রিমান্ড (REMAND) বাংলায় অর্থ ফেরৎ আনা, কিন্তু আইনী ভাষায় “পুলিশ হেফাজতে আটক” রাখা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শব্দার্থ যাহাই হইক – “রিমান্ড” কি ও কত প্রকার এটা ভুক্ত ভোগী ব্যক্তি/পরিবার ছাড়া কেহ বলা তো দূরের কথা উপলব্ধি ও করতেও পারে না। রিমান্ডে মানবাধিকার, আইন বা সংবিধানের কার্যকরিতা সবই অচল, তবে কর্তার ইচ্ছায় কর্ম এটাই শিরোধার্যা। বিগত কয়েক বৎসর যাবৎ রিমান্ড নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাংবাদিকের ভাষায় “রিমান্ড বানিজ্য” নামে একটা কথাও প্রকাশ্যে বাজার বন্দরে আওড় হচ্ছে। যা দেশের প্রায় সকল জনগনই অবগত রয়েছেন। দেশবাসীর মত আমার প্রশ্ন – “রিমান্ড” কি একটি বানিজ্যিক বিষয়? এ প্রশ্ন কোথায় রাখবো তা জানিনা। কারণ যাদের নিকট প্রশ্ন রাখবো তাদের চোখ, মূখ, কান এখন বন্ধ, প্রমোশনও লোভনীয় পোষ্টিং এর প্রত্যাশায় তারাই পক্ষপাতিত্বের দোষে দুষ্ট- তবে আমার প্রত্যাশা জাতির বিবেকের নিকট। রিমান্ডে অনেক আসামী মৃত্যু হয়েছে, বানোয়াট স্বীকারোক্তি আদায় করে কর্তার ইচ্ছায় বিচার কার্যকে প্রভাবিত করা হয়েছে, কিন্তু এ পর্যন্ত কোন পুলিশ কর্মকর্তার বিচার হয় নাই, একমাত্র পুলিশ সহকারী কমিশনার আকরাম ছাড়া। রিমান্ডে রুবেল হত্যার জন্য তার যাবৎজীবন সাজা হয়েছে। তাহাও হাতো না, যদি না দেশের রথী, মহারথীরা বিচারের দাবীতে স্বোচ্ছার না হতেন। রিমান্ডে আসামীর মৃত্যু, পঙ্গুত্ব ও বানোয়াট স্বীকারোক্তি যখন চরম পর্যায়ে এবং এর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কলম যখন পত্রিকার পাতায় ঝড় তুলছে তখন ২০০৯ সালে সাবের হোসেন চৌধুরী- এম.পি প্রাইভেট “নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারন) “আইন প্রনয়নের জন্য জাতীয় সংসদে একটি প্রাইভেট বিল উপস্থাপন করেন। সরকার দলীয় এম.পি প্রাইভেট বিল উপস্থাপন করেছেন, যা সে সময়ে সরকারের মূখ রক্ষা করেছে। কিন্তু কার্যতঃ কিছুই হয় নাই। ২০১০ সালে রিমান্ডে পর পর তিন জন মৃত্যু বরন করায় ডি.এম.পি কমিশনার ১২টি দিক নির্দেশনা জারী করে পরিস্থিতি ধামা চাপা দেয়, যা ছিল নিছক লোক দেখানো। ২ বৎসর পর নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারন) আইন’২০১৩ পাস হলেও এর কার্যকরিতা তো হয় নাই বরং এর সংশোধনের জন্য ফেব্রুয়ারী/২০১৫ ইং পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট লিখিতভাবে জোরদাবী উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এ সংশোধনের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক মানবাবিধার সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে।
জমিদারদের লাঠিয়াল বাহিনীর মতোই পুলিশ সরকার অনৈতিক সকল চটজচঙঝঊ ঝঊজঠঊ করে বলেই কোন সরকারই তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায় না। সকল সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকেই পুলিশ পিটিয়েছে। আঃ মতিন চৌধুরী, মোঃ নাসিম, লুৎফর জ্জামান বাবর কেহই তাদের হাত থেকে রক্ষা পায় নাই। পুলিশের পিটুনী খেয়েও বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোঃ নাসিম এখন তাদের প্রশংসায় পঞ্চমূখ- কারণ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রোবটের মত পুলিশকে অনৈতিকভাবে ব্যবহার করা। এতে সাধারণ পুলিশ বা পুলিশ বাহিনী কোন লাভ হয় নাই; বরং ইমেজ সংকট হয়েছে। লাভবান হয়েছেন বড় বড় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের যারা দুদক আইনের ধরা ছোয়ার বাহিরে।
