চীন ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাস ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। তার ওপর সেখানে এখন বার্ড ফ্লু এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। করোনাভাইরাসের কেন্দ্রস্থল হুবেই প্রদেশের পাশের দুই প্রদেশ শিচুয়ান ও হুনান এর দুই শহর নানচং এবং শায়োয়াং এ প্রাণনাশক বার্ড ফ্লু এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উচ্চমাত্রার রোগজনক হিসেবে ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে বার্ড ফ্লুকে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই ফ্লু মাথাচাড়া […]
চীন ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাস ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। তার ওপর সেখানে এখন বার্ড ফ্লু এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। করোনাভাইরাসের কেন্দ্রস্থল হুবেই প্রদেশের পাশের দুই প্রদেশ শিচুয়ান ও হুনান এর দুই শহর নানচং এবং শায়োয়াং এ প্রাণনাশক বার্ড ফ্লু এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
উচ্চমাত্রার রোগজনক হিসেবে ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে বার্ড ফ্লুকে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই ফ্লু মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সেখানে। এমন একটা সময়ে এই বার্ড ফ্লু এর বিস্তার হচ্ছে যখন চীন ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাস ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে।
এইচ৫এন৬ স্ট্রেইনের এই এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে ইতিমধ্যেই ২ হাজারের বেশি আক্রান্ত ফৌল পাখি মেরে ফেলা হয়েছে শিচুয়ান প্রদেশে। চাইনিজ এগ্রিকালচার অথোরিটি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তারা বলছে, প্রায় ৩ হাজার আক্রান্ত পাখি মেরে ফেলা হয়েছে। এদিকে এইচ৫এন১ স্ট্রেইনের ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রদুর্ভাব দেখা দিয়েছে হুনান প্রদেশে।
ইতিমধ্যেই প্রায় ৮ হাজার আক্রান্ত মুরগী মেরে ফেলা হয়েছে সেখানে। পাখি ও মুরগী মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, বলছে চীনের এগ্রিকালচার ও রুরাল মিনিস্ট্রি।
এইচ৫এন৬ এবং এইচ৫এন১ এ হচ্ছে বার্ড ফ্লুর ভয়ঙ্কর ৪ স্ট্রেইনের দুইটা। এই দুইটার বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে সেখানে। এছাড়া, এইচ৫এন৮ স্ট্রেইন এর বিস্তার দেখা গেছে ইউরোপীয় কিছু অঞ্চলে। এই বার্ড ফ্লু অনেকটা সোয়াইন ফ্লু এর মতোই। এইচ৫এন১ ভাইরসের কারণে গৃহপালিত পশুপাখির শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা দেখা দেয়। এবং আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে বেশি সময় থাকলে এই ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দেয়।
মানবদেহে গড়ে যে সমস্ত ভাইরাস বাসা বাঁধে তার ৫০% হচ্ছে সার্স জাতীয়। সার্স অর্থাৎ সিভিয়ার একিউট রেসপিটরি সিনড্রোম। মানবদেহেও ঐ শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাই দেয়। যার মৃত্যু আশংকা গড়ে ১০%।
এখনো পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার ২%। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের বার্ড ফ্লুতে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলো চীন। ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসের জন্য এশিয়া প্যাসিফিকের দেশগুলো ২ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি যে কীভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে কে জানে।
আমরা আসলে এখনো পরিস্কারভাবে জানি না পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে। বড়জোর তথ্যগুলো জেনে সাবধান থাকতে পারি। তবে এই ভাইরাস জ্বরে শুধু চীনই না কাঁপছে পুরো বিশ্বই। ৯০টা দেশে পৌঁছে গেছে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব।
আমরা নিজেরাও এখন আর ভাইরাসমুক্ত নই। শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক- সবদিক থেকেই এই ভাইরাসেরা চোখ রাঙাচ্ছে মানবজাতির ওপর। দুর্ভাগ্য কিংবা অসাবধানতা যা-ই বলি না কেন, করোনাভাইরাস কিংবা বার্ড ফ্লু এর ছোবল থেকে নিজেদের ছাড়িয়ে নেয়ার দায়ভারও আমাদের ওপরেই বর্তায়।
তথ্যসূত্রঃ ডেইলি মেইল।