হালিম আনছারী, রংপুর থেকে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লি¬উ মজিনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পাশে আছে। তবে এদেশের সমস্যাগুলো সমাধান করবে সরকার। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আমরা জানিয়েছি। সমঝোতার মাধ্যমে অনেক কিছুই করা সম্ভব। বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি দেশ। এ দেশে যে সম্পদ রয়েছে তা ব্যবহার করেই এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম […]
হালিম আনছারী, রংপুর থেকে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লি¬উ মজিনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পাশে আছে। তবে এদেশের সমস্যাগুলো সমাধান করবে সরকার। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আমরা জানিয়েছি। সমঝোতার মাধ্যমে অনেক কিছুই করা সম্ভব। বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি দেশ। এ দেশে যে সম্পদ রয়েছে তা ব্যবহার করেই এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। তিনি গতকাল (শনিবার) সকালে রংপুর পর্যটন মোটেলে সাংবাদিকদের প্রেসব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
উত্তরাঞ্চল সফরের শেষ দিন গতকাল সকালে ঢাকা রওয়ানার প্রাক্কালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এ অঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত চমৎকার। তাদের আতিথিয়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। উত্তরাঞ্চল একটি সম্ভাবনাময় কৃষি অঞ্চল। এ অঞ্চলে যেমন শিল্পায়নের সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি কৃষিরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। রয়েছে পর্যটন সম্ভাবনা। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব। তবে এ অঞ্চলে কিছু সমস্যা যেমন নদীভাঙ্গন একটি বড় সমস্যা। শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এ অঞ্চলের একটি বড় ধরনের সমস্যা। এগুলো সমাধান করা সম্ভব। এ অঞ্চলের শিল্পায়নের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও জ্বালানি ও গ্যাসের অভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে না। তিনি সাত দিনের উত্তরাঞ্চল সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, আমি গত সাত দিনের সফরে পাবনা, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাট ঘুরে বেড়িয়েছি। এসব এলাকায় গিয়ে অনেক কিছু দেখেছি। প্রতিটি এলাকা ধানে ধানে ভরে গেছে। লালমনিরহাটে ভুট্টার ক্ষেত দেখে মনে হয়েছে আমি আমার নিজ গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছি। রংপুর তাজহাট জমিদার বাড়ি, বগুড়া মহাস্থানগড়, পাবনা হার্ডিঞ্জ ব্রীজ গিয়েছি। এসব খুবই চমৎকার। এগুলো পর্যটন শিল্পের একটি সম্ভাবনাময় নিদর্শন। বুড়িমাড়ী স্থল বন্দর গিয়েছি। সেখানে বাংলাদেশ-ভাতর-ভুটানের বাণিজ্য দেখেছি। গোটা উত্তরাঞ্চলে ধান, আলু, ভুট্টার ফলন খুবই ভালো হয়েছে। এঅঞ্চলের আলু বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। জয়পুরহাটের আলু ডাস্ট করে অষ্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে। দুগ্ধ খামারগুলো আমাকে আকৃষ্ট করেছে। কৃষকরা এ অঞ্চলে এখন উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে যা দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ এক সময় কৃষিতে বিপ¬øব ঘটাবে। এজন্য তিনি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, রংপুর অঞ্চলের কুটির শিল্প খুবই চমৎকার। আমি রংপুরের শতরঞ্জি পল¬øী দেখেছি, দেখেছি কিভাবে মহিলারা সুন্দর করে ম্যাট, কার্পেট তৈরি করছে। এগুলো বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশের কুটির শিল্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাদৃত হচ্ছে। আমি লালমনিরহাটে একজন মহিলার সাথে কথা বলেছি। তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁতভাবে কুটির শিল্প তৈরি করেন। খুব শিগ্গিরই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি মেলায় অংশ নিতে যাচ্ছেন। এ মেলায় বিশ্বের মোট ১৫০ জন উদ্যোক্তা অংশ নিতে পারবে। তার মধ্যে এ অঞ্চলের মহিলা একজন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা আরও বলেন, আমি ইতিমধ্যে বাংলাদেশের অনেক এলাকা ঘুরে দেখেছি। এতে করে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশ দিন দিন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বে ‘কলা’র রাজধানীতে পরিণত হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কলার চাষ খুব ভালো হচ্ছে। কলার ক্ষেতগুলো দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ঘুরে বেড়াতে চাই। এসব এলাকার কৃষ্টি-কালচার, সমস্যা-সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাই। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র চালাচ্ছে সেগুলো সম্পর্কেও জানতে চাই। কারণ আমি শুধু ঢাকার জন্য আমেরিকার রাষ্ট্রদূত নই, আমি গোটা বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। আর এ কথাটাই আমি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্ল¬ুর রহমানকে বলেছিলাম।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন, ইউএসএআইডি বাংলাদেশের মিশন ডিরেক্টর ইয়ানিনা জেরুজালস্কি। তিনি ইউএসএআইডির সহায়তায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের বর্ণনা দেন।