র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা ও নূর হোসেনসহ আসামি ৩৫ জন নারায়নগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের ঘটনায় আদালতে চার্জশীট দাখিল স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় নিহত নজরুলে স্ত্রী বিউটি আক্তার এবং এডভোকেট চন্দন সরকারের মেয়ের জামাতা দায়ের করা দুটি মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) বুধবার বিকেলে আদালতে দাখিল করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল। প্রায় ১১ […]
র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা ও নূর হোসেনসহ আসামি ৩৫ জন
নারায়নগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের ঘটনায় আদালতে চার্জশীট দাখিল
স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় নিহত নজরুলে স্ত্রী বিউটি আক্তার এবং এডভোকেট চন্দন সরকারের মেয়ের জামাতা দায়ের করা দুটি মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) বুধবার বিকেলে আদালতে দাখিল করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল। প্রায় ১১ মাস তদন্ত শেষে দায়ের করা এ চার্জশীটের উপর শুনানীর জন্য আগামী ১১মে ধার্য করেছে আদালত। জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন তিনি। নারায়নগঞ্জ কোর্ট ইন্সেপেক্টর হাবিবুর রহমান এবিষয়টি নিশ্চিত করছেন। চার্জশিটে র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, উপ-অধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানাসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। চার্জশিটের ৩৫ আসামির মধ্যে ২২ জন কারাগারে আটক আছেন। চার্জশিটে ১২৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও ১৬২টি আলামত সংগ্রহের কথা উলে¬খ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরের দিন আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। অপহরণের পর পরই নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করে নজরুলের স্ত্রী। এছাড়া লাশ উদ্ধারের পর চন্দন সরকারের মেয়ের জামাতা আরেকটি মামলা দায়ের করে। পরে ফতুল্লা থানা থেকে মামলা দুটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। সাত খুনের দু’টি মামলায় এ পর্যন্ত র্যাবের ১৭ সদস্যসহ মোট ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, উপ-অধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার এম এম রানাসহ র্যাবের ১৯ জন সদস্য রয়েছেন। বাকি ১১ জন মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ ও বেতনভুক্ত কর্মচারী। নূর হোসেন বর্তমানে কলকাতার একটি কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
অভিযোগ আছে, নূর হোসেনের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে তার প্রতিপক্ষকে খুন করে র্যাব। নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক মামুনুর রশিদ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তদন্ত দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এক ভাগে অপহরণ ও হত্যা। এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন র্যাবের ১১ সদস্য। আর দ্বিতীয় ভাগে ছিল লাশ গুমের চেষ্টা। এখানে র্যাবের আট সদস্য জড়িত ছিলেন। এর বাইরে মামলায় ১৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে র্যাবের ১২ সদস্য রয়েছেন। বাকি পাঁচজন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ নাগরিক। র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তার মধ্যে এম এম রানা শুধু অপহরণের সময় ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। বাকি দু’জন পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি মো: সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, দুই মামলায় ১৬ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে র্যাবের ৩ কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ১২৭ জন কে স্বাক্ষী করা হয়েছে। ১৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দুই বস্তায় ১৬২ ধরনের আলামত আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।