Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ nobodharanews

বাংলাদেশি সংবাদ
৯:০১ পিএম, ১২ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সচেতনতা জরুরি: ডা. ফ্লোরা

শ্বাসতন্ত্র রোগের জীবানু, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্ব। উন্নত, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ মিলিয়ে জীবন নিয়েছে সাড়ে তিন হাজার মানুষের। ইতিমধ্যে ১০৪টি দেশের প্রায় এক লাখ ৫ হাজার লোককে কাঁপিয়ে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে। হানা দিয়েছে উন্নতির শিখরের দিকে এগিয়ে যাওয়া ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে তিনজন লোক আক্রান্ত হয়েছেন এই ভাইরাসে। […]

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সচেতনতা জরুরি: ডা. ফ্লোরা
৪ মিনিটে পড়ুন |

শ্বাসতন্ত্র রোগের জীবানু, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্ব। উন্নত, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ মিলিয়ে জীবন নিয়েছে সাড়ে তিন হাজার মানুষের। ইতিমধ্যে ১০৪টি দেশের প্রায় এক লাখ ৫ হাজার লোককে কাঁপিয়ে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে। হানা দিয়েছে উন্নতির শিখরের দিকে এগিয়ে যাওয়া ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে তিনজন লোক আক্রান্ত হয়েছেন এই ভাইরাসে।

এ ব্যাপারে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর পররিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আমাদের দেশটা ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এটা যতোটা না সমস্যা তার থেকে বেশি সমস্যা আমাদের অসচেতনতা। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দ্রুত আক্রান্ত হবে তার পরিবারের লোক। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রচার-প্রচারণা মেনে চলা সবার জন্য অত্যন্ত জরুরি। আমরা কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশন প্রস্তুত করে বসে রইলাম কিন্তু যাদের সচেতনতা দরকার তারা সচেতন হলো না। এতে করে আমাদের প্রস্তুতি বা প্রচারণা কোনো কাজে আসবে না।

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সবার আগে দরকার আমাদের অভ্যাশ পরিবর্তন করা। যেখানে সেখানে কফ-থুথু ফেলা, কাশি শিষ্টাচার না মানা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকা ইত্যাদি এ রোগের প্রধান অন্তরায়।

ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘আক্রান্ত দেশ থেকে আসা যাত্রীদের আমরা নীল রংয়ের একটা স্বাস্থ্য কার্ড দেই। এয়ারপোর্টে কোনো রোগীর শরীরে কোভিড-১৯ ধরা না পরলেও দেশে ঢোকার ১৪ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য কার্ডে উল্লেখিত লক্ষণগুলো দেখলে আমাদের হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলি।’

ডা. মীরজাদী বলেন, ‘যে দুজন ব্যক্তি করোনাভাইরাস আক্রান্ত, তারা দেশে আসার ৪-৭ দিনের মধ্যে তাদের শরীরে এ সকল লক্ষণ দেখে আমাদের কাছ আসেন এবং তখনই আমরা তাদের শরীরে কোভিড-১৯ এর উপসর্গ পাই। তৃতীয় আক্রান্ত ব্যক্তি প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য।’

তিনি জানান, আমরা আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদেরও কোয়ারেন্টাইনে (সংক্রমণ রোধে কোনো একটি স্থানে আবদ্ধ করে রাখা) রেখেছি। তাদের নিজ বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যদি তাদের আরো উন্নত জায়গার দরকার হয় তাহলে আমাদের নির্ধারিত কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে আসবো।

তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে আসা লোকদের সাথে অস্বাভাবিক ধরনের আচরণ করা হচ্ছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। অনেক বাড়িওয়ালারা তাদের বাসা ছাড়তেও নাকি বলেছেন!’

তিনি বলেন, ‘আপনারা রোগীদের তাদের বাড়িতে থাকতে দিন। না হলে রোগ আরো বেশি ছড়াবে। তাদের যদি হোটেলে থাকতে হয়, তাহলে আমাদেরই কিন্তু বেশি ক্ষতি হবে। ভাইরাসটি বাইরে ছড়িয়ে পড়বে, যদি তার শরীরে থেকে থাকে। এছাড়া এটাও খেয়াল রাখতে হবে- তারা বিদেশ থেকে আসা মানেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। কোনো ভবন বা কোনো অফিসে যদি কোনো ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হন তবে সেক্ষেত্রে ওই রোগীর সংস্পর্শে যারা যারা আসবেন তাদেরই কেবল কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। এটা হবে কেইস বাই কেইস।’

আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর পরীক্ষাটি একটি জটিল ও ব্যয়বহুল পরীক্ষা। এর জন্য উন্নত ল্যাব ও মেশিনারিজ দরকার হয় যা আমাদের দেশে আর কারো কাছে নেই। তাই এ পরীক্ষাটি আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে আমাদের হাতে রেখেছি। এতে করে আমাদের হাতে আক্রান্তের সঠিক সংখ্যাটা আমাদের জানা থাকবে। তবে রোগের ব্যাপকতা হলে বেসরকারি ভাবেও হয়তো এ পরীক্ষা করা হবে।’

তিনি জানান, আমরা এখন পর্যন্ত বিনা টাকায় পরীক্ষাটি করছি। আমাদের একটা মেশিনে ২-৩ ঘণ্টায় ৯০টি পরীক্ষা করা হয়।

ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘রোগীর সংখ্যা বেশি হলে হয়তো আমাদের আর পরীক্ষার দরকারই হবে না কারণ এ রোগের লক্ষ্মণ যেহেতু একই। আমরা রোগীদের পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে তাদের চিকিৎসা শুরু করে দেই।’

এ পরিচালক বলেন, ‘এই রোগ মোকাবেলা করা আমাদের বা রোগীর একার কাজ না। এটা সকলের সমন্বিত কাজ। আমাদের সবাইকে একসাথে এ রোগকে মোকাবেলা করতে হবে। আমরা আমাদের সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি, যদিও প্রস্তুতির শেষ নেই। সরকারের সকল আন্তঃমন্ত্রণালয় এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত করোনার ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।’

আইইডিসিআর পরিচালক ডা. মীরজাদী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে তিনটি কমিটি করেছি। কমিটিকে একেবারে উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। সারাদেশে আমরা আইসোলেশনের ব্যাবস্থা করে রেখেছি। বিদেশ থেকে আগত রোগী, নিজ দেশের রোগী ও রোগের ব্যাপকতা এ তিনটি দিক মাথায় রেখে আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। পাশাপাশি আমরা সবাইকে জনসমাগম এরিয়ে চলতে বলেছি যাতে করে এ রোগের ব্যাপকতা লাভ করতে না পারে।’

তবে আমাদের কাজ বা প্রস্তুতি কিছুই কাজে আসবে না যাদি সবাই সচেতন না হই। সেক্ষেত্রে আমাদের দেয়া নির্দেশনাগুলো সবাইকে গুরুত্বের সাথে পালন করতে হবে। আমরা সকলে মিলেই এ মহামারী মোকাবেলা করবো। পাশাপাশি মিডিয়াকেও তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে অনুরোধ করেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

সিডনিতে শতশিখায় উজ্জ্বল ঢাবি
৫ বছর আগে
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ
প্রাণ হাতে নিয়ে ইউরোপ!
৫ বছর আগে
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ

Advertise with us
Advertise with us
আরও nobodharanews সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com