টানা ৬৫ দিন পর পেট্রোলবোমা, ককটেল কিংবা নাশকতার আশঙ্কামুক্ত একটি দিন পার করলো নগরবাসী। গত ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টানা হরতাল অবরোধের পর গতকাল ২০ দলীয় জোট হরতাল শিথিল করায় মানুষ ঘর থেকে নাশকতার আশঙ্কা ছাড়া ঘর থেকে বের হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত ও ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে হয়েছে। গত সোমবার রাতে হরতাল […]
টানা ৬৫ দিন পর পেট্রোলবোমা, ককটেল কিংবা নাশকতার আশঙ্কামুক্ত একটি দিন পার করলো নগরবাসী। গত ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টানা হরতাল অবরোধের পর গতকাল ২০ দলীয় জোট হরতাল শিথিল করায় মানুষ ঘর থেকে নাশকতার আশঙ্কা ছাড়া ঘর থেকে বের হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত ও ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে হয়েছে।
গত সোমবার রাতে হরতাল শিথিলের ঘোষণা দেওয়ার পর রাত ১০টার দিকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অভিভাবকদেরকে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে স্কুল খোলা রাখার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একজন অভিভাবক বলেন, হরতালের কারণে এতোদিন সপ্তাহের স্বাভাবিক দিনগুলোতে ক্লাস হতো না। হরতাল শিথিল হওয়ায় এসএমএসের মাধ্যমে আমরা জেনে গেছি স্কুলে ক্লাস হবে। সে হিসেবে সকালে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়েছি।
এতোদিন শুধু শুক্রবার ও শনিবার ক্লাস হতো।আজ আর পেট্রোলবোমা কিংবা ককটেলের ভয় নেই। আর শঙ্কামুক্তভাবে আমরা সন্তানদের নিয়ে স্কুলে এসেছি। এভাবে যদি প্রতিদিন আসতে পারতাম, খুব ভাল লাগতো। গত দুই মাস ধরে সপ্তাহের শুধুমাত্র শুক্রবার ও শনিবারে ক্লাস হচ্ছে। হঠাৎ করে সপ্তাহের একদিন বাড়তি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হয়েছে।
এদিকে স্কুল-কলেজগুলোর স্বাভাবিক চিত্রের পাশাপাশি রাস্তাঘাটেও ছিল ব্যাপক ট্রাফিকের সমাগম। দীর্ঘদিন পর মানুষ যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছে। নগরীর সড়কগুলো দেখে মনে হয়েছে বহুদিন পর একটি কর্মদিবস পাওয়া গেছে। রাস্তাঘাটে মানুষের কোলাহল যেমন ছিল তেমনি ছিল যানবাহনের সরব উপসি’তি। যানজট ঠেকাতে হিমশিম খেতে হয়েছে ট্রাফিক পুলিশকে।
এতোদিন ব্যাংকগুলো পেছনের দরজা দিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালালেও দীর্ঘ প্রায় ৬৪ দিন পর সদর দরজা খোলা রেখে ব্যাংকিং কার্যক্রম করেছে ব্যাংকগুলো।
স্বাভাবিক নগরীর এই চিত্র শুধু আদালত, ব্যাংক কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ছিল না, মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ছিল। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করায় নগরজুড়ে আনন্দ মিছিল হয়েছে। আর সেই আনন্দ মিছিল করতে রাস্তায় নেমেছিল এতোদিন হরতাল আহবানকারী বিএনপিও। মহানগরীর ভেতর ছাড়াও মহাসড়কেও ছিল যানবাহনের বাড়তি চাপ।