বয়স সবে মাত্র সাত। পিএইচডি লেভেলের গণিত সমস্যা সমাধান করে। বারাক ওবামাসহ বিশ্ববিখ্যাত অনেকে তার প্রতিভায় মুগ্ধ। সম্প্রতি নোবেল বিজয়ী কৈলাস সত্যার্থীর হাত থেকে পেয়েছে সম্মানজনক ‘গ্লোবাল চাইল্ড প্রডিজি অ্যাওয়ার্ড’। নিযুক্ত হয়েছে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে। নাম সুবর্ণ আইজ্যাক বারী, বাবা রাশিদুল বারী, মা শাহেদা বারী। জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমেরিকাতে হলেও বাংলাদেশের প্রতি […]
বয়স সবে মাত্র সাত। পিএইচডি লেভেলের গণিত সমস্যা সমাধান করে। বারাক ওবামাসহ বিশ্ববিখ্যাত অনেকে তার প্রতিভায় মুগ্ধ। সম্প্রতি নোবেল বিজয়ী কৈলাস সত্যার্থীর হাত থেকে পেয়েছে সম্মানজনক ‘গ্লোবাল চাইল্ড প্রডিজি অ্যাওয়ার্ড’। নিযুক্ত হয়েছে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে। নাম সুবর্ণ আইজ্যাক বারী, বাবা রাশিদুল বারী, মা শাহেদা বারী।
জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমেরিকাতে হলেও বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে অগাধ ভালোবাসা। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-এ নালন্দা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা প্রথম বই ‘দ্য লাভ’ যা পাঠকপ্রিয় হয়েছে। কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে এই প্রতিভাধর খুদে বিজ্ঞানী ও লেখকের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন—জাজাফী
সুবর্ণ আইজ্যাক বারী, কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। কেমন আছ তুমি?
সুবর্ণ :আমি ভালো আছি, ধন্যবাদ।
আইনস্টাইনের বয়স এখন সাত। এই খুদে আইনস্টাইন সুবর্ণ আইজ্যাক বারী। কে তোমার বেশি প্রিয়? আইনস্টাইন নাকি নিউটন?
সুবর্ণ :আমার তৃতীয় জন্মদিনে বাবা উপহার হিসেবে একটি রিমোর্ট কন্ট্রোল কার এবং প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা নামে একটি বই উপহার দিয়েছিলেন। বইয়ের কভার থেকে লেখকের নাম মুছে দিয়ে বাবা বলেছিলেন বইটি পড়ে লেখক কে হতে পারেন সেটা অনুমান করতে। খেলনার প্রতি আগ্রহ তখনই উবে যায় এবং পরবর্তী কয়েক মাস আমি ব্যস্ত থাকি বইটি নিয়ে। বুঝতে পারি বইটি স্যার আইজ্যাক নিউটনের লেখা। সেই থেকে স্যার আইজ্যাক নিউটন আমার প্রিয়।
এমন একটি বইয়ের কথা বলো, যা পড়ে তুমি মুগ্ধ হয়েছ এবং তোমার বয়সীদের যেটা পড়া উচিত।
সুবর্ণ :প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা।
বইয়ের প্রসঙ্গ যেহেতু এল—তোমার প্রথম বই নিয়ে জানতে চাই। ‘দ্য লাভ’ এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু পাঠকেরা লেখকের অটোগ্রাফ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আগামী বইমেলায় কি লেখক সুবর্ণর অটোগ্রাফ-সহ বই কেনার সুযোগ পাবে পাঠকেরা?
সুবর্ণ :বর্তমানে আমি ব্ল্যাকহোল নিয়ে কাজ করছি এবং আপনারা জানেন, আমি একটি তহবিলও পেয়েছি। সুতরাং এ বছর আসা হবে না। তবে দেশবাসীর সাথে দেখা করার জন্য আশা করছি আগামী ২০২১ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আসব ইনশা আল্লাহ।
যে বয়সে তুমি ম্যাথ এবং ফিজিক্সের সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত থাকো, সেই বয়সে অন্যরা গেমস খেলে। তুমি কি গেমস খেল?
সুবর্ণ :গেম খেলার মধ্যে কোনো সমস্যা দেখছি না। তবে শিশুদের একটি বিকল্প সুযোগ দেওয়া উচিত। আপনি যদি শিশুদের উপহার দিতে চান তবে দুই ধরনের উপহার দিন। খেলনা এবং বই। ছোটদের জোর করবেন না। যদি শিশু খেলনা নিয়ে খেলতে পছন্দ করে তাহলে সেটাতেই উত্সাহ দিন।
একদিন ঘুম থেকে উঠেই দেখলে তোমার বিছানায় তোমার ঘুম ভাঙার অপেক্ষায় বসে আছেন স্বয়ং স্যার আইজ্যাক নিউটন। তুমি তাকে প্রথম কোন প্রশ্নটি করবে?
