ঘটনাটা নেত্রকোনার এক প্রত্যন্ত এলাকার। অবশ্য, হরহামেশাই আজকাল মাদ্রাসা শিক্ষকদের ব্যাপারে এই ধরণের খবরগুলো আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখতে পাই। মাদ্রাসার অভ্যন্তরেই তারা তাদের বিকৃত মনোকামনা চরিতার্থ করতে ছাত্রদের ব্যবহার করেন। কখনো কখনো পুরোহিতদের ব্যাপারে একইরকম অভিযোগ শোনা যায়। এই কারণে ধর্মীয় শিক্ষাগুরুদের প্রতি আস্থার জায়গাতে সংকট বাড়ছে প্রতিনিয়তই। বাবা মা নীতিশিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করবার বাসনায় […]
ঘটনাটা নেত্রকোনার এক প্রত্যন্ত এলাকার। অবশ্য, হরহামেশাই আজকাল মাদ্রাসা শিক্ষকদের ব্যাপারে এই ধরণের খবরগুলো আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখতে পাই। মাদ্রাসার অভ্যন্তরেই তারা তাদের বিকৃত মনোকামনা চরিতার্থ করতে ছাত্রদের ব্যবহার করেন। কখনো কখনো পুরোহিতদের ব্যাপারে একইরকম অভিযোগ শোনা যায়। এই কারণে ধর্মীয় শিক্ষাগুরুদের প্রতি আস্থার জায়গাতে সংকট বাড়ছে প্রতিনিয়তই।
বাবা মা নীতিশিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করবার বাসনায় মাদ্রাসায় বড় আশা করে মাদ্রাসায় ছেলেমেয়েদের পাঠান। সেখানেও যদি নিজের সন্তান মানসিক এবং শারিরীকভাবে নিপিড়ীত হয়, মানুষ আর যাবে কোথায়! কাকে বিশ্বাস করবে? কার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে পাঠাবে?
নেত্রকোনার যে শিক্ষকের কথা বলছি, তার নাম বশিরুল ইসলাম। তিনি নেত্রকোনা খালিয়াজুড়ি উপজেলার মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক। সে মাদ্রাসার এক ছাত্রকে তাবিজ দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। তার সাথে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করে। মাদ্রাসার যে বাথরুম তার পেছনে নিয়ে যায় ছাত্রটিকে। সেখানেই সে ছাত্রটির উপর নিপীড়ন চালায় নির্মমভাবে।
এই ঘটনা দেখে ফেলেন মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক মিজানুর রহমান। মাদ্রাসার কমিটির কাছে প্রকাশ করেন ব্যাপারটি। মাদ্রাসা কমিটি পুলিশকে জানায়। গ্রেফতার করা হয় প্রধান শিক্ষক বশিরুল ইসলামকে।
জানা যায়, বশিরুল ইসলাম এই ছেলেটিকে এক মাস ধরে এভাবে নিপীড়িত করে আসছেন। ছেলেটি পরিবারের কাছে নির্যাতিত হবার ইঙ্গিত দিলেও পরিবার প্রাথমিকভাবে অতটা গুরুত্ব দেয়নি। যদিও এখন পরিবারই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করতে উদ্যোগ নিয়েছে।
এর আগেও আমরা দেখেছি নারায়ণগঞ্জের এক মাদ্রাসা শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তাবিজ দিয়ে পাগল বানিয়ে ফেলার ভয় দেখিয়ে একেকদিন একেক ছাত্রীকে ধর্ষণ করত। সেই শিক্ষক মাদ্রাসায় পড়তে আসা নিজের নিকটাত্মীয়ের আট বছরের শিশুকেও একাধিকবার ধর্ষণ করে। একই ভাবে আখেরাতের ভয়, পোষা জ্বিনের ভয় দেখিয়েও ধর্ষণ করার কথা আমরা দেখেছি পত্রিকায়।
এইসব ঘটনা সমাজের অবক্ষয়কে ফুটিয়ে তুলে করুণভাবে। একজন মাদ্রাসা শিক্ষক যখন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরেই এমন নির্মম নিপীড়ন চালান, তখন এসব দিকে কঠিন নজরদারি দেয়ার সময় এসেছে।
বাবা মাকেও সচেতন হতে হবে। বয়ঃসন্ধিতে ছেলেমেয়েরা নিজের ভেতরের মানসিক পরিবর্তন এবং একই সাথে শারিরীক পরিবর্তনের কারণে অন্তর্মুখী হয়ে পড়ে। অনেক কথাই তারা বলতে পারে না। কারণ, আমাদের সমাজে খোলামেলা কথা বলা, মানসিক ব্যাপার নিয়ে কথা বলা এখনো ট্যাবুর মতো।
বিবিধ গোঁড়ামির সুযোগে এবং কুসংস্কারের সুযোগ নিয়ে যেসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এর দায় কারোই এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই। আর মাদ্রাসা শিক্ষকদের ধর্ষণে জড়ানোর খবর অনেকে ধামাচাপা দিতে চায়। ধর্মের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে, তারা ইনিয়ে বিনিয়ে কখনো কখনো সমর্থনও করে মাদ্রাসা শিক্ষকদের ধর্ষণের ঘটনাকে।
এভাবে করে আমরাই ধর্মকে ঢাল বানিয়ে, বা ধর্মের লেবাজে অপরাধ করাকে সমর্থন দেই কেউ কেউ। স্পেডকে স্পেড বলা জরুরি। এমন সমাজ আমরা কেউ চাইনা, চাই না এমন মাদ্রাসা শিক্ষকদেরও।
সূত্র: দশ দিগন্ত