মুহাম্মদ বশির উল্লাহ : মক্কা রয়েল টাওয়ার (আবরাজ আল বায়েত)। পৃথিবীর অন্যতম নান্দনিক ও আকর্ষণীয় স্থাপনা। এটি পবিত্র কাবা ঘরের দক্ষিণ প্রবেশ পথ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। ৯৫ তলা বিশিষ্ট ১৯৭২ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন। এ টাওয়ারের একেবারে শীর্ষে গড়ে তোলা হয়েছে ১৩০ ফুট রাজকীয় ঘড়ি যা ১৭ কিলোমিটার দূর থেকে দেখেও সময় গণনা করা যায়। চন্দ্র […]
মুহাম্মদ বশির উল্লাহ : মক্কা রয়েল টাওয়ার (আবরাজ আল বায়েত)। পৃথিবীর অন্যতম নান্দনিক ও আকর্ষণীয় স্থাপনা। এটি পবিত্র কাবা ঘরের দক্ষিণ প্রবেশ পথ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। ৯৫ তলা বিশিষ্ট ১৯৭২ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন। এ টাওয়ারের একেবারে শীর্ষে গড়ে তোলা হয়েছে ১৩০ ফুট রাজকীয় ঘড়ি যা ১৭ কিলোমিটার দূর থেকে দেখেও সময় গণনা করা যায়। চন্দ্র পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, মুসলিম ঐতিহ্য সংরক্ষণে জাদুঘর এবং হজ ও ওমরাহ পালনকারী পুণ্যার্থীদের জন্য ৩ হাজার অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত কক্ষ এ টাওয়ারের বৈশিষ্ট্য।
সৌদি আরবের খ্যাতনামা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিন লাদেন গ্রুপ ২০০৪ সালে এ টাওয়ারের নির্মাণ কাজ শুরু করে ২০১১ সালে সমাপ্তিতে আনেন। ২০১২ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ফ্লোরের সর্বমোট স্পেস হচ্ছে ১,৬১,৫০,০০০ বর্গফুট, যা আরব-আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের সমান। এর নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৮০০ মিলিয়ন ডলার। এই টাওয়ারে রয়েছে বিশাল প্রার্থনা হল সেখানে ১০ হাজার লোক এক সাথে নামাজ আদায় করতে পারে। টাওয়ারের সেভেন স্টার হোটেলে প্রতিবছর পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালন উপলক্ষে মক্কা নগরী পরিভ্রমণকারী ৫০ লাখ পুণ্যার্থীর আবাসন সুবিধা প্রদান করবে। টাওয়ারটির প্রথম চার তলা শপিংমল এবং নিচে রয়েছে ১ হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা। একেবারে উপর তলায় হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য রয়েছে প্রশস্ত হেলিপ্যাড। ১ লাখ মানুষের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এ টাওয়ারের শীর্ষে চারদিক থেকে যাতে দেখা যায় এমন একটি ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি দিকের পরিমাপ হচ্ছে ১,৪১,১৪১ ফুট। জার্মানির প্রিমিয়ার কম্পোজিট টেকনোলজিস নামক কোম্পানি এর ডিজাইন তৈরি করে। লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টার ও ইস্তাম্বুলের কেভাহির মল টাওয়ারের ঘড়ির চেয়ে মক্কা টাওয়ার ঘড়ির আয়তন ও নান্দনিকতা অনেক বেশি। ঘড়িটির চারপাশে আলোকিত করার জন্য ২০ লাখ বাতি, বিপুলসংখ্যক আল্লাহু আকবার লিখিত ক্যালিওগ্রাফি সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ২১ হাজার সাদা ও সবুজ বাতি ঘড়ির উপরাংশে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ফ্ল্যাশ সংকেত দিতে পারে। আকাশের দিকের ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত আলোক রশ্মি প্রক্ষেপণের জন্য ১৬ ধরনের ভার্টিক্যাল বাতি রয়েছে। ঘড়ির চারপাশে সম্মুখ অংশে ৯ কোটি ৮০ লাখ পিস খ- গ্লাস মোজাইক বসানো হয়েছে। ঘড়ির উপরে রয়েছে ৯৩ মিটার দৈর্ঘ্য অগ্রচূড়া এবং স্বর্ণালি মোজাইক ও ফাইবার গ্লাসের তৈরি ৩৫ টন ওজনের নতুন চাঁদ। টাওয়ারের নিচ থেকে উপরের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অনেক লাউড স্পিকার স্থাপন করা হয়েছে।
৭ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আজান ও নামাজের ধ্বনি প্রচার করতে পারে। রাতের বেলা ২১ হাজার বাতি ৩০ কিলোমিটার এলাকাকে আলোকোজ্জ্বল করে তুলবে। শ্বেত ও সবুজ বাতির বিশেষ আলো প্রক্ষেপণ দেখে বধির হাজিরা নামাজের সময় নির্ণয় করতে পারবেন। মক্কা টাওয়ারের ঘড়ি স্থাপনের পিছনে আরও অনেক কারণ ক্রিয়াশীল। ১২৬ বছরের পুরনো গ্রিনিচমান সময় পরিবর্তন করে মক্কার সময় চালু করা যাবে বলে অনেকে মনে করেন। ২০০৮ সালে কাতারের রাজধানী দোহাতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে মুসলিম বিজ্ঞানীরা মত প্রকাশ করে বলেন, পৃথিবীর মধ্যম রেখা পবিত্র মক্কার উপর দিয়ে প্রলম্বিত, ফলে মক্কা পৃথিবীর টাইম জোনের কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া মক্কা আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ও বাণিজ্য নগরী।
http://www.dailyinqilab.com/2014/01/28/156867.php#sthash.T9DQOi9D.dpuf