পত্রিকান্তরে প্রকাশ যে, রিমান্ডে নেয়া আসামীদের ১৪ ধরনের নির্যাতন করা হয় সেগুলোর মধ্যে গিটা নির্যাতন, বাদুড় ধোলাই নির্যাতন, ওয়াটার থেরাপি নির্যাতন, উলঙ্গ করে নির্যাতন, সারা দিন না খাইয়ে নির্যাতন, বোতল থেরাপি নির্যাতন, ডিম থেরাপি নির্যাতন, ডিস্কো ড্যান্স নির্যাতন, সিলাই নির্যাতন, ঝালমুড়ি নির্যাতন, টানা নির্যাতন, বাতাস নির্যাতন অন্যতম। আসামীদের হাত-পায়ের প্রতিটি জয়েন্টে লাঠিপেটা করার নামই হলো গিটা নির্যাতন। এ নির্যাতনের ফলে হাড়-মাংস থেতলে যায়। কিন্তু বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না। চিৎকরে ফ্লোরে ফেলে দুই হাত, দুই পা বেঁধে মুখে গামছা বা কাপড় ঢুকিয়ে পানি ঢেলে মারধর করাকে বলা ওয়াটার থেরাপি। নাকে-মুখে পানি দিতে থাকলে নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পরে আসামিরা সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য বলে তথ্য দিতে থাকে। দুটি উঁচু টেবিলের মাঝখানে দুই হাত বেঁধে ঝুলিয়ে পেটানোকে বলা হয় বাদুড় ধোলাই। এ রকমের নির্যাতন করলে যে কোন আসামি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। গরম বা প্রচন্ড ঠান্ডা ডিম আসামিদের মলদ্বারে ঢুকিয়ে নির্যাতন করাকে বলা হয় ডিম থেরাপি। এ নির্যাতনের ফলে আসামির মলদ্বার ফুলে যায় এবং অনবরত রক্ত পড়তে থাকে। যতক্ষণ আসামিরা স্বীকারোক্তি না দেয় ততক্ষণ মলদ্বারে ডিম ঢুকাতে থাকে। পরে বাধ্য হয়ে স্বীকারোক্তি দিয়ে দেয়। হাত-পায়ে অবিরাম ইলেকট্রিক শক দেয়াকে বলা হয় ডিস্কো ড্যান্স থেরাপি। হাত-পায়ের নখে মোটা সুই ঢুকানোকে বলা হয় সিলাই নির্যাতন। সুই ঢোকানোর পর হাত-পায়ের নকগুলো ফুলে যায়। চোখ-মুখ ও নাকে শুকনো মরিচ লাগানোকে বলা হয় ঝালমুড়ি নিয়াতন। সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে নির্যাতন করাকে বলা হয় বাতাস পদ্ধতি। সাধারণ আসামিদের পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রী, এমপি, আমলা ও ব্যবসায়ীদের রিমান্ডে নিয়ে একই কায়দায় নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।গ্রেফতার ও রিমান্ড সম্পর্কে ফৌজদারী কার্যবিধির ৬১ এবং ১৬৭(২) ধারা যা বলা হয়েছে তা নিম্মরূপ
: ধারা ৬১ – গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘন্টার বেশী সময় আটক রাখা যাইবে না- “১৬৭ ধারা অনুসারে ম্যাজিসষ্ট্রেটের বিশেষ আদেশ না থাকিলে এইরূপ আইনের সময় গ্রেফতারের স্থান হইতে ম্যাজিসষ্ট্রেটের আদালতে যাইবার সময় বাদ দিয়া ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার বেশী হইবে না।”
ধারা ১৬৭(২) – ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা না গেলে তখনকার পদ্ধতি :-
(১) যখনই কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিয়া হেফাজতে আটক রাখা হয় এবং প্রতীয়মান হয় যে, ৬১ ধারায় নির্ধারিত চব্বিশ ঘন্টা সময়ের মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত করা যাইবে না এবং এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ রহিয়াছে যে, অভিযোগ বা সংবাদ দৃঢ়ভিত্তিক, তাহা হইলে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার বা তদন্তকারী পুলিশ অফিসার, তিনি যদি সাব-ইন্সপেক্টর পদের নিম্মপদস্থ না হন, অবিলম্বে অতপর নির্ধারিত