প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসার ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে দেশের সাংবাদিকতা জগতের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। তাঁর ইন্তেকালের পর কমবেশি সবাই এই কথাটিই নানাভাবে প্রকাশ করেছেন। দৃশ্যত এ কথা এ জন্যই উঠেছে, তাঁর বয়সী প্রবীণ সাংবাদিক আর হয়ত দুয়েকজনই মাত্র বেঁচে আছেন। এর অন্তরালে আরও একটি কথা থাকাও স্বাভাবিক। গত প্রায় সাড়ে ছয় দশকের সাংবাদিকতার সঙ্গে বর্তমান […]
প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসার ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে দেশের সাংবাদিকতা জগতের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। তাঁর ইন্তেকালের পর কমবেশি সবাই এই কথাটিই নানাভাবে প্রকাশ করেছেন। দৃশ্যত এ কথা এ জন্যই উঠেছে, তাঁর বয়সী প্রবীণ সাংবাদিক আর হয়ত দুয়েকজনই মাত্র বেঁচে আছেন। এর অন্তরালে আরও একটি কথা থাকাও স্বাভাবিক। গত প্রায় সাড়ে ছয় দশকের সাংবাদিকতার সঙ্গে বর্তমান সাংবাদিকতার ভেতর কাঠামোতে কোথায় যেন একটি ফারাক তৈরি হয়ে গেছে।
একজন জার্মান সম্পাদক আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, জার্নালিজম ইজ অ্যা হাইলি রেসপনসিবল সফিস্টিকেটেড ইন্টেলেকচুয়াল অ্যাক্টিভিটিস। তিনি সাংবাদিকতার কোন টিপিক্যাল সংজ্ঞা দিতে গিয়ে কথাটি বলেননি। বরং সমাজে সাংবাদিকতা পেশার গুরুত্ব প্রসঙ্গে এ কথাটা বলেছিলেন। এই সফিস্টিকেশন, ইন্টেলেকচুয়ালিটি ও রেসপনসিবিলিটির দিকে নজর ফেরালে এবিএম মূসার আগের পর্যায়ের এবং তাঁর সমকালের সঙ্গে পরবর্তী সময়ের সাংবাদিকতার ভেতর কাঠামোর কোথাও একটা ফারাক কাঁটার মতো বিঁধে কি না জানি না। তবে বদলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে যদি অধ্যায় চিহ্নিত হয়, তাহলে এক্ষেত্রেও বদলে যাওয়াটা বহুলাংশেই স্পষ্ট। তার মানে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে সাংবাদিকতা। এ সময়টাতে পরিবর্তিত অবস্থা মেনে নিয়েও ঐতিহ্য সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন উঠে। এ প্রশ্ন এড়িয়ে কলা-প্রযুক্তির উৎকর্ষ যতই সাধিত হোক, প্রাণপ্রবাহের ঘাটতি ঠেকানো যাবে না। কালপ্রবাহও পরিবর্তিত হতে হতে অগ্রসর হয়। তারপরও ভেতরকার চেতনাপ্রবাহ লক্ষাভিমুখী যাত্রা ঠিক রেখেছে বলেই আজকের দিনেও তা কালপ্রবাহ বলেই চিহ্নিত হচ্ছে।
তিরাশি বছরের যে জীবন এবিএম মূসা যাপন করে গেলেন, এই সময়টা জাতীয় পরিচিতিকে অস্তিত্বময় করে মর্যাদায় অভিসিক্ত করার আন্দোলন-রক্তদান-আত্মত্যাগের অধ্যায়। এক কথায় জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। এই কালপর্বে তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যেসব সাংবাদিক একইসঙ্গে জাতীয় আত্ম-পরিচয় ও ভাব-চেতনা এবং পেশাগত দায়িত্বশীলতাকে তাদের কর্মজীবনে অঙ্গীভূত করেছিলেন, তাঁরা একে একে প্রায় সবাই চলে গেছেন। দুয়েকজন হয়ত এখনও আছেন। গত বুধবার এবিএম মূসার জীবনাবসানের পর আমরা যারা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম এবং জীবনে ষাটোর্ধ্ব বয়সে পৌঁছে গেছি, তাদের সামনের সারিটা এখন শূন্য। সেখানে এলোমেলো ভঙ্গিতে জাতীয় সাংবাদিকতার অসংখ্য উজ্জ্বল স্মৃতি ভিড় করে আছে। আর আমরা এখন যে জায়গাটায় দাঁড়িয়ে আছি, সেখানটায় আমাদের জন্য আশা করার বিশেষ কিছু আছে কি? এবিএম মূসার চলে যাওয়ার পরের সাংবাদিকতা জগতে আমরা যারা পেশা-জীবনের শেষ প্রান্তে, তাদের অবস্থান এবং পেছনে রেখে যাওয়ার দৃশ্যপট যে তাগিদ দেশের সাংবাদিকতা জগতের সামনে সবার অজান্তে জেগে উঠতে শুরু করেছে, তা কি আদৌ উচ্চারিত বা বিবেচিত হতে পারছে?
এবিএম মূসা ও তাঁর সহযোদ্ধা সাংবাদিকরা তাঁদের পূর্ববর্তী ধারাটাকে গ্রহণ করে সামনে এগিয়েছেন, পেশাকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং সর্বোপরি জাতির জীবনে অপরিহার্য তাৎপর্যময়তা যুক্ত করেছেন। আমরা সে ধারায় এগিয়ে এসে আজ আচমকা একটা শূন্যতার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। সাংবাদিকতায় কলা-প্রযুক্তির উৎকর্ষ হয়ত ঘটেছে, কিন্তু ভেতর থেকে যেন ক্ষয়ে যাচ্ছে পেশার ভাব-মর্যাদা এবং গণ-আকাক্সক্ষা ও জাতীয় স্বার্থরক্ষায় সত্যনিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণে অগ্রগণ্য বোধ-বিবেচনা ও দায়িত্বশীলতা। এবিএম মূসার জীবনাবসানের সঙ্গে সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্যমন্ডিত যুগাবসানের যে কথা বলা হচ্ছে, তা এই প্রেক্ষাপটে আরও তীব্রভাবে অনুভূত হবে, সন্দেহ নেই।
মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ছয় দশকেরও বেশি সময় বিস্তৃত এবিএম মূসার সাংবাদিক জীবন। এই জাত-সাংবাদিক দীর্ঘ সময় সংবাদপত্রে গুরুদায়িত্ব পালন করে এই পেশায় এক অনিবার্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর সময়টা ছিল জাতির জীবনে আন্দোলনে-সংগ্রামে মুখর ক্রান্তিকাল এবং অর্জনে-গৌরবময়তায় উজ্জ্বল সময়। এই সময়ে যে ক’জন তরুণ সাংবাদিক জাতির আত্ম-প্রতিষ্ঠার দৃষ্টিকোণ থেকে ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের মধ্যে এবিএম মূসার ছিল একটি বিশিষ্ট অবস্থান। ইংরেজি দৈনিক অবজারভার পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হিসেবে সেই ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি সরকার নিয়ন্ত্রিত ইংরেজি দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সম্পাদক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সদ্য স্বাধীন দেশে ব্যবস্থাপনাগত সংকট পূরণের তাগিদ এসবের মধ্যে ছিল। এবিএম মুসার সাংবাদিক সত্তা তাতে কোন বিচ্যুতি বা শৈথিল্যের শিকার হয়নি। সাংবাদিক হিসেবে জাতীয় দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব তিনি সমভাবে রক্ষা করেছেন। জাতি-সত্তার বিকাশ, গণ-আকাক্সক্ষা ও আত্ম-নিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর পূর্ববর্তী ও সমসাময়িক অনেকের মতো তিনিও ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সাংবাদিকতা যে ভিন্ন ধরনের পেশা, যাতে দেশ-জাতি-জনগণ এবং তাদের আবেগ-অনুভূতি, দাবি-দাওয়া, সংগ্রাম-আন্দোলনে সহায়ক ভূমিকা পালন দায়িত্বের অন্তর্গত হয়ে পড়ে, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে, তা বিশদ বলার বিষয় নয়। এটা এবিএম মূসা শুরু থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত সর্বদা স্মরণে রেখেছেন বলেই সরকারী সাংবাদিক হিসেবে সফল হতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে এক্ষেত্রে সফল হতে চাননি। তিনি সত্য-ন্যায়, গণ-আকাক্সক্ষা, জাতীয় স্বার্থ এবং সাংবাদিকতা পেশার বস্তুনিষ্ঠ নিরপেক্ষতার বাইরে যেতে চাননি। এরকম নজির আমাদের সাংবাদিকতায় সেকালে লক্ষ্য করা গেলেও আজকের যুগে খুব বেশি দেখা যায় না। সাংবাদিকতা জীবনের শেষার্ধের অনেক সময় কখনও সংবাদপত্রের কলামে এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত টিভি চ্যানেলে টক-শোর আলোচনাতেও গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশ-জাতির স্বার্থে নিষ্ঠার সঙ্গে দল-নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে গেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে দায়িত্বশীলতার ঊর্ধ্বে স্থান দিতে চাননি।
॥ দুই ॥
এবিএম মূসার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়েছিল বৃটিশ শাসন অবসানের পর পাকিস্তান আমলের শুরুর দিকে। জাতীয় সাংবাদিকতায় এর আগের পর্যায়টা ছিল বৃটিশ শাসনামলের। মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ, মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, কাজী নজরুল ইসলাম, আবুল মনসুর আহমদ, মুজীবুর রহমান খাঁ, মোহাম্মদ মোদাব্বের প্রমুখ পূর্বসূরি সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব ঔপনিবেশিক বৃটিশ আমলে দ্বিমুখী প্রতিকূলতার মধ্যে বাঙালী মুসলমানের সাংবাদিকতার শুধু সূত্রপাতই ঘটাননি, জাতির মনন-চর্চায় ও স্বকীয় ভাব-চেতনার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, একটি মজবুত ভিত্তিভূমি গড়ে দিয়ে গেছেন। তাঁদের অনেকের সাংবাদিক জীবন বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল, এমনকি বাংলাদেশ আমল পর্যন্তও বিস্তৃত ছিল। দ্বিতীয় পর্যায়, যার বিকাশ মূলত পাকিস্তান আমলে সে পর্যায়ে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরী, আবদুস সালাম, খায়রুল কবীর, ওবায়দুল হক, সৈয়দ নূরুদ্দিন, সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, আসফউদদৌলা রেজা, সানাউল্লাহ নূরী, এবিএম মূসা, মাহবুবুল হক, এস এম আলী, আবদুল গাফফার চৌধুরী, ফয়েজ আহমদ প্রমুখের দ্বারা আমাদের সাংবাদিকতার নবতর বিন্যাস সূচিত হয়।
এই সময়টিতে পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে জেগেওঠার সূত্রপাত ঘটে বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। আর তারই পথ ধরে আসে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবিতে সংগ্রাম-আন্দোলনের অগ্নিঝরা সময়। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটে ছাত্র আন্দোলন, ছয়দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরে পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানী সমারিক শাসকদের হামলা-মুক্তিযুদ্ধের শুরু এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়। বায়ান্ন থেকে একাত্তর- এই উনিশ বছর সময়কাল এতটাই আগুনঝরা, রক্তক্ষয়ী ছিল, যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরলই বলতে হয়।
বাঙালী মুসলমানের জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল বৃটিশ আমলে। আবুল কালাম শামসুদ্দীন আর মুজীবুর রহমান খাঁর নেতৃত্বে চল্লিশ দশকের শুরুতে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান রেঁনেসা সোসাইটি’। এর মধ্য দিয়ে বাঙালী মুসলমানের স্বকীয় মনন-চর্চার বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলতে চেয়েছিলেন তাঁরা। পাকিস্তান আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন পূর্ব পাকিস্তান নামধেয় এই সংগঠনের মাধ্যমে জাতির দীর্ঘদিনের আত্ম-অনুসন্ধানকে এক নবতর ভৌগোলিক ভাব-চেতনায় সম্পৃক্ত করার প্রয়াস কি ছিল এই উদ্যোগে? পরবর্তীতে দেখা যায়, হয়ত এই চেতনার ধারাবাহিকতাতেই ঢাকাকেন্দ্রিক সাহিত্য সংসদও ‘পূর্ববাংলা’ নাম-পরিচয়ে নবতর চেতনার সমান্তরাল ধারার সূত্রপাতও ঘটাতে চেয়েছিল। কখনও আজকের বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনার সূত্র অনুসন্ধান কাজটি সম্পন্ন হলে এসব উদ্যোগ-প্রচেষ্টার প্রসঙ্গ বিবেচনার-আলোচনার বিষয়ে পরিণত হতে পারে। এই প্রসঙ্গ ভিন্ন আলোচনার বিষয়। আমরা শুধু বলতে চাই চল্লিশ দশকের শুরুর ওই জাতীয় মনন ও সাহিত্য চর্চাভিত্তিক ওই উদ্যোগের মূলে ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন ও মুজীবুর রহমান খাঁ, যারা আমাদের জাতীয় সাংবাদিকতার গঠনকালেরও অন্যতম প্রধান দুই পুরুষ।
’৪৭-পরবর্তীতে যাদের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়েছিল তাদের আলোচনাতেও একইভাবে দেখা যাবে, তাঁরা শুধুমাত্র সাংবাদিকতাতেই তাঁদের প্রয়াস-প্রচেষ্টা সীমাবদ্ধ রাখেননি, রাখতে পারেননি। জাতির মনন-চর্চা, আবেগ-অনুভূতির বিকাশ ও মর্যাদাময় অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে চলার পথ-নির্দেশেও তাঁরা সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন। বৃটিশ আমলের পূর্বসূরিরা সাংবাদিকতার যে ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন, উত্তরসূরিরা তাতে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান আমলে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও স্বাধীনতার আবেগ-আকাক্সক্ষাকে উদ্দীপ্ত করেছেন, জনমত গঠনের দ্বারা রাজনীতির পথযাত্রা সুগম করেছেন। এবিএম মূসার উজ্জ্বল উপস্থিতি রয়েছে এই পর্যায়ের সাংবাদিকতায়।
॥ তিন ॥
এবিএম মূসার ঘটনাবহুল ও উজ্জ্বল দীর্ঘ সাংবাদিক জীবনযাপন করে গেছেন। আজকের এই লেখায় তার বিশেষ কিছুই বলা হল না। তিনি কত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কত উঁচু মানের সাংবাদিকতা করে গেছেন, তার বিশদ আলোচনা-বিবেচনা হতে হবে। জাতির ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতার দিকনির্দেশের জন্যই বৃটিশ আমল, পাকিস্তান আমল এবং বাংলাদেশ আমলের প্রায় অর্ধেক সময়ের সাংবাদিকতা নিয়ে আলোচনা খুব জরুরি। সাংবাদিকতায় দলীয়করণ, ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতি নয়, ন্যায়-নিষ্ঠা, কল্যাণচেতনা ও সর্বোপরি জাতীয় স্বার্থরক্ষা যে গুরুত্বপূর্ণ আরাধ্য বিষয়, এটা লক্ষ্য করতে হলে ওই আমলগুলোর দিকে নজর ফেরাতে হবে। সাংবাদিকতায় জাতির প্রাণপ্রবাহকে স্পর্শ করে বুদ্ধিবৃত্তি, মনন-চর্চা ও দায়িত্বশীলতায় ফেরার বিকল্প নেই।
এবিএম মূসার দায়িত্বশীলতা ও সততা-নিষ্ঠা তাঁর অনুজ সাংবাদিকদের এখনও উজ্জীবিত করে। তাঁর সাংবাদিক জীবন যদি সবিস্তারে আলেচিত হয়, নবাগতরা আন্তরিকতার সঙ্গে খেয়াল করেন, তাহলে তারাও পথচলায় উদ্দীপ্ত হতে পারবেন, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এবিএম মূসা আমাদের সাংবাদিকতায় উদ্দীপনা ও সাহসের অসাধারণ এক প্রতিচ্ছবিরই নাম।