র কাক্সিক্ষত ব্যবস্থা নয়।
বর্তমানে নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপি যে পথকে দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করছে সেটা প্রেসিডেন্ট প্রধান ব্যবস্থারই প্রতিলিপি। তাই প্রচারে দলের কোনো গুরুত্ব নেই। ব্যক্তিই হয়ে উঠেছে প্রধান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদিকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে ধীরে ধীরে দলের রাশ চলে গেছে মোদির হাতে। আর কারো মতামত গ্রাহ্য হবে না। মোদির কাছে আত্মসমর্পণ না করলে বা অকপটে আনুগত্য প্রকাশ না করলে ভবিষ্যৎ ঝরঝরে। গোটা দেশে প্রচারের একমাত্র মুখ নরেন্দ্র মোদি।
সংবাদমাধ্যমেও বিজেপির একমাত্র মুখ মোদি। তাকে ঘিরেই সব আলোচনা-সমালোচনা। বিজেপিতে এখন একজনই নেতা। বাকি সব অনুগত ক্যাডার। মোদির মন জুগিয়ে চলা এবং হুকুম তামিল করাই তাদের একমাত্র কাজ। কেন্দ্রীয়ভাবে যত প্রচার কর্মসূচি তাতে মোদিই একমাত্র দর্শনীয় ও শ্রবণীয়। দেশে প্রেসিডেন্ট প্রধান শাসন ব্যবস্থা না থাকলেও মোদি বিজেপির মধ্যে সেই ব্যবস্থা চালু করে দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে চাইছেন না। চাইছেন ওবামার মতো প্রেসিডেন্ট হতে। বিজেপি ক্ষমতায় গেলে এবং মোদি প্রধানমন্ত্রী হলে যে মন্ত্রিসভা তৈরি হবে সেখানে মোদি ভক্তদেরই জায়গা হবে। কারণ মন্ত্রী যেই থাকুক চালাবেন তিনি। যেমন গুজরাটে এতদিন চালিয়ে এসেছেন। তিনি চান না তার মতের বিরুদ্ধে মন্ত্রিসভায় ভিন্ন মতের কেউ থাকুক। এমন এক একনায়কতন্ত্রী ব্যবস্থা তিনি গড়ে তুলতে চাইবেন যেখানে হিন্দু সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের আধারে ভারতীয় জাতীয়বাদের পুনর্নির্মাণ সহজ হবে।
ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে দলের ও সরকারের মধ্যে কোনো বাধা থাকবে না। আরএসএস এমনটাই চায়, সেইজন্যই তারা প্রবল বিরোধিতা উপেক্ষা করে দাঙ্গায় কলঙ্কিত মোদিকে জোর করে সামনে এনেছে। ভারতের প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভেঙে চুরমার করতে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে মোদি হাওয়ার আড়ালে। বিবিসি, রয়টার্স, এপি, এএফপি, ওয়েবসাইট।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

সিডনিতে ‘হারমনি ডে’ উদযাপন
৪ বছর আগে
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ
সিডনিতে ১২তম ‘হোয়াইট রিবন ডে’ অনুষ্ঠিত
৫ বছর আগে
অস্ট্রেলিয়াতে বাবা দিবসের কথা
৫ বছর আগে
প্রাণ হাতে নিয়ে ইউরোপ!
৫ বছর আগে
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ

Advertise with us
Advertise with us
আরও nobodharanews সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com