সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন থেকে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষার আদলে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেয়া হবে। আর শিক্ষক হতে ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীকে এজন্য দু’ধাপে উত্তীর্ণ হতে হবে। বিদ্যমান নিয়মানুযায়ী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম […]
সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন থেকে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষার আদলে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেয়া হবে। আর শিক্ষক হতে ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীকে এজন্য দু’ধাপে উত্তীর্ণ হতে হবে। বিদ্যমান নিয়মানুযায়ী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছেন না। এতে নিবন্ধন পরীক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। এজন্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য লিখিত পরীক্ষার আগে একজন প্রার্থীকে এখন থেকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। আর প্রিলিমিনারি পাস করার পরই কেবল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) আয়োজিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ মিলবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষাটি হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। ইতিমধ্যে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী আগস্টে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র জানায়, বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিবন্ধন পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের পাশাপাশি নিয়োগ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মূলত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রণীত মেধা তালিকা থেকেই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে এমন পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে সরকার। এনটিআরসিএ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরভিত্তিক শূন্য পদের সংখ্যা নিরূপণ, শূন্য পদের সংখ্যা অনুযায়ী লিখিত নিবন্ধন পরীক্ষার পর নির্ধারিত নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় ভিত্তিক মেধা তালিকা করা হবে। তারপর মেধাক্রম ও চাহিদা অনুযায়ী প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। স্কুল-কলেজ পরিচালনা কমিটি শুধুমাত্র শিক্ষকদের যোগদানপত্র দেবে। তবে কোনো প্রার্থী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর না পেলে মেধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। সূত্র আরো জানায়, বর্তমান নিয়মানুযায়ী সংসদ সদস্যরা নিজ নির্বাচনী এলাকার সর্বোচ্চ ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে পারেন। অন্য প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হন সংসদ সদস্যদের পছন্দের ব্যক্তিরা। এ কারণে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটি ক্ষমতা হারাবে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৯ হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল, সাড়ে ৩ হাজার কলেজ ও সাড়ে ৯ হাজার মাদ্রাসা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান জানান, বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে নতুন পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে তাতে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে অভিযোগ আছে তা দূর হবে। আর একই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, সরকার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ করতে চায়। মেধাবীদের বাছাইয়ের জন্য মেধা তালিকা তৈরি করে স্কুলে পাঠানো হবে। এজন্য শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। কোনো এলাকায় একটি স্কুলে শিক্ষক প্রয়োজন হলে তারা শুধু চাহিদাপত্র পাঠাবেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে তালিকা পাঠিয়ে দেবে। ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র নিয়োগ দেবে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় সকলের মতামত নিয়েছে, প্রয়োজনে আরো মতামত নেয়া হবে।
পরীক্ষার ১৫ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল। তবে অনিবার্য কারণে এই সময় পাঁচ দিন বাড়ানো যাবে। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে পরীক্ষা নেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে। এখানে আরো ১৫ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার ফল ১৫ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।