Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ nobodharanews

বাংলাদেশি স্থানীয় সংবাদ
৫:৩৮ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৪

মন্ত্রিত্ব থেকে লতিফকে অপসারণ

বিশেষ সংবাদদাতা : ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে  লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটান প্র্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। এর পরপরই গতকাল রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বেলা তিনটার দিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গত […]

মন্ত্রিত্ব থেকে লতিফকে অপসারণ
৫ মিনিটে পড়ুন |

Untitled-139

বিশেষ সংবাদদাতা : ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে  লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটান প্র্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। এর পরপরই গতকাল রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বেলা তিনটার দিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির সঙ্গে মতবিনিময়ে লতিফ সিদ্দিকী রাসূল (সা:) হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে কটূক্তি করাসহ প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাংবাদিকদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে, এমনকি ক্ষমতাসীন দলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গত ৩ অক্টোবর গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে প্র্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী পদের নিয়োগের অবসান ঘটানোর জন্য প্র্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী প্র্রেসিডেন্ট সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের (১) দফার (গ) উপদফা অনুসারে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী পদের নিয়োগের অবসান ঘটানোর নির্দেশ প্রদান করেন। এর ভিত্তিতে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রীর পদে অন্য কাউকে নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে।
সাংবাদিকরা জানতে চান, লতিফ সিদ্দিকী পদত্যাগ করেছেন বলে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। সে ক্ষেত্রে তাকে অব্যাহতি দেয়া হলো কেন? জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। শিগগিরই মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে কি না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আশু রদবদল সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। লতিফ সিদ্দিকীকে ‘কী’ কারণে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে কি-না? জবাবে তিনি বলেন, কারণ উল্লেখ করা হয়নি। উল্লেখের আবশ্যকতাও নেই। সংবিধানেও এ বিষয়ে বলা নেই।
গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে গিয়ে প্র্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসেন ভূইঞা সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন পড়ে শুনিয়ে তিনি বলেন, প্র্রেসিডেন্ট সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের ১ দফার গ উপধারা অনুসারে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী পদে নিয়োগের অবসান ঘটানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কেন লতিফের মন্ত্রিত্বের ‘অবসান’ ঘটানো হলো- সে বিষয়টি অবশ্য প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবও এর বাইরে কিছু বলেননি।
এই অবসানের অর্থ ‘অপসারণ’ না ‘অব্যাহতি’- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দুটো শব্দ একই অর্থ প্রকাশ করে। আমরা সংবিধানের ভাষা ব্যবহার করেছি।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের সফরে থাকার সময় গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ নিয়ে মন্তব্য করেন। এরপর তা নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। লতিফ সিদ্দিকী সেদিন বলেছিলেন, আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক মানুষ হজে যাওয়ায় দেশের অর্থ আর শ্রম শক্তির ‘অপচয়’ হয়। তার ওই বক্তব্যের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে কয়েকটি ইসলামী দল আন্দোলনের হুমকি দেয়। তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তারের দাবিও তোলে বিএনপি। লতিফ সিদ্দিকী ঈদ করার পর বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন। এর মধ্যেই ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় কমপক্ষে দুই ডজন মামলা হয়েছে।
নিউইয়র্ক থেকে ফিরে গত ৩ অক্টোবরই এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন লতিফ সিদ্দিকী আর মন্ত্রিসভায় থাকবেন না। তবে প্র্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ হজ পালনে সউদী আরবে থাকায় লতিফকে বাদ দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা ঝুলে থাকে আরো এক সপ্তাহ।
ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি নির্দেশ দিলে রিজাইন (পদত্যাগ) করতে হবে। নইলে বিদায় করে দিতে হবে। কিন্তু বিদায় দিতে হলে প্র্রেসিডেন্টের কাছে ফাইল পাঠাতে হবে। প্র্রেসিডেন্ট হজে গেছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবও হজে গেছেন। আমি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ফাইল তৈরি করে রাখতে বলেছি। অফিস খুললে ফাইল চলে আসবে।
হজ পালনের পর প্র্রেসিডেন্ট দেশে ফেরেন গত শুক্রবার। মন্ত্রিপরিষদ সচিবও এরই মধ্যে ফিরে আসেন। গত শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসেন ভূইঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে (লতিফ সিদ্দিকীর অপসারণ) একটি ফাইল আসবে। আমরা একটি সামারি তৈরি করে তা প্র্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে পাঠাব। প্র্রেসিডেন্ট তাতে সই করার পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এরপর গতকাল দুপুর ২টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সঙ্গে নিয়েই বঙ্গভবনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে বৈঠক করেন পুরো এক ঘণ্টা। এরইমধ্যে প্র্রেসিডেন্টের সই নিয়ে সচিবালয়ে ফিরে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রেসিডেন্ট সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রী পদে লতিফ সিদ্দিকীর নিয়োগের অবসান ঘটান। টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) আসন থেকে পাঁচবার সংসদে যাওয়া লতিফ সিদ্দিকী গত মহাজোট সরকারের পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। শেখ হাসিনা টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর চলতি বছরের শুরুতে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি।
টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী সিদ্দিকীদের জ্যেষ্ঠ ভাই ৭১ বছর বয়সী লতিফ সিদ্দিকী রাজনীতিতে স্পষ্টভাষী হিসেবে যেমন পরিচিত, তেমনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তীর্যক বক্তব্য দিয়ে এর আগেও অসংখ্যবার আলোচনায় এসেছেন। নিজের ভাই আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর ‘হঠাৎ জামায়াত ঘনিষ্ঠতাকে’ যেমন তিনি ‘বীর উত্তমের রাজাকার হওয়ার শখ’ বলে সমালোচনা করেছেন, তেমনি বাড়িতে ডেকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রকৌশলীকে পেটানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই লতিফ সিদ্দিকীই ১৯৮০-এর দশকে প্রবাসে থেকে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সভাপতি হওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। আবার ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর তিনিই শেখ হাসিনার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন।
ষাটের দশকে বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের দিনগুলোতে একাধিকবার কারাগারে যেতে হয় লতিফ সিদ্দিকীকে। ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে ১৯৬৪-৬৫ সালে তিনি করটিয়া সাদত কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ছয় দফা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় এই নেতা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসাবেও ভূমিকা রাখেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর সামরিক শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকীকে প্রায় ছয় বছর কারাগারে কাটাতে হয়। এরশাদের আমলে স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী নারী সংসদ সদস্য হওয়ার পর মুক্তি পান তিনি। গত সরকারের শুরুর দিকে এক অধিবেশনে সংসদের প্রথম সারিতে মন্ত্রী ও সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের অনুপস্থিতি দেখে তখনকার স্পিকার ও বর্তমান প্র্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ক্ষোভ প্রকাশ করলে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই তার জবাব দেন লতিফ। সংসদে তিনি বলেন, স্পিকার হচ্ছেন সংসদের সেবক। তিনি প্রভু নন। কোনো সংসদ সদস্যের পয়েন্ট অফ অর্ডারেই শুধু রুলিং দিতে পারেন স্পিকার।
২০১১ সালে পাট নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘যথাযথ মর্যাদা’ না দেয়ার অভিযোগ তুলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতেই আয়োজকদের তুলোধুনা করেন তখনকার পাটমন্ত্রী লতিফ। বাংলাদেশে সব পোশাক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেই গত বছর রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনাকে একটি চিঠি লেখেন তখনকার বস্ত্রমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী। আর সে চিঠির শিরোনাম ছিল ‘ট্রেড ইউনিয়ন প্রশ্নে আপনি বলার কে? – http://www.dailyinqilab.com/2014/10/13/211646.php#sthash.gbIwTAE7.dpuf

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

প্রাণ হাতে নিয়ে ইউরোপ!
৫ বছর আগে
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ
রাজশাহীর ‘কলাই রুটি’
৫ বছর আগে
বাংলাদেশি সংবাদ

Advertise with us
Advertise with us
আরও nobodharanews সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com