উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য রাশিয়া বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের কাছে সমাদৃত। আপনি যদি পড়াশোনার জন্য রাশিয়ায় যেতে চান তবে এই লেখাটি আপনার জন্য। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন? আপনি যদি রাশিয়ার কোথায় পড়বেন তা ঠিক করতে না পারেন, তবে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন, কোথায় পড়বেন। কেননা, প্রথমে আপনাকে নির্দিষ্ট একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে অফার লেটার পেতে হবে। তারপর, […]
উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য রাশিয়া বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের কাছে সমাদৃত। আপনি যদি পড়াশোনার জন্য রাশিয়ায় যেতে চান তবে এই লেখাটি আপনার জন্য।
কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন?
আপনি যদি রাশিয়ার কোথায় পড়বেন তা ঠিক করতে না পারেন, তবে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন, কোথায় পড়বেন। কেননা, প্রথমে আপনাকে নির্দিষ্ট একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে অফার লেটার পেতে হবে। তারপর, আপনি বাকি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।
আপনার যদি নির্দিষ্ট একটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধে হয়, তবে নিচের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে জেনে নিন।
১. মস্কো স্টেইট ইউনিভার্সিটি
২. আলটায় স্টেট ইউনিভার্সিটি
৩. কাজান ইউনিভার্সিটি
৪. ডুবনা ইউনিভার্সিটি
৫. চেলিয়াবিনস্ক স্টেট ইউনিভার্সিটি
৬. ইরকুটস্ক স্টেট ইউনিভার্সিটি
৭. মস্কো ইউনিভার্সিটি টোউরো
৮. দি রাশিয়ান স্টেট হিউম্যানিটিস ইউনিভার্সিটি
রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা কী রকম?
রাশিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়, একাডেমি, ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, টেকনিক্যাল কলেজ ও স্পেশালাইড ইনস্টিটিউশন এই কয়েকটি স্তরে বিন্যস্ত। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিজ্ঞান, কলা, বাণিজ্য শাখার সব বিষয়ে পড়া সম্ভব।
এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাচেলর ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি ও পিএইচডিসহ বিভিন্ন ডিগ্রি প্রদান করা হয়। বিষয়ভেদে কিছুটা ভিন্ন হলেও রাশিয়ার ব্যাচেলর ডিগ্রির মেয়াদ ৪ বছর, মাস্টার্স ডিগ্রির মেয়াদ ২ বছর, স্পেশালাইড ডিপ্লোমার মেয়াদ ৫-৬ বছর। তবে ব্যাচেলর, মাস্টার্স বা যে কোন ডিপ্লোমার জন্য প্রথম ১ বছর রুশ ভাষা শিখতে হবে। কিছু কিছু বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় পড়ারও সুযোগ রয়েছে।
কোন কোন বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন?
আপনি রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে- অ্যাকাউন্টিং, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, আর্টস, বায়োলজি, সেন্টার ফর দ্যা সোসিওলোজি, কেমিস্ট্রি, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, কালচারাল এনথ্রোপলজি, আর্থ সায়েন্স ইকোলজি, ইকোনমিক্স, ইলেক্ট্রিক্যালইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, মিজারিং এন্ড কন্ট্রোলসিস্টেম, ইন্সটিটিউট অব অরিয়েন্টাল স্টাডিস, মিউজিক আর্ট, ইন্টারন্যাশনাল রিলেশান এন্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পড়তে পারবেন।
সব মিলিয়ে কত খরচ হবে?
রাশিয়ায় পড়াশোনা ও থাকা খাওয়ার খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। সাধারন বিষয়গুলোতে পড়াশোনা করতে বাংলাদেশি টাকায় খরচ হবে বছরে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অবশ্য মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংএর খরচ একটু বেশি, ১ লাখ টাকা থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
রাশিয়ায় একজন শিক্ষার্থীর থাকা খাওয়া ও বিভিন্ন ইনস্যুরেন্স বাবদ খরচ হয় বছরে ৯০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা। অবশ্য এ থাকা খাওয়া ও পড়াশোনার খরচ রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর জন্য। অন্যান্য শহরে এ পরিমাণটা আরো কম। নিচে বিষয় ভিত্তিক খরচ তুলে ধরা হলো।
১. রাশিয়াতে বাণিজ্য বিভাগের জন্য প্রতি শিক্ষাবর্ষে টিউশন ফি লাগবে ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
২. কলা বিভাগের জন্য বিষয়ভেদে ২ লাখ ১৬ হাজার থেকে ৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতি শিক্ষাবর্ষে এককালীন প্রদেয়।
৩.বিজ্ঞান বিভাগের যেকোনো বিষয়ে জন্য উচ্চতর ডিগ্রি নিতে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা থেকে বিষয়ভেদে ৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা প্রতি শিক্ষাবর্ষে এককালীন প্রদেয়।
৪. এছাড়া প্রতিবছর বাংলাদশি ছাত্রদের জন্য আবাসিক খরচ দিতে হবে ৩৪,৮০০ টাকা থেকে সুযোগ সুবিধা এবং অবস্থা ভেদে ঊর্ধ্বমুখী।
কোনো শিক্ষাবৃত্তি কি দেওয়া হয়?