ডায়রীতে লিখিত ঘটনা সম্পর্কিত তথ্যের নকলসহ আসামীকে নিকটতম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(২) এই ধারা অনুসারে আসামীকে যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করা হইবে, তাহার সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করিবার অধিক্ষেত্রে থাকুক বা না থাকুক, তিনি তাহার বিবেচনামত আসামীকে উক্তরূপ হেফাজতে আটক রাখিবার জন্য বিভিন্ন সময়ে কর্তৃত্ব প্রদান করিবেন, তবে এইরূপ আটকের মেয়াদ সর্বমোট পনের দিনের অধিক হইবে না। মামলাটি বিচার করিবার অথবা বিচারার্থে পাঠাইবার অধিক্ষেত্রে যদি তাহার না থাকে এবং তিনি আরও আটক রাখা অপ্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করেন, তাহা হইলে তিনি আসামীকে এইরূপ অধিক্ষেত্রসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণের আদেশ দিতে পারিবেন তবে শর্ত থাকে যে, তৃতীয় শ্রেণীর কোন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সরকার কর্তৃক এই বিষয়ে বিশেষভাবে ক্ষমতাবান নহেন, এইরূপ কোন দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আসামীকে পুলিশের হেফাজতে আটক রাখিবার কর্তৃত্ব দিবেন না। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৩নং অনুচ্ছেদ মোতাবেক “গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ” নিম্মরূপ
:- (১) গ্রেফতারকৃত কোন ব্যক্তিকে যথা সম্ভব শীঘ্রই গ্রেফতারের কারণ জ্ঞাপন না করিয়া প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তাহার মনোনীত আইনজীবির সহিত পরামর্শের ও তাহার দ্বারা আতœপক্ষ সমর্থনের অধিকার হইতে বঞ্চিত করা যাইবে না।
(২) গ্রেফতারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিসষ্ট্রেটের সম্মূখে গ্রেফতারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে (গ্রেফতারের স্থান হইতে ম্যাজিসষ্ট্রেটের আনানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ব্যতিরেকে) হাজির করা হইবে এবং ম্যাজিসষ্ট্রেটের আদেশ ব্যতিত তাহাকে তদতিরিক্ত কাল প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না।
“রিমান্ড” এ থাকাবস্থায় আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশী আচরন সম্পর্কে ২০০৩ সনে সুপ্রীম কোর্ট নিম্মবর্ণিত চারটি দিক নির্দেশনা প্রদান করেন যা নিম্মরূপ :-
(ক) কাঁচের দেয়াল সম্পন্ন একটি কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
(খ) জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে অভিযুক্তদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাইতে হবে।
(গ) প্রতিবার রিমান্ডের ম্যায়াদ তিন দিনের বেশী হইবে না।
(ঘ) কাঁচের দেয়াল নিমার্ণ না হওয়া পর্যন্ত আসামীর আইনজীবি ও আতœীয় স্বজনদের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
কিন্তু রাজনৈতিক মামলা সহ কোন মামলাতেই পুলিশ রিমান্ড সংক্রান্ত আইন, সংবিধান ও সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ অনুশরণ করছে না। বাংলাদেশ মানবধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রাজনৈতিক ভাষায় অনেক চটকদার কথা বলেন। কিন্তু একজন অসুস্থ্য পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ রুহুল কবীর রিজভী যখন একের পর এক রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে – এ সম্পর্কে তার মূখে কোন কথা সড়ে না। এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জবাব আসে- আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। আমার প্রশ্ন আইন নিজস্ব গতিতে চলার মাপ কাঠি কি? আইনজীবির সাথে পরামর্শ করার সূযোগ দেয়া তো দূরের কথা, প্রায়ই ৩/৪ দিন আটক রেখে নির্যাতনের পর (আটকের কথা গুপন রেখে) গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে চালান দেয় – এ কথা পানের দোকানদার ও রিক্সাচালকসহ সকলেই জানেন – কিন্তু জানেন না শুধু তারা যাদের হাতে প্রতিকারের ক্ষমতা রয়েছে। সব প্রতিকারই নিরব নিস্তব্ধ হয়ে আছে শুধুমাত্র ক্ষমতাধর একজন যাতে অসুন্তষ্ট না হন।
পুলিশ নির্ভর এ সরকার পুলিশের অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারবে না; বরং “আমি দেখবো” বলে ব্লাঙ্ক চেক প্রদান করা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মীদের হয়রানী করে কি সরকারের শেষ রক্ষা হবে? বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীক বলেছেন- “প্রধানমন্ত্রী ইয়াহিয়ার ভাষায় কথা বলছেন।” দেশের প্রধান যখন এ ভাষায় কথা বলেন তখনতো রিমান্ড বানিজ্যে ধস নামার কোন কারণ নাই।
দেশের বুদ্ধিজীবিরা মুক্তচিন্তা কথা বলে; মুক্ত চিন্তার বিকাশের জন্য জীবন মন বাজী রেখে কথা বলেন। অথচ সরকারের অনৈতিক, দমন পিড়নের বিরুদ্ধে মুক্তভাবে মত প্রকাশে সরকারী প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে কথা বলেন না – কারণ পাছে দেশের প্রধন এবং একমাত্র কর্তা যদি অসন্তোষ্ট হয়ে যান – তবে তো কাংখিত প্রাপ্তি থেকে তারা বঞ্চিত হবেন। সংলাপের দাবী জানিয়ে সুশীল সমাজ দাবী জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তাদের ১১ জনের তালিকা রয়েছে যারা ইতোমধ্যে সুবিধা আদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট ধর্না দিয়েছেন।
আইনের শাসন যখন প্রশ্ন বিদ্ধ হয়ে যায় তখন মানুষ কোথায় আশ্রয় পাবে? ১৯৭১ ইং সনের ৯ই মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি জনাব বি.এ. সিদ্দিকী পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভনর হিসাবে জেনারেল টিক্কা খানকে শপথ বাক্য পাঠ করাতে অস্বীকার করায় – মহান স্বাধীনতা আন্দোলন আরো বেগমান হয়, যার ফলে পাকিস্তান স্বৈর শাসনকে নড়ে চড়ে বসতে হয়েছে। জনগনের আশা আখাংকার প্রতিফলনের জন্য বিচারপতি বি.এ. সিদ্দিকীর আর্ভিরবাব হবে কিনা জানি না – তবে বাঙ্গালী জাতীয় চরিত্র কোন দিনই কোন আনাচার দীর্ঘ দিন সহ্য করে নাই। আইনের ব্যানারে এ বেআইনী নির্যাতন থেকে ভিন্ন মতোদর্শীরা সরকারের অত্যাচার থেকে কবে রক্ষা পাবে? আইন নিজস্ব গতিতে চলার মাপ কাঠি কবেই বা নিরুপন হবে? আইন নিজস্ব গতিতে চলছে কিনা? বা সাংবিধানিক অধিকার ব্যহত হচ্ছে কি না – এ বিষয়টি দেখার দায়িত্ব কাহার? সংবিধান এখানে কি বলে?
এ অনাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির দিকে তাকিয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই যেখানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নিয়েছেন তখন আমরা কি প্রতিকারের জন্য রাষ্ট্রপতি বা প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ আশা করতে পারি? উত্তর নেগেটিভ হওয়াই বাঞ্চনীয়, কারণ সংবিধান বা আইনে যাহাই থাকুক না কেন তারাওতো প্রধানমন্ত্রীর মন মেজাজের প্রতি তাকিয়ে থাকেন। নতুবা এ অভাগা দেশে আইনের শাসনের এ করুন পরিনতি কেন?
লেখক
আইন সস্পাদক কেন্দ্রীয় বি.এন.পি