ওনলী নিউজ ২৪ ডট কম: অবশেষে সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সিরিয়া শান্তি আলোচনা। সিরিয়া সংকট সমাধান, বিবদমান গ্রুপগুলোকে এক করতে শুরু হয়েছে এ আলোচনা। তবে এ আলোচনা সিরিয়া সরকার ও বিরোধীদের মধ্যকার সংঘর্ষ শেষ করতে পারবে এমন আশা খুব একটা নেই। তারপরও দীর্ঘ ৩ বছর পর দুই পক্ষকে এক টেবিলে বসাতে পারাও কম কথা […]
ওনলী নিউজ ২৪ ডট কম: অবশেষে সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সিরিয়া শান্তি আলোচনা। সিরিয়া সংকট সমাধান, বিবদমান গ্রুপগুলোকে এক করতে শুরু হয়েছে এ আলোচনা। তবে এ আলোচনা সিরিয়া সরকার ও বিরোধীদের মধ্যকার সংঘর্ষ শেষ করতে পারবে এমন আশা খুব একটা নেই। তারপরও দীর্ঘ ৩ বছর পর দুই পক্ষকে এক টেবিলে বসাতে পারাও কম কথা নয়। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সিরিয়া শান্তিবিষয়ক জেনেভা-২ সম্মেলন উদ্বোধন করেন। ১৮ মাস আগে সিরিয়া শান্তিবিষয়ক প্রথম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সম্মেলন উদ্বোধন করে মুন বলেন, আমাদের সামনের চ্যালেঞ্জগুলো ভয়ঙ্কর। তবে আপনাদের উপস্থিতি আশাবাদী করে তুলছে। সিরিয়ার সব নাগরিক সিরীয়দের মাধ্যমে চালিত একটি অন্তর্বর্তী প্রক্রিয়া দেখতে চান। জেনেভা-২ সম্মেলন শুরু হয়েছে প্রথম শান্তি সম্মেলনের পৌঁছানো ইশতেহারের উপর ভিত্তি করে। যাতে করে ১ লাখের বেশি মানুষ হত্যা করা সিরিয়া সঙ্কট সমাধানের অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়া খুঁজে বের করা যায়। বান কি মুন বলেন, সিরিয়ানদের অবশ্যই পরস্পরের মধ্যে আবারও আলোচনা করতে হবে। বিবদমান পক্ষগুলো যাতে একটি ঐকমত্যে পৌঁছতে পারে সে লক্ষ্যে তাদের উপর চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। একই সঙ্গে তিনি সকল পক্ষকে গঠনমূলক আলোচনার জন্য আহ্বান জানান। বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন সিরিয়া শান্তি সম্মেলনে। এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে এমন একটি শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। সিরিয়া সরকার ও বিরোধীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কারণে শুরু হওয়া আলোচনাও একাধিকবার হুমকির মুখে পড়েছে। সরাসরি আলোচনা শুরু হবে আগামীকাল। আর এই প্রথম সরকার ও সিরিয়া বিরোধীদের প্রথম সরসরি আলোচনা হবে। শীর্ষ সম্মেলনে উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রায় ৪০ জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। মহাসচিব বান সকল পক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানান। ১১ হাজার বন্দিকে হত্যার অভিযোগের নিন্দা : সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে ১১ হাজার বন্দিকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ ওঠার পর তার ব্যাপক সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘ এই খবরকে বিভীষিকাময় বলে উল্লেখ করেছে। মার্কিন সরকার বলছে আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার সময় হয়ে এসেছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মারি হার্ফ বলেছেন, বন্দিদের নির্যাতনের যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে তাতে নির্যাতনের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। তিনি বলছেন, ‘সিরিয়ার অবস্থা এমনই ভয়াবহ যে, সেখানে অবশ্যই রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে হবে।’ সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে অনাহারে রেখে এবং অত্যাচার চালিয়ে বন্দি হত্যার অভিযোগ এনেছেন যুদ্ধাপরাধের বিচার সংক্রান্ত তিনজন কৌঁসুলি। বন্দিদেরকে নির্যাতন করার প্রায় ৫৫ হাজার ছবি হঠাত্ করেই প্রকাশ হবার পর থেকেই নিন্দা জানাতে শুরু করেছে অন্তর্জাতিক মহল। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভি পিল্লাইয়ের মুখপাত্র বলেছেন, “এই ছবিগুলো ভয়ানক আশঙ্কাজনক। কেননা যদি প্রকৃতই আটকাবস্থায় এত মানুষের মৃত্যু হয় তাহলে সেটি সত্যি বীভত্স ঘটনা।” এদিকে সাবেক যুদ্ধাপরাধবিষয়ক আদালতের কৌঁসুলি ডেভিড ক্রেন প্রকাশিত কিছু ছবি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন এবং এই নির্যাতনের ঘটনা সত্য বলে মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এই ছবিগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিরিয়ার তথ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। গত তিন বছর ধরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে এবং দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আজ থেকে জেনেভায় একটি শান্তি আলোচনা শুরু হবার কথা রয়েছে। এদিকে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-মুয়াল্লেম বলেছেন, জেনেভা আলোচনা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ভবিষ্যত্ ভূমিকার ক্ষেত্রে ‘রেডলাইন’। এটা সিরিয়ার জনগণের জন্যও রেডলাইন বলে তিনি জানান। আর এ দিকটি সামনে রেখেই সিরিয়ার প্রতিনিধিদল জেনেভা আলোচনায় অংশ নেবে বলে উল্লেখ করেন মুয়াল্লেম। জেনেভা-২ সম্মেলনের জন্য প্রতিনিধিদল নিয়ে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর পর সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘কেউই প্রেসিডেন্টকে স্পর্শ করতে পারবে না।’ জেনেভায় আজ (বুধবার) শুরু হচ্ছে সিরিয়াবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ওয়ালিদ আল-মুয়াল্লেম জানান, জেনেভা আলোচনা যাতে ফলপ্রসূ হয় সেজন্য তারা সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবেন। এ সম্মেলন সফল করার বিষয়ে সিরিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। – See more at: http://www.islaminews24.com/%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8b/#sthash.AzmlEfHQ.dpufওনলী নিউজ ২৪ ডট কম: অবশেষে সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সিরিয়া শান্তি আলোচনা। সিরিয়া সংকট সমাধান, বিবদমান গ্রুপগুলোকে এক করতে শুরু হয়েছে এ আলোচনা। তবে এ আলোচনা সিরিয়া সরকার ও বিরোধীদের মধ্যকার সংঘর্ষ শেষ করতে পারবে এমন আশা খুব একটা নেই। তারপরও দীর্ঘ ৩ বছর পর দুই পক্ষকে এক টেবিলে বসাতে পারাও কম কথা নয়। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সিরিয়া শান্তিবিষয়ক জেনেভা-২ সম্মেলন উদ্বোধন করেন। ১৮ মাস আগে সিরিয়া শান্তিবিষয়ক প্রথম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সম্মেলন উদ্বোধন করে মুন বলেন, আমাদের সামনের চ্যালেঞ্জগুলো ভয়ঙ্কর। তবে আপনাদের উপস্থিতি আশাবাদী করে তুলছে। সিরিয়ার সব নাগরিক সিরীয়দের মাধ্যমে চালিত একটি অন্তর্বর্তী প্রক্রিয়া দেখতে চান। জেনেভা-২ সম্মেলন শুরু হয়েছে প্রথম শান্তি সম্মেলনের পৌঁছানো ইশতেহারের উপর ভিত্তি করে। যাতে করে ১ লাখের বেশি মানুষ হত্যা করা সিরিয়া সঙ্কট সমাধানের অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়া খুঁজে বের করা যায়। বান কি মুন বলেন, সিরিয়ানদের অবশ্যই পরস্পরের মধ্যে আবারও আলোচনা করতে হবে। বিবদমান পক্ষগুলো যাতে একটি ঐকমত্যে পৌঁছতে পারে সে লক্ষ্যে তাদের উপর চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। একই সঙ্গে তিনি সকল পক্ষকে গঠনমূলক আলোচনার জন্য আহ্বান জানান। বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন সিরিয়া শান্তি সম্মেলনে। এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে এমন একটি শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। সিরিয়া সরকার ও বিরোধীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কারণে শুরু হওয়া আলোচনাও একাধিকবার হুমকির মুখে পড়েছে। সরাসরি আলোচনা শুরু হবে আগামীকাল। আর এই প্রথম সরকার ও সিরিয়া বিরোধীদের প্রথম সরসরি আলোচনা হবে। শীর্ষ সম্মেলনে উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রায় ৪০ জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। মহাসচিব বান সকল পক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানান। ১১ হাজার বন্দিকে হত্যার অভিযোগের নিন্দা : সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে ১১ হাজার বন্দিকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ ওঠার পর তার ব্যাপক সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘ এই খবরকে বিভীষিকাময় বলে উল্লেখ করেছে। মার্কিন সরকার বলছে আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার সময় হয়ে এসেছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মারি হার্ফ বলেছেন, বন্দিদের নির্যাতনের যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে তাতে নির্যাতনের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। তিনি বলছেন, ‘সিরিয়ার অবস্থা এমনই ভয়াবহ যে, সেখানে অবশ্যই রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে হবে।’ সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে অনাহারে রেখে এবং অত্যাচার চালিয়ে বন্দি হত্যার অভিযোগ এনেছেন যুদ্ধাপরাধের বিচার সংক্রান্ত তিনজন কৌঁসুলি। বন্দিদেরকে নির্যাতন করার প্রায় ৫৫ হাজার ছবি হঠাত্ করেই প্রকাশ হবার পর থেকেই নিন্দা জানাতে শুরু করেছে অন্তর্জাতিক মহল। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভি পিল্লাইয়ের মুখপাত্র বলেছেন, “এই ছবিগুলো ভয়ানক আশঙ্কাজনক। কেননা যদি প্রকৃতই আটকাবস্থায় এত মানুষের মৃত্যু হয় তাহলে সেটি সত্যি বীভত্স ঘটনা।” এদিকে সাবেক যুদ্ধাপরাধবিষয়ক আদালতের কৌঁসুলি ডেভিড ক্রেন প্রকাশিত কিছু ছবি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন এবং এই নির্যাতনের ঘটনা সত্য বলে মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এই ছবিগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিরিয়ার তথ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। গত তিন বছর ধরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে এবং দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আজ থেকে জেনেভায় একটি শান্তি আলোচনা শুরু হবার কথা রয়েছে। এদিকে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-মুয়াল্লেম বলেছেন, জেনেভা আলোচনা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ভবিষ্যত্ ভূমিকার ক্ষেত্রে ‘রেডলাইন’। এটা সিরিয়ার জনগণের জন্যও রেডলাইন বলে তিনি জানান। আর এ দিকটি সামনে রেখেই সিরিয়ার প্রতিনিধিদল জেনেভা আলোচনায় অংশ নেবে বলে উল্লেখ করেন মুয়াল্লেম। জেনেভা-২ সম্মেলনের জন্য প্রতিনিধিদল নিয়ে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর পর সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘কেউই প্রেসিডেন্টকে স্পর্শ করতে পারবে না।’ জেনেভায় আজ (বুধবার) শুরু হচ্ছে সিরিয়াবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ওয়ালিদ আল-মুয়াল্লেম জানান, জেনেভা আলোচনা যাতে ফলপ্রসূ হয় সেজন্য তারা সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবেন। এ সম্মেলন সফল করার বিষয়ে সিরিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।