সুবর্ণ :আমি তাকে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করব না, বরং আমি তার ওপর লেখা আলেক্সান্ডার পোপের কবিতাটি আবৃত্তি করব। ‘প্রকৃতি এবং প্রকৃতির আইনগুলি রাতের আঁধারে লুকিয়ে ছিল। ঈশ্বর নিউটনকে পাঠালেন! সবকিছু আলোকিত হয়ে গেল’।
সবারই কিছু না কিছু স্বপ্ন থাকে, তোমারও নিশ্চয়ই কোনো বড়ো স্বপ্ন আছে। তুমি কি আমাদের বলবে তোমার স্বপ্ন কী?
সুবর্ণ :আমার দুটি স্বপ্ন আছে—১. আমি সন্ত্রাসমুক্ত বিশ্ব গড়তে চাই, ২. গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও কম্পিউটার বিজ্ঞান—এই চারটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে পিএইচডি করতে চাই।
কোনটি সহজ, পিএইচডি লেভেলের ম্যাথ সমাধান করা নাকি অনেক মানুষের সামনে বক্তৃতা দেওয়া।
সুবর্ণ :গণিত অনেক সহজ! কারণ আমি বক্তৃতা দেওয়ার চেয়ে গণিত করা অনেক উপভোগ করি।
ভবিষ্যতের পৃথিবীর কোন দিক নিয়ে তুমি চিন্তিত?
সুবর্ণ :আমি চিন্তিত নই, বরং খুব আশাবাদী। আমি যখন ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রুইয়া কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের ওপর বক্তৃতা দিয়েছিলাম তখন দেখেছি কয়েক শত ছাত্র-ছাত্রী বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী অধ্যাপকের সাথে ক্লাস করার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। এ থেকে আমি উপলব্ধি করেছি—আমরা অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে জ্ঞানকে সম্মান করি। জ্ঞানের প্রতি এই সম্মানই আমাদেরকে অন্ধকার এবং মন্দকে অপসারণে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের শিশু-কিশোরেরা গণিত খুব ভয় পায়। গণিতভীতি দূর করার উপায় কী?
সুবর্ণ :যার ফুটবলে দক্ষতা নেই তার পক্ষে গোল করা গণিত করার চেয়ে কঠিন। আইনস্টাইনের ভাষায় বলতে গেলে, ‘গণিতে অসুবিধা সম্পর্কে খুব বেশি চিন্তা করবে না। আমি তোমাকে নিশ্চিত করতে পারি যে, আমার গণিতে সমস্যা তোমার চেয়ে বেশি’।
আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার কোনো ইচ্ছে আছে কি না? স্বর্ণপদক পেলে তোমার অর্জনের পাল্লা আরো ভারী হবে…
সুবর্ণ :আমি আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি—কারণ অগাধ জ্ঞান থাকলেও বয়সে আমি এখনো ছোট। আশা করি ১০ বছর বয়সে আমি আমেরিকান গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেবো।
তোমাকে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাইতে শুনেছি। তুমি কত বছর বয়সে জাতীয় সংগীত শিখেছ?
সুবর্ণ :আমি দশটি দেশের জাতীয় সংগীত শিখেছি। আমার ইচ্ছা ১০০টি দেশের জাতীয় সংগীত শিখব। ছোটবেলা থেকেই আমি এটি রপ্ত করেছি এবং রোজ ঘুম থেকে উঠে আমি জাতীয় সংগীত গাই।
এককথায় বাংলাদেশ সম্পর্কে বলতে বললে তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করবে?
সুবর্ণ :একুশকে ভালোবাসা মানে বাংলাদেশকে ভালোবাসা। ঠিক একইভাবে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসা মানেও বাংলাদেশকে ভালোবাসা। ছোটদের উচিত একুশ এবং বঙ্গবন্ধুকে হূদয়ে ধারণ করা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে?
সুবর্ণ :আমি মনে করি, দুটি কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনেক আগেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল—১. তিনি বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করেছেন এবং ২. তিনি রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন।
বিজ্ঞানী না হলে তুমি অন্য কী হতে চাইতে?
সুবর্ণ :আমি বিজ্ঞানী হওয়া ছাড়া আর কিছু ভাবতেই পারি না। আমার তো মনে হয়, যদি একশবার জন্ম নিই তাহলে আমি প্রতিবারই বিজ্ঞানী হতে চাইব।
কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে তোমাকে ধন্যবাদ।
সুবর্ণ :আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।