বেশকিছু উদীয়মান তরুণ সঙ্গীতপ্রেমী গড়ে তুলেছেন মাইগ্রেন্ট ব্যান্ড সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুরে তাদের পরিচয় অভিবাসী কর্মী। দেশটিতে বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত তারা৷ কেউ নির্মাণ শ্রমিক কেউ বা শিপইয়ার্ডে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। দিন রাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন তারা৷ কাজের ফাঁকে একটু অবসর পেলেই তারা সঙ্গীত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাদের ধ্যান-জ্ঞানে বাংলা গানে৷ গানের প্রতি দরদ ও ভালোবাসা আছে […]
বেশকিছু উদীয়মান তরুণ সঙ্গীতপ্রেমী গড়ে তুলেছেন মাইগ্রেন্ট ব্যান্ড সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুরে তাদের পরিচয় অভিবাসী কর্মী। দেশটিতে বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত তারা৷ কেউ নির্মাণ শ্রমিক কেউ বা শিপইয়ার্ডে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। দিন রাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন তারা৷ কাজের ফাঁকে একটু অবসর পেলেই তারা সঙ্গীত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাদের ধ্যান-জ্ঞানে বাংলা গানে৷

গানের প্রতি দরদ ও ভালোবাসা আছে বলেই অবসর সময়টুকু উপভোগ না করে গানের চর্চায় ব্যস্ত থাকেন৷ ভাগ্যবদলের স্বপ্ন ও পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে৷ আর সেই স্বপ্নবাজ ছেলেরা গড়ে তোলেন মাইগ্রেন্ট ব্যান্ড সিঙ্গাপুর।
দলটি ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। সিঙ্গাপুরে জাতীয় কয়েকটি পত্রিকায় তাদের নিয়ে নিউজ করা হয়। তাছাড়া বাংলাদেশের জনপ্রিয় পত্রিকা প্রথম আলো তাদের নিয়ে ফিচার করে ও শর্ট ফিল্ম নির্মাণ করেছে৷

আমার সাথে প্রথম পরিচয় সিঙ্গাপুরে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে৷ সেখানে তাদের গান আর মিউজিক শুনে মুগ্ধ হয়ে যাই৷ সেদিন উপস্থিত দর্শকরাও তাদের গান শুনে প্রশংসা করেন৷ মাইগ্রেন্ট ব্যান্ডে ভোকাল রানা, নীল সাগর ও অন্যরা তাদের দরদী কণ্ঠে পুরনো দিনের গান ধরেন তখন মিউজিকের অতল গভীরে হারিয়ে যাই৷
২০১৫ সালে তারা কয়েকজন তখন গান করেন৷ তখন তাদের কোন দল ছিল না। গানের মাধ্যমে একে অপরের সাথে পরিচয় হয়। তখন তারা ভাবলেন নিজেরাই একটি গানের দল তৈরি করবেন৷ গান গাইবেন মনের সুখে৷ তাদের এই গানের দল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো, সপ্তাহে একদিন গান গেয়ে নিজেদের বিনোদিত করা৷

মাইগ্রেন্ট ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠা সদস্য নীল সাগর শাহীন বলেছিলেন, ‘মানসিক প্রশান্তির জন্য আমরা গান করি। এক দিন গানের মধ্যে থাকলে সারা সপ্তাহ কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়। গানের গলা যেহেতু আছে, ভাবলাম তা নিয়েই কিছু করতে। হয়ে গেল ব্যান্ডদল।’
ব্যান্ডের শুরুতে তাদের বাদ্যযন্ত্রের সমস্যা ছিল। গান প্র্যাকটিস করার মত রুমও চাই৷ কিন্তু শুরুতে তাদের কিছুই ছিল না। নিজেরা টাকা জমিয়ে আস্তে আস্তে বাদ্যযন্ত্র কিনতে শুরু করেন। এখন অবশ্যই তাদের পর্যাপ্ত বাদ্যযন্ত্র আছে এমনকি গান প্রাকটিস করার মতো রুমও আছে৷
তারা হাইকমিশনের আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করার আমন্ত্রণ পান৷ তাছাড়া সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও তারা গান করার আমন্ত্রণ পান৷ সর্বশেষ রাইটার্স ফেসটিভ্যালে তারা গান পরিবেশন করেন৷

মাইগ্রেন্ট ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নীল সাগর শাহীন বলেন, প্রবাসে যারা সঙ্গীত ভালবাসে তাদের নিয়ে মাইগ্রেন্ট ব্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে৷ এখানে কেউ প্রফেশনাল সঙ্গীত শিল্পী না তবুও সবাই সঙ্গীতের প্রতি ভালবাসা টানেই একই প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে বাংলা গান গাই৷ যা আমাদের অন্যরকম ভালোলাগার অনুভূতি দেয়৷
প্রধান ভোকাল ও মাইগ্রেন্ট ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠা সদস্য সোহেল রানা বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলা গান পরিবেশন করতে পেরে সত্যিই আমি খুব আনন্দিত। ভিন্ন ভাষাভাষীর দর্শকদের সামনে যখন বাংলা ভাষার গান পরিবেশন করি তখন নিজের ভেতরটা আনন্দে ভরে যায়৷ সবাইকে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে দেখো আমাদের বাংলা ভাষার সঙ্গীতও কোন অংশে কম নয়৷

মাইগ্রেন্ট ব্যান্ডের বর্তমান লাইনআপ, ভোকালিস্ট: সোহেল রানা, তৌহিদা রহমান টিনা, বজলুর রহমান, তোর্সা দাশ, আলমাস উদ্দিন, আকাশ আলীম, জুলফিকার আলী, তুষার আহমেদ, নীল সাগর, এস কে শাহীন, জমির উদ্দিন, রুবেল মাহমুদ, জাকির মির্জা প্রমুখ। বাদ্যযন্ত্রে রয়েছেন, কিবোর্ড: নীল সাগর শাহীন।

অক্টাপ্যাড: উজ্জ্বল কুমার ও এম ডি তারেক, বাঁশি: রবিউল ইসলাম, তবলা: প্রিন্স সেবক ও সজীব সাহা হারমোনিয়াম: বজলুর রহমান ও মনির হোসেন, গিটার: আলমগীর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম এবং মুন্না মাসুদ। কিটার: জমির উদ্দিন
ঢোল: মোশারফ হোসাইন ও সজীব সাহা।
কোরিওগ্রাফার: শরীফ মজুমদার, স্টুডিও কো-অর্ডিনেটর ও সম্পাদনায়: মঞ্জুরুল ইসলাম।