আদম দালালদের সাহায্যে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় সোমালিয়া থেকে যখন মোহামেদ রওনা হয়েছিলো তখন তার বয়স ছিল ১৪। লিবিয়ায় ভয়াবহ নির্যাতন আর যক্ষায় প্রায় মরতে বসেছিলো সে৷ পরে ‘হিউম্যানিটারিয়ান করিডোরের’ সাহায্যে ইটালিতে পৌঁছে সুচিকিৎসা পায় সে৷ মোহামেদের বয়স এখন ১৭। দালাররা তাকে ইথিওপিয়া, সুদান ও মিশর হয়ে লিবিয়াতে নিয়ে গিয়েছিলো। মোহামেদ সেখানে দালালদের হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের […]
আদম দালালদের সাহায্যে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় সোমালিয়া থেকে যখন মোহামেদ রওনা হয়েছিলো তখন তার বয়স ছিল ১৪।
লিবিয়ায় ভয়াবহ নির্যাতন আর যক্ষায় প্রায় মরতে বসেছিলো সে৷ পরে ‘হিউম্যানিটারিয়ান করিডোরের’ সাহায্যে ইটালিতে পৌঁছে সুচিকিৎসা পায় সে৷
মোহামেদের বয়স এখন ১৭। দালাররা তাকে ইথিওপিয়া, সুদান ও মিশর হয়ে লিবিয়াতে নিয়ে গিয়েছিলো।
মোহামেদ সেখানে দালালদের হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়। পাশাপাশি আক্রান্ত হয় যক্ষা রোগে। মোহামেদের ভাগ্য ভালো যে, শরণার্থীদেরে সহায়াতাকারী একটি দল তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে। তাকে নিয়ে আসে ইটালি।
ইটালিতে প্রায় দুই মাস হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়েছে মোহামেদ। সব কিছু কাটিয়ে উঠে সে এখন নতুন জীবন শুরু করতে প্রস্তুত। লিবিয়ায় মোহামেদ দালালদের হাতে বন্দি ছিলো। প্রথমে একটি ক্যাম্পে ও পরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে তাকে বন্দি করে রাখে দালালরা।
তারপর একসময় লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে নৌকায় করে ইউরোপের দিকে যাত্রা করে। ইউরোপে পৌঁছার জন্য দুইবার এমন চেষ্টা করে তারা। কিন্তু প্রতিবারই লিবিয়ার কোস্টগার্ডের কাছে আটক হয় তারা।
তারপর শরণার্থীদের একটি শিবিরে আটকে রাখা হয় মোহামেদকে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে শিবিরে আটক মোহামেদের যক্ষা ধরা পড়ে। মোহামেদ জানায় সেসময় খেতে পারতো না সে৷ তাকে লিবিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মুখ দিয়ে একটি নল ঢুকিয়ে তাকে খাওয়ানো হতো।
এমন বিপদের দিনে ‘হিউম্যানিটারিয়ান করিডোর’ নামে শরণার্থীদের সহায়তাকারী একটি কর্মসূচি তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
মূলত গির্জার অর্থায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচির কাজ হলো যথেষ্ট সুরক্ষিত নয় লিবিয়ায় আটকে থাকা এমন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইটালিতে নিয়ে আসা। প্রকল্পের আওতায় এমন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইটালিতে থাকার প্রয়োজনীয় খরচ বহন করে তারা।
ইটালির যে হাসপাতালে মোহামেদকে ভর্তি করা হয় সে হাসপাতালের নার্স লুসিয়া মাকুচি বলেন, সে যখন এখানে এসেছিল তখন এতো দুর্বল ছিলো যে হাঁটতে পারতো না। শারীরিকভাবে খুব দুর্বল ছিল, অপুষ্টিতে ভুগছিল।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে মোহামেদ। তাকে এখন একটি পরিবারের কাছে দত্তক দেওয়া হবে যেখানে সে নতুন জীবন শুরু করতে পারবে।
প্রতিবেদনটিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীর নাম পরির্বতন করে ব্যবহার করা হয়েছে।