রুশ সরকার প্রতিবছর বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কিছু বৃত্তি দিয়ে থাকে বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। যার বিজ্ঞাপন বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েব ঠিকানা ও সংবাদপত্রে মার্চ মাসে দেওয়া হয়। ৮০ শতাংশ নম্বর পেলে তবেই বৃত্তির জন্য আবেদন করা যাবে। রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে রুশ ভাষা কোর্সে ভর্তি হয়েও বৃত্তির জন্য আবেদন করা যাবে। এছাড়া রাশিয়াতে থেকে আপনি যদি সফলভাবে আপনার পড়াশোনা শেষ করতে পারেন এবং আপনার ফলাফল যদি ভালো হয়, তবে রাশিয়ান সরকার আপনাকে সে দেশের নাগরিকত্ব প্রদান করবে।
কখন করবেন আবেদন?
রাশিয়ার শিক্ষাবর্ষ দুই সেমিস্টারে বিভক্ত। একটি সামার, অপরটি উইন্টার। সামার সেশন শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে এবং উইন্টার সেশন শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। সামার সেশনে আবেদনের জন্য সময় পাবেন জানুয়ারিতে দুই সপ্তাহ এবং উইন্টার সেশনে আবেদনের জন্য সময় পাবেন জুলাই-আগস্টে ছয় সপ্তাহ।
সাধারণত সামার সেশনে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স অফার করে থাকে। মূলত, উইন্টার সেশন রাশিয়ার প্রধান শিক্ষাবর্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে কী কী যোগ্যতা থাকতে হবে?
এসএসসি, এইচএসসি, ব্যাচেলর এ ৫০% মার্কস থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার পাওয়া সহজ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ফী বাবদ ১০০ ডলার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগতে পারে। তবে, বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগে না। আবেদন করতে সাধারণত আইইএলটিএস (IELTS) খুব কম বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগে, বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই লাগে না। কেননা, বেশির ভাগ ইউনিভার্সিটি রাশিয়ান মিডিয়ামে কোর্স অফার করে। তাই ১ বছর রাশিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারে করতে হয়।
আবেদনের সময় কী কী ডকুমেন্টস লাগবে?
১. আবেদন ফর্ম
২. পাসপোর্টের স্কান কপি
৩. সকল একাডেমিক সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি
৪. মটিভেশন লেটার (যদি চায়)
৫. ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিসিয়ান্সি সার্টিফিকেট অথবা ইংলিশ মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকসান (যদি চায়)
নোটঃ কিছু ইউনিভার্সিটি আপনার একাডেমিক সার্টিফিকেটগুলোর রাশিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ এ ট্রান্সলেট কপির স্কান কপি চাইতে পারে। যদি আপনি মনোনীত হন, বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে অফার লেটার ইস্যু করবে যার জন্য ৩০-৪৫ দিন সময় লাগবে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অ্যাকাউন্টে আপনাকে ১ বছর বা ১ সেমিস্টারের টিউশন ফী প্রদান করতে বলবে। তবে, কথা বলে নেবেন। কারণ, এটি রাশিয়াতে বাধ্যতামূলক নয়।
ভিসা আবেদনের জন্য কী করতে হবে?
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পাবার পর আপনাকে রাশিয়ান ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে ঢাকার গুলশানে রাশিয়ান এম্বাসিতে। সাধারণত রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি- এই ৩ দিন সকাল ৮:৪৫ হতে ১১:৪৫ পর্যন্ত ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
ভিসার জন্য যেসব ডকুমেন্টস লাগবে
১. আসল পাসপোর্ট।
২. সম্পূর্ণ ভিসা আবেদন ফর্ম।
৩. এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৪. একটি ভ্যালিড ওয়ান ওয়ে ফ্লাইট বুকিং দিতে হবে (এতে কোন টাকা খরচ হয় না)।
৫. অফার লেটারের হার্ড কপি।
৬. লিগেলাইজ সার্টিফিকেটস (বোর্ড,এডুকেশন মিনিষ্ট্রি,ফরেন মিনিষ্ট্রি) ১ সেট মেইন ও ১ সেট লিগেলাইজ ফটোকপি সার্টিফিকেটসের নোটারী করতে হবে।
৭. স্পন্সর এর এফিটএভিট অফ সাপোট (১টি ১০০ ও ১টি ৫০ টাকার স্ট্যাম্প এর উপর করতে হবে)।
৮. মেডিকেল সার্টিফিকেট।
৯. ট্রান্সলেট সার্টিফিকেট (চাইলে রাশিয়া আসার পর করতে পারেন)।
১০. সকল কাগজ পত্রের ১ সেট ফটোকপি
নোট: লিগেলাইজ ফটোকপি সার্টিফিকেটস(৪টি) সত্যায়িত করতে হবে। এর জন্য প্রতি পেজ ৩০০০ টাকা করে নেবে। ভিসা ফিস ৪০০০ টাকা। ভিসা অ্যাপ্লাই করে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ৭ দিন পর পাসপোর্ট ফেরত দিবে। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বুঝতে পারবেন আপনার ভিসা হয়েছে কি হয়নি। যদি ভিসা না পেয়ে থাকেন তাহলে আপিল করার কোনোও সুযোগ নেই। তবে, নতুন অফার লেটার নিয়ে এসে পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।
এই হলো বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় পড়তে যাওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া। তবে, আর দেরি কেন? বসে না থেকে আজই শুরু করুন আপনার পছন্দের দেশের পদযাত্রার সূচনা।