গণজাগরণ মঞ্চের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকালে সংঘর্ষের আশঙ্কায় উভয় পক্ষের ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের হামলায় মঞ্চের অন্যতম সংগঠক মাহমুদুল হক মুন্সি বাদল এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লাকী আক্তারসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চ গতকাল বিকেলে শাহবাগে কর্মসূচির ডাক দেয়। গণজাগরণ […]
গণজাগরণ মঞ্চের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকালে সংঘর্ষের আশঙ্কায় উভয় পক্ষের ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের হামলায় মঞ্চের অন্যতম সংগঠক মাহমুদুল হক মুন্সি বাদল এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লাকী আক্তারসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চ গতকাল বিকেলে শাহবাগে কর্মসূচির ডাক দেয়। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের অভিযোগ, মঞ্চের কর্মসূচি সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে পুলিশ দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে মেহেদী হাসান গ্রুপের মাহাবুবুল হক প্রিন্স বলেন, গণজাগরণ মঞ্চ বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন সময় আমরা তাদের দুর্নীতির প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশ অন্যায়ভাবে তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে হামলার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড গতকাল বিকেল ৫টায় শাহবাগে পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক দেয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ উভয় পক্ষকে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করে। এ সময় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে পুলিশ। হামলায় মঞ্চের অন্যতম সংগঠক মাহমুদুল হক মুন্সি বাদল এবং লাকি আহত হন। আটককৃতরা হলেন, ইমরান এইচ সরকার গ্রুপের, বাঁধন, রাশেদ, ধীমান, টিটু, সোহাগ ও জয়। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান গ্রুপের মেহেদী হাসানসহ আরেকজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ‘যেহেতু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে তারা কোনো প্রকার অনুমোদন নেয়নি, তাই কোনা পক্ষকেই কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয়নি। তবে ইমরান এইচ সরকার গ্রুপের বাঁধন জানান, তাদের কর্মসূচি পূর্বঘোষিত। কিন্তু পুলিশ তাদের বাধা দেয়। অন্যদিকে মেহেদী হাসান গ্রুপের মাহাবুবুল হক প্রিন্স বলেন, গণজাগরণ মঞ্চ বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন সময় এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হামলার ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ অন্যায়ভাবে তাতে বাধা দেয়। হামলার সময় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘লাখ কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত’ কর্মসূচিতে ইসলামী ব্যাংকের টাকা নেয়ার প্রতিবাদ করায় সরকার আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত। তাই সরকার পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও আটক করছে। পুলিশ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যেভাবে হামলা চালিয়েছে তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের আচরণ হতে পারে না। পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান জানান, গতকাল বিকেলে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকে। সে কারণে নাশকতার আশঙ্কায় কাউকে এখানে একত্রিত হতে দেয়া হয়নি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন ১০ জন। তাদের মধ্যে ৬ জনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষে নরেন্দ্র সাহা জয় এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের পক্ষে মেহেদি হাসান পৃথক পৃথকভাবে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই থেকেই উত্তপ্ত ছিল শাহবাগ।
ইমরানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
এদিকে, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে মঞ্চের একাংশের সদস্যরা। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই অংশের সংগঠকরা এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এফএম শাহীন বলেন, ডা. ইমরান এইচ সরকার গণজাগরণ মঞ্চ আন্দোলনের সাময়িক মুখপাত্র নিযুক্ত হয়ে স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক অনিয়ম করেছেন। তিনি নেতৃত্ব দিতেও ব্যর্থ হয়েছেন। আন্দোলনের ফসলকে নিজ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ঘৃণিত অপচেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। তাই তাকে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।
তিনি বলেন, ইমরান বিভিন্ন ব্ল¬গের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রগতিশীল ব¬øগার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিতর্কিত এবং লাঞ্ছিত করে অপসারণের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। গণজাগরণকে যেন কেউ ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছিলাম। তিনি আরো বলেন, ইমরান এইচ সরকার দেশি এবং প্রবাসী বাঙালিদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহের মাধ্যমে আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমতাবস্থায় গণজাগরণের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে স্বেচ্ছাচারী এবং আর্থিক দুর্নীতিগ্রস্ত ইমরান এইচ সরকারকে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি মেহেদী হাসান প্রিন্স, রাবি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতিসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।