Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ nobodharanews

বাংলাদেশি স্থানীয় সংবাদ
১১:০০ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৯

ওসি একাই ৩ বার আমাকে ধর্ষণ করেছেন, তারপর এসআই

খুলনার জিআরপি থানায় আটকে গৃহবধূকে পরপর তিনবার ধর্ষণ করেছেন জিআরপি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠান। ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করেন ওসি। ওসির পর গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন মুখে দাগওয়ালা ডিউটি অফিসার (এসআই)। এরপর বাকি তিনজন পুলিশ সদস্য গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। ওসির মতো তারা সবাই ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেছেন। থানায় পুলিশের হাতে […]

ওসি একাই ৩ বার আমাকে ধর্ষণ করেছেন, তারপর এসআই
নবধারা নিউজ অনলাইন
৪ মিনিটে পড়ুন |

খুলনার জিআরপি থানায় আটকে গৃহবধূকে পরপর তিনবার ধর্ষণ করেছেন জিআরপি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠান। ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করেন ওসি। ওসির পর গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন মুখে দাগওয়ালা ডিউটি অফিসার (এসআই)। এরপর বাকি তিনজন পুলিশ সদস্য গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। ওসির মতো তারা সবাই ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেছেন।

থানায় পুলিশের হাতে থানায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেদিন রাতে থানায় যেভাবে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন তা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন গৃহবধূ। গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হলে গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দিয়েছেন ধর্ষকরা।

এদিকে, গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পরও গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের একের পর এক হুমকি দিচ্ছে ধর্ষকরা। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

ক্রবার রাতে (৯ আগস্ট) থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ উল্লেখ করেছেন, আটকের পর ডিউটি অফিসারের সহায়তায় আমার ওপর ব্যাপক নির্যাতন করেন ওসি ওসমান গনি পাঠান। ঘটনার দিন রাত দেড়টার দিকে আমাকে অপর একটি কক্ষে নিয়ে যান ডিউটি অফিসার। ওসি ওই কক্ষে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেন।এরপর মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে পরপর তিনবার আমাকে ধর্ষণ করেন ওসি। ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করেন ওসি। ওসির পর আমাকে ধর্ষণ করেন মুখে দাগওয়ালা ডিউটি অফিসার। এরপর বাকি তিনজন পুলিশ সদস্য আমাকে ধর্ষণ করেন। তারা সবাই ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেছেন।

মামলার এজাহারে গৃহবধূ আরও উল্লেখ করেছেন, ধর্ষণের সময় আমাকে মারপিট করা হয়। পরদিন শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত আমাকে কারাগারে পাঠায়। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে রোববার আমাকে আদালতে আনা হয়। তখন আদালতে বিচারকের সামনে নেয়ার পর জিআরপি থানায় গণধর্ষণের বর্ণনা দেই আমি। আদালতের বিচারক বক্তব্য শুনে আমার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। সোমবার দুপুরে আমার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ বিষয়ে মামলা দায়ের করার জন্য আদালত থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়ার পর শুক্রবার আমার মামলা নেয় পুলিশ।

এরই মধ্যে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গত সোমবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটি।

ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গঠন করে দেয়া তদন্ত কমিটির প্রধান এসপি সেহেলা পারভীন ওই থানার পুলিশ সদস্য ও ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এখনো কিছুই জানায়নি এ তদন্ত কমিটি।

এর আগে এসপি সেহেলা পারভীন বলেছিলেন, গৃহবধূর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাকে কোথা থেকে কীভাবে আটক করা হয়েছিল, থানায় কি ঘটেছিল। সে বিষয়সহ আরও বেশকিছু বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে তার কাছে। ওই গৃহবধূ আমাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে ওই গৃহবধূ কি বলেছেন তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন এসপি সেহেলা পারভীন।

তবে এসপি সেহেলা পারভীন এও বলেছিলেন, ওই দিন রাতে থানায় যাদের ডিউটি ছিল তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে ব্রিফ করা হবে। তখন বিষয়টি জানতে পারবে সবাই।

এর আগে গত রোববার খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামানের আদালতে দাঁড়িয়ে থানার ভেতরে আটকে পাঁচ পুলিশের গণধর্ষণের বর্ণনা দেন ওই গৃহবধূ। জিআরপি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য থানায় আটকে তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে বিচারককে জানান তিনি।

তার বর্ণনা শুনে আদালতের বিচারক ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে রোববার রাতে তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও সময় স্বল্পতার কারণে তা হয়নি। ফলে সোমবার দুপুরে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

থানায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর বড় বোন বলেছেন, আমার বোনের শ্বশুরবাড়ি সিলেটে। আমার মা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকায় দেখতে খুলনায় আসে বোন। বোন নিজে অসুস্থ থাকায় গত বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) যশোরে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিল। ২ আগস্ট (শুক্রবার) যশোর থেকে আসার সময় ফুলতলা এলাকায় জিআরপি পুলিশ প্রথমে তাকে মোবাইল চুরির অপরাধে থানায় ধরে নিয়ে যায়।

শুক্রবার বিকেলে জিআরপি পুলিশ প্রথমে বলেছে আমার বোন মোবাইল চুরি করে ধরা পড়েছে। পরে জানায় তাকে ছাড়াতে এক লাখ টাকা লাগবে। টাকা না দিলে কি করে আদায় করা যায় তা নাকি পুলিশ জানে। পরে টাকা না দিয়ে থানা থেকে চলে আসি আমরা। আমরা থানা থেকে বের হয়ে আসার পর ওই দিন রাতে থানা হাজতে আমার বোনকে বিবস্ত্র করে ওড়না দিয়ে হাত-মুখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর ওসি ওসমান গনির নেতৃত্বে আরও চার পুলিশ আমার বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় তাকে মারপিটও করা হয়। পরদিন শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আমার বোনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

প্রাণ হাতে নিয়ে ইউরোপ!
৫ বছর আগে
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ
রাজশাহীর ‘কলাই রুটি’
৫ বছর আগে
বাংলাদেশি সংবাদ

Advertise with us
Advertise with us
আরও nobodharanews